বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কের বেহাল দশা ॥ জনদুর্ভোগ চরমে

কুমিল্লার লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কের বেহালদশা। ছবিটি ওই সড়কের নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া ইউপির মুন্সির কলমিয়া থেকে উঠানো

কেফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, (কুমিল্লা দক্ষিণ): ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংযোগ সড়ক লাকসাম-চৌদ্দগ্রাম সড়কের খানাখন্দে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটির বেহাল দশায় তিন উপজেলার লাখা মানুষের জনদুর্ভোগ চরমে। এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য পণ্য ও যাত্রিবাহী পরিবহণ চলাচল করে। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট থাকলে বিকল্প সড়ক হিসেবে এই রাস্তা দিয়েই ওই মহা সড়কের অধিকাংশ গাড়ি চলাচল করে। ব্যস্থতম এ সড়কের বেশীর ভাগেই খানাখন্দ সৃৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতের ফলে এসব খানাখন্দ ভয়ংকর আকার ধারন করেছে। বিভিন্ন লরি ও ট্রাকসহ ভারী যানবাহন নিয়মিত চলাচল করায় এসব গর্তগুলো ছোট থেকে আরও বড় হচ্ছে। এছাড়া খানা-খন্দগুলোতে মাঝে মধ্যে ইটের টুকরো ফেলায় তা গর্ত বন্ধের পরিবর্তে বৃষ্টির পানিতে মিশে কাদার সৃষ্টি করছে। সড়কটির বেশীর খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়া অংশ হলো বাঙ্গড্ডা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার র্পযন্ত। বলা চলে এ অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন যানবাহন ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কে আটকে থাকছে। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কের কোন সংস্কারমূলক কাজ হচ্ছে না। এতে সড়কের লাকসাম উপজেলার নরপাটি জামতলা থেকে ফুলগাঁ বাজার পর্যন্ত, নাঙ্গলকোট উপাজেলার উত্তর শাকতলী রাস্তার মাথা, মুন্সির কলমিয়া, কাকৈরতলা, কাদবা, নিমুড়ি, বাঙ্গড্ডা বাজার হয়ে পরিকোট পর্যন্ত এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ছাতিয়ানী ও চাঁন্দিশ করা নামক স্থানে শত-শত খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে ভয়ংকর আকার ধারন করেছে। খানাখন্দের ফলে সড়কটি এখন যানবাহন ও মানুষ চলাচলের প্রায় অনুপযোগি হয়ে পড়েছে।
 এ সড়কের নারপাটি বাজার, মুন্সির কলমিয়া, বাঙ্গড্ডা বাজারও ছাতিয়ানি নামক স্থানে ভায়াবহ আকার ধারণ করেছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কটির খানাখন্দে পানি জমে একাকার হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির মৌসুমে হাটু সমান পানিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বেহত হয়। পাশাপাশি পানির উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে সিএনজি চালিত অটো রিক্সা, ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, রিক্সাসহ ছোট গাড়িগুলো রাস্তায় দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। মাঝ পথে এসব পরিবহণগুলো বিকল হয়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রতিনিয়ত।
ভুক্তভূগীরা জানান, মাঝে মধ্যে সড়ক মেরামতের নামে কিছু ইট ভাঙ্গা রাস্তায় ফেললেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাছাড়া অনেক সময় সড়কে নিয়মিত চলাচল করা সিএনজি ড্রাইভাররা নিজ খরচেই এসব খানাখন্দে ইট-কংক্রিট দিয়ে সাময়িক ভাবে নিজেরা চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করে। সড়কের অনেক স্থানে স্থানীয়রাও উদ্যোগ নিয়ে ইট-কংক্রিট ফেলে কোন রকম চলাচল করছে। এসব ইট-কংক্রিত গুলো কয়েকদিনের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে মিশে সড়ক কাদাযুক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে আরো খারপ রূপ ধারন করে।
বাঙ্গড্ডা বাজারের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী কাদবা গ্রামের অলি উল্লাহ বলেন, বাঙ্গড্ডা বাজারের পশ্চিম পাশে সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে যানবাহনের কথা বাদই দিলাম মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে মুন্সির কলমিয়া গ্রামের মো: বাহার জানান, আমাদের বাড়ীর পাশে এ সড়কটিতে বছরের পর বছর জুড়ে বেহাল অবস্থায় পড়ে  আছে সড়কটি দেখার যেন কেউ নেই।
জরুরী ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির ভাঙ্গা অংশগুলোর সংস্কার কাজ না করলে জনদুর্ভোগ আরো চরমে পৌঁছবে। সড়কটি মেরামতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন লাকসাম, নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভূক্তভুগীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ