বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সরকারি প্রতিষ্ঠানের খামখেয়ালিপনায় রাজধানীতে পানিবদ্ধতা

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর পানিবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও সুফল মিলছে না। এর মূল কারণ হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর খামখেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশান (ডুরা) আয়োজিত ‘রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারি উদ্যোগ ও নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ মন্তব্য করেন। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আকতার মাহমুদ। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসি সচিব দুলাল কৃষ্ণ সাহা, গৃহায়ন ও গণপূর্তের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান মুন্সি, ঢাকা ওয়াসা পরিচালক শহীদ উদ্দিন, ড্যাপ পরিচালক আশরাফুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বায়ক জোনায়েদ সাকি, পবা চেয়ারম্যান আবু নাছের খান, বিআইডাব্লিউটিএ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমদ, ডিএসসিসি কাউন্সিলর ও ঢাকা ওয়াসা বোর্ড সদস্য হাসিবুর রহমান মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল প্রমুখ। সেমিনারে বলা হয়, নগরীতে প্রতিবছর জুন-সেপ্টেম্বরে গড়ে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। কিন্তু মাত্র ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এর বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করা হয়। এগুলো হচ্ছে- রাজউকের বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা এবং ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান সময় মতো বাস্তবায়ন করতে না পারা, ভূ-উপরিস্থ ড্রেন পরিষ্কার না থাকা, ড্রেনেজ চ্যানেল ডি-লিঙ্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা, শক্ত নগর পরিসর ও রান-অফ ওয়াটার না থাকা, খাল ও পুকুর ভারাট হয়ে যাওয়া। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়া হয়। এগুলো হচ্ছে- জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রণীত মাস্টার প্ল্যানের পূর্ণ বাস্তবায়ন। লেক সংরক্ষণ ও পরিকল্পনা অনুযায়ী বারিপাত ধারণ করা। সকল বক্স-কালভার্ট ভেঙে উন্মুক্ত করা। সকল খাল, স্টর্ম ড্রেন ও বক্স কালভার্ট পরিষ্কারের ব্যবস্থা রাখা। পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আলাদাভাবে ব্যবস্থাপনা করা। সিএস বা আরএস ম্যাপ অনুযায়ী সব দখল উচ্ছেদ করা। খাল সংরক্ষণ করে সব ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা। দুই পাড় বাঁধায় করে স্থানীয় জনসাধারণের পায়ে হাঁটার রাস্তা করা। যেখানে খাল প্রশস্তকরণ সম্ভব নয়, সেখানে রিটেইনিং ওয়াল করে হাঁটার পথ তৈরি করা। স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ১৯৮৮ সালের বন্যার পর বাঁধ দিয়ে ঢাকাকে গামলা তৈরি করা হলো। এখন পাম্পিং করে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। রাস্তা থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত পানি জমে। মাত্র ৩৫ মিলিমিটারের পানি হযম করতে পারে না। প্রয়োজনে জমি অধিগ্রহণ করে খাল- ড্রেন নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে। খালকে আগের চিত্রে ফিরে আনতে হবে। শুধু পাম্প দিয়ে পানি সেচে  জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ১৬ জুন জলাবন্ধতা নিরসনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেমিনারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটিকে কেন আজো কার্যকর করা হলো না তার বিচার হওয়া উচিৎ। জোনায়েদ সাকি বলেন, ওয়াসার এমডির ক্ষমতার খুঁটি কোথায়? নিশ্চয় সরকার। তাহলে কেন জলাবদ্ধতা কমছে না। দেশে বড় বড় বিল্ডিং হবে, ফ্লাইওভার হবে, কিন্তু যানজট, জলাবদ্ধতা কমবে না। জনগণ সুফল পাবে না। একে উন্নয়ন বলা যাবে না। ড্যাপ পরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের রাস্তার লেভেল এক না হওয়ায় নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা কমে আসবে। আর যারা খাল, পুকুর ও নদী দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মামলা হয়েছে।
ঢাকা ওয়াসা পরিচালক শহীদ উদ্দিন বলেন, ২০১১ সাল থেকে আমরা ড্রেনেজ ব্যবস্থাকে এক হাতে নেয়ার জন্য বলে আসছি। একাধিক সংস্থা কাজ করায় একটু সমস্যা হচ্ছে। আর বৃষ্টির পর পানি নিষ্কাশনের যে লাইন আছে তাকে সেই লাইন দিয়ে তার গন্তব্যে পৌঁছতে যে সময় লাগে শুধু সেই সময়ই জলাবদ্ধতা থাকে। এটা দীর্ঘক্ষণ নয়।
পবা চেয়ারম্যান আবু নাছের খান বলেন, আমরা যারা পরিবেশবাদী বা পরিকল্পনাবিদ দাবি করছি তারাই বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে সড়কের অবস্থা খারাপ করে ফেলছি। কোনো উন্নয়ন কাজে জনগণের সম্পৃক্ততা নেই। এসব কারণেই জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
বিআইডাব্লিউটিএ’র সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমদ বলেন, ঢাকা থেকে পানি অপসারণের পথ পরিষ্কার রাখতে হবে। সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তবেই জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ