শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

গত দেড় মাসেও সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া কয়লা বোঝাই জাহাজ উদ্ধার হয়নি

 

খুলনা অফিস : গত দেড় মাসেও সুন্দরবনে পশুর নদের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবে যাওয়া কয়লাবাহি লাইটার জাহাজ এমভি বিলাসকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জাহাজটির ভেতরে পলি জমে বড় স্তর তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় জাহাজটির ভেতর থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রেখে সনাতন পদ্ধতিতে জাহাজটিকে টেনে তোলার জন্য প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পণ্যের রাসায়নিক পদার্থে দুষিত হচ্ছে নদীর পানি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ জীববৈচিত্র্য। পানির মাধ্যমে দূষণ ছড়িয়ে পড়ছে বনের মাটিতেও।

ডুবে যাওয়া জাহাজটির মালিক পক্ষের প্রতিনিধি বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মো. বাহারুল ইসলাম বাহার বলেন, আধুনিক জলযানের অভাব, নদীর ¯্রােত আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়লার জাহাজটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জাহাজটি নদীর তলদেশে আরও দেবে যাচ্ছে। প্রচুর পলি পড়ায় এখন আর কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এর আগে ডুবন্ত জাহাজ থেকে কিছু কয়লা পাম্পের মাধ্যমে উত্তোলন করে একটি বাল্কহেডে করে যশোরের নওয়াপাড়ায় নিয়ে গেছে আমদানিকারকরা। তিনি আরও জানান, যদি খুলনায় বিআইডব্লিউটিএ অথবা মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বড় ধরনের উদ্ধারকারী কোনো জলযান থাকতো তাহলে এত দেরি হত না। বর্তমানে জাহাজটিকে দু’পাশে দুটি টাগ বোট দিয়ে টেনে তোলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। এ লক্ষ্যে সরঞ্জামাদি আনা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জাহাজটি উদ্ধার করা সম্ভব না হলে এটি উদ্ধারের আশা ছেড়ে দিতে হবে বলে এ শ্রমিক নেতা জানিয়েছেন। মংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং ব্যবসায়ী শেখ বদিউজ্জামান টিটু বলেন, মংলা বন্দরে দেশী-বিদেশী জাহাজের আগমন বেড়েছে। সে কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে গেছে। কিন্তু খুলনায় বিআইডব্লিউটিএ অথবা মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্ধারকারী বড় ধরনের কোনো জলযান নেই। প্রয়োজন হলে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ নিয়ে আসা হয়। এখানে উদ্ধারকারী জাহাজ থাকা জরুরি।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, শেলা নদী দিয়ে এখন আর পণ্যবাহি জাহাজ চলাচল করে না। তবে মংলা বন্দরের কারণে পশুর নদ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করে। সে কারণে এটি বন্ধ করার সুযোগ নেই। এখন প্রয়োজন জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন। তিনি বলেন, জাহাজডুবির কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হয়। তবে জোয়ার-ভাটার কারণে ক্ষতির মাত্রা ভয়াবহ হয় না।

উল্লেখ্য, গত ১৪ এপ্রিল রাতে সুন্দরবনের মধ্যে পশুর নদের হারবাড়িয়া এলাকায় ডুবোচরে ধাক্কা লেগে লাইটার জাহাজ এমভি বিলাস ডুবে যায়। জাহাজটিতে ৭৭৫ টন কয়লা ছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ