সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বদলে দেবে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান

বাঁশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন করছেন জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াছ হোসেনসহ কর্মকর্তাবৃন্দ

মোঃ আবদুল জব্বার, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলা গন্ডামারা এলাকায় বহুল আলোচিত বাংলাদেশের বেসরকারী পর্যায়ের সর্ব বৃহৎ ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে যে ভূল বুঝাবুঝি ছিল তা এখন আর নেই। স্থানীয় মানুষজন বুঝতে সক্ষম হয়েছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলে তাদের জীবন মান অনেক উন্নত হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ফেলে এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে, নতুন নতুন কর্ম সংস্থান সৃষ্টি হবে। স্থানীয় নাগরিকরা নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা পাবেন। এ কারণে স্থানীয়রা এখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক সেটাই চাইছেন।
গত কয়েকদিন গন্ডামারা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের এই মনোভাব সম্পর্কে জানাগেছে। এ দিকে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াছ হোসেন। তার কাছেও এলাকাবাসী বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়েছেন। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, এ প্রকল্প কোন ব্যক্তির নয়, এটি একটি চিন বাংলাদেশ সরকারের যৌথ প্রজেক্ট। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালী সহ পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের উপকার হবে। এ প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতরকম সহযোগিতা প্রয়োজন তা বাস্তবায়ন করা হবে। তাই প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক সবার একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন।  তিনি গন্ডামারা বড়ঘোনা এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করায় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হলে এলাকার মানুষের সবার জীবনের পরিবর্তন আসবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে কেন্দ্র স্কুল,কলেজ,হাসপাতাল হবে। বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আর এই কাজগুলো করবেন অত্র এলাকার সাধারণ মানুষেরা। এই প্রকল্পের কারণে এলাকায় কেউ বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পুরো এলাকার পরিবর্তন হয়ে যাবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বাঁশখালীতে ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম হবে জানিয়ে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক আরোও বলেন, এ এলাকায় তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। এখনো এ এলাকার মানুষ মাছ ধরছেন, আর কৃষি কাজ করছেন, একটি স্কুল হয়নি, কলেজ হয়নি, কোন হাসপাতাল নেই, অথচ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এখানকার চেহারা পাল্টে যাবে। গন্ডামারা তথা বাঁশখালীবাসীর জীবনের পরিবর্তনের জন্যই এ প্রকল্প। প্রকল্পটি বেসরকারী পর্যায়ে হলে চীন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ সম্পদ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুমিনুর রশিদ ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা নাজিমুল আলম, আসিফ, মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুল হক, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মোল্লা, বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন হীরা, সহকারী কমিশনার ভূমি আরিফুল হক মৃদুল। এস,এস পাওয়ার প্লান্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী এডভোকেট হুমায়ন কবির প্রকল্পের দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর পেটি অফিসার জহিরুল ইসলাম, এমসিপিও মোখলেছুর রহমান, ভূমি কর্মকর্তা চন্দন দাশ, গন্ডামারা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান আলী হায়দার চৌধুরী আসিফ সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এস,এস পাওয়ার প্লান্টের প্রকল্প সমন্বয়কারী এডভোকেট হুমায়ন কবির তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের বেসরকারী সর্ববৃহৎ এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ খাতে জাতীয় গ্রেডে এ প্রকল্পের উৎপাদিত বিদ্যুৎ যোগ হবে। তাতে সারা দেশের মানুষ উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রায় ৯৮% জায়গার কাজ ইতিপূর্বে সমাপ্তি পথে। খুব শীগ্রই বাকী কাজ সম্পূর্ণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ