সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতি পূরণে চরম বৈষম্য ॥ এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ

লৌহজং(মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা: চরম অসন্তোস ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে ফুঁসে উঠছে মাওয়া পদ্মা সেতু এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে এখন চরম হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। লৌহজংয়ের মাওয়া পুরাতন ফেরি ঘাটের কাছে পুলিশ ফাঁড়ির পিছনে বালুর মাঠ এলাকার দুই শতাধিক পরিবার ৭ ধারা নোটিশ পেয়েছে তাদের বসত ভিটা আর ঘর দুয়ারের ক্ষতি পূরন পেয়ে ছেড়ে দেয়ার জন্য। আর এই ক্ষতি পূরনের টাকা নিয়ে যত কারসাজি আর অনিয়ম। এই নোটিশে কারো পোয়া বারো আবার কারো সর্বনাশ।  কারন টাকার অংক আর ঘরের মধ্যে বিস্তার তফাৎ আর বৈষম্য রয়েছে। যারা জরিপের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে খুশি করতে পেরেছেন তাদের ঘর আকারে ছোট হলেও তাদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে বেশি টাকা। আবার যারা কর্মকর্তাদের মন জয় করতে পারেনি তাদের ঘর আকারে বড় হলেও তাদের জন্য টাকার পরিমান কম। এই নিয়ে ওই এলাকার লোকজনের মধ্যে চরম অসোন্তস আর ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় ফুঁসে উছতে পারে এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ লোকজন। তবে অধিগ্রহনের ক্ষতি পূরণের বৈষম্যের শিকার ইলিয়াছ মিয়া জানান,  এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র গরীব শতাধিক পরিবার এই ক্ষতি পূরনের টাকার বৈষম্যর বিষয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মান প্রকল্প পরিচালকের বরাবর আবেদন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পদ্মা সেতুর নদী শাসনের জন্য মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের মাওয়া পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় ২০১৭ সালের গোড়ার দিকে ভূমি অধিগ্রহনের জন্য জরিপ শুরু হয়। সেই সময়ে মমিন আলী নামে পদ্মা সেতুর একজন সার্ভেয়ার স্থানীয় ক্ষতি গ্রস্থদের অবকাঠমোর জরিপ কাজ করে। ওই সময় জরিপ নিয়ে তার বিরুদ্বে অভিযোগ উঠে সে টাকার বিনীময়ে কিছু স্থানীয় লোকদের রাতের আধারে ঘর তৈরীর সুযোগ করে দেয়। এতে এক শ্রেনীর অসাধু লোকজন ঘর তোলে অধিক টাকা পাওয়ার আশায়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ১৫ মে জেলা এলএ শাখা থেকে পাঠানো হয় একটি ৭ ধারা নোর্টিশ ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতি পূরনের টাকা নেয়ার জন্য। তবে ৭ ধারা নের্টিশে দেয়া ক্ষতি পূরনের টাকায় ব্যাপক বৈষম্য আর তারতম্য রয়েছে, ব্যক্তি বিশেষের অবকাঠামোর সাথে। এই নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে এখন চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেকে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন টাকা দিলেও তাদের কাজ হয়নি। লৌহজং উপজেলার মেদিনীমন্ডল ইউনিয়নের দক্ষিন মেদিনীমন্ডল গ্রামের সাইফুল ইসলাম জানান, তার ৩ টি চৌচালা টিনের ১৫ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট প্রস্তের ঘর একটি টয়লেট এবং রান্না ঘর বাবদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য নোর্টিশ পেয়েছেন। তার অভিযোগ পাশের বাড়ির লতিব খার দুটি টিনের ঘর যা  আমার চেয়ে ছোট সে পেয়েছে ৯ লাখ টাকা এবং রফিকুল ইসলামের ছোট ঘরে সে পেয়েছে ১৩ লাখ টাকা। অপর দিকে মো. জাকির হোসেনের ২২ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট প্রস্তের দোতলা ঘর এবং সেই সাথে রয়েছে  ১২/৯ ফুটের বারান্দা সে পেয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা । অথচ তার পাশের বাড়ির খোকন বেপারী পেয়েছে ১০ লাখ টাকা। এমনি ভাবে  ফরহাদ মোল্লা, শাহিনুর বেগম, সুমন মিয়া ও সাথী বেগমের একই অভিযোগ। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগ আমরাও পেয়েছি। তিনি জানান, অবকাঠামোর মূল্যটা নির্ধারন করে পিডব্লিউডি। তারা মূল্য নির্ধারন করে যে ভাবে দিয়েছে সে ভাবেই টাকা প্রদান করা হচ্ছে। তবে যারা অভিযোগ করেছে আমরা এ বিষয়ে শুনানি নিবো। তবে অভিযোগ কারিদের দাবি যারা ক্ষতি গ্রস্থ্য হয়েছে তাদের সঠিক ভাবে তদন্ত করে তাদের ন্যায্য পাওনা টাকা বুঝিয়ে দেয়া হউক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ