শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ই বাংলাদেশের লক্ষ্য-রিয়াদ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী মাসে (জুনে) তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলবে দুই দল। প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল ২৯ মে ভারতের দেরাদুনে উড়াল দিবে টিম বাংলাদেশ। ৩, ৫ ও ৭ জুন ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজে বাংলাদেশের লক্ষ্য সিরিজ জয়।  সিরিজ জয় বাদে কিছুই চিন্তা করছে না বাংলাদেশ দল। এমনটাই জানালেন বাংরাদেশ ক্রিকেট দলের সহকারী অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দেশে না থাকায় সহকারী হিসেবে গতকাল রোববার সিরিজপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সিরিজ নিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই সিরিজ জেতা। এটাই আমাদের ওয়ান এন্ড অনলি টার্গেট।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছে ২০১৪ সালে। ওই ম্যাচে হেসেখেলেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ থেকে অনেক এগিয়ে গেছে আফগানিস্তান। র‌্যাংকিংয়েও দুই দলের ব্যবধান স্পষ্ট করছে। টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান আটে। আর বাংলাদেশ দশে। দুই দলের রেটিং পয়েন্টের পার্থক্য ১২। বাংলাদেশের ৭৫, আফগানিস্তানের ৮৭। বাংলাদেশ তিন ম্যাচের তিনটিতে জিতলে র‌্যাংকিংংয়ে আফগানিস্তানকে পিছনে ফেলা সম্ভব হবে। নিদাহাস ট্রফির দারুণ পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ দল আগের থেকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। তবে শ্রীলংকার সাফল্য ভুলে নতুন চ্যালেঞ্জে মনোযোগ দিবে বাংলাদেশের। রিয়াদ বলেন,‘নিদাহাস ট্রফির চিন্তাও করছি না। ওই পার্ট চলে গেছে। এটা নিয়ে আমি চিন্তাও করছি না। এই সিরিজটি অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। খুব একটা সহজ হবে না। আমাদের খুব ভালো ক্রিকেট খেলেই সিরিজটা জিততে হবে। তাই প্রতিটি  খেলোয়াড়কে অনুপ্রেরণা দিচ্ছি এবং চেষ্টা করছি সবাই মিলে কিভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি।’ এই সিরিজে নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখলেও প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানকে সমীহ করছেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেন,‘নতুন দলগুলোর মধ্যে সবার চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। তার খুব ভালো করছে।  ক্রিকেটের জন্য নতুন দলের উন্নতি ভালো লক্ষণ। আমাদের জন্য এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জের। আমাদের রেপুটেশন ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। আশা করি ভালো ক্রিকেট খেলে, আমরা সিরিজ জিতে আসতে পারব।’ তবে আফগানিস্তান সিরিজে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন রিয়াদ। রিয়াদের মতে, দুই দলের শক্তির জায়গা দুই রকম। দুই দলের তুলনামূলক বিচারে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং অনেক বেশি শক্তিশালী। বোলাররাও পিছিয়ে নেই। তবে আফগানিস্তানের বোলিং বেশি ধারালো। তাইতো দুই দলের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ বেশ প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করছেন মাহমুদউল্লাহ। দুই দলের শক্তির জায়গা তুলনা করে রিয়াদ বলেন, ‘দুই দলের শক্তির জায়গা দুই রকম। আমাদের ব্যাটিং শক্তি একরকম। অবশ্যই আমাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং অভিজ্ঞতা ওদের চেয়ে এগিয়ে। ওদের টি-টোয়েন্টি পারফরম্যান্স খুব ভালো। বোলিং খুবই ভালো। তারকা ক্রিকেটারও আছে। দুইটা দলের শক্তির জায়গা দুই রকম। যদি পেস আক্রমণ দেখেন, ওদের চেয়ে আমাদের পেস আক্রমণ বেশি সমৃদ্ধ। রুবেল, মোস্তাফিজ অনেক দিন ধরে ক্রিকেট খেলছে। তারা জানে কীভাবে চাপ নিতে হয়। এ ছাড়া তরুণদের মধ্যে রনি, রাহী খুব ভালো বোলার।  যদি স্পিনের কথা বলেন, সাকিব বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার, বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সেরা। অপু ভালো করছে। ওদের স্পিন যদি দেখেন, রশিদ আছে, মুজিব আছে। যেটা আগে বললাম, খুব ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে।  এর বাইরে সহজ কোনো অপশন নেই।’ আফগান সিরিজের জন্য প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোর্টনি ওয়ালশকে। সিরিজে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকবে না কোনো ব্যাটিং কোচ। ব্যাটিং কোচ না থাকায় নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার কথা বললেন রিয়াদ, ‘ব্যাটিং কোচ না থাকায় দায়িত্ব বেড়েছে নিজেদের ওপর। আমরা মনে করি, এটা আমাদের জন্য আরো বড় একটি সুযোগ। কতটুকু নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব নিয়ে সামনে এগোতে পারি। তবে ওয়ালশ আছেন, সুজন ভাই আছেন। আমি গত পড়শু যখন নেটে ব্যাটিং করছিলাম, অনেক বেশি তাড়াহুড়ো করছিলাম। তখন ওয়ালশ এসে আমাকে পরামর্শ দিল, তুমি তোমার টাইমিংটার ওপর আরো একটু বিশ্বাস রাখো। ছোট খাটো এমন উপদেশ ও দিচ্ছে। ওটা আমার কাজেও লেগেছিল। সবাই সাহায্য করছে। এখন এটা আমাদের দায়িত্ব, এই দায়িত্ব নিয়ে আমরা যেন সেরা পারফরম্যান্সটা করতে পারি।’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি- টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশ দলের প্রধান সমস্যার কারণ হতে পারেন তরুণ লেগস্পিনার রশিদ খান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা এই স্পিনারকে সামলাতে সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর কথা জানিয়েছেন রিয়াদ। রশিদকে সামলানোর ক্ষেত্রে সাকিবের ভূমিকা কেমন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে রিয়াদ বলেন, ‘সাকিব নেটে রশিদকে খেলছে, খুব কাছ থেকে রশিদের বলও দেখছে। ওর (সাকিব) কাছ  থেকে আমরা কার্যকরী পরামর্শ পেতে পারি। ওর সাথে কথা বললে ওর নিজের চিন্তাটা সম্পর্কেও আমরা জানতে পারবো। রশিদের ব্যাপারে সাকিবের কাছ থেকে অবশ্যই ছোটখাটো বিষয়গুলো নেওয়ার চেষ্টা করবো। আমার মনে হয় ওই তথ্যগুলো আমাদের অনেক সাহায্য করবে দল হিসেবে।’ রশিদের বোলিং নিয়ে  রিয়াদ বলেন, ‘অবশ্যই রশিদ ভালো বোলার। ভালো ক্রিকেট খেলছে  সে। আমাদেরও সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে হবে। জিনিসগুলো অনেক বেশি স্বাভাবিক রাখা দরকার। আমরা নিজেরা কি করতে পারি, ওটার দিকে যদি আমরা বেশি ফোকাস রাখতে পারি, তাহলে আমাদের জন্যই ভালো হবে।’ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের চেয়েও এগিয়ে আফগান। তবে ইতিহাস বিবেচনায় আফগানদের চেয়ে সমৃদ্ধ ইতিহাস বাংলাদেশেরই। তাই নিজেদের সম্মান এবং মর্যাদা অটুট রাখতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের বিকল্প  নেই বলে মন্তব্য করেন রিয়াদ। রিয়াদ বলেন, ‘আপনি যদি নতুন দলগুলোর দিকে তাকান, সেক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। তার খুব ভালো করছে। ক্রিকেটের জন্য নতুন দলের উন্নতি ভালো লক্ষন। আমাদের জন্য এটা অন্যরকম চ্যালেঞ্জের। আমাদের রেপুটেশন ধরে রাখতে জয়ের বিকল্প নেই। আশা করি ভালো ক্রিকেট খেলে, আমরা সিরিজ জিতে আসতে পারবো। সিরিজ জেতাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’ আফগানদের দুই স্পিনার রশিদ খান এবং মুজিব উর রহমানের জন্য আলাদা ভাবে প্রস্তুতি নিতেই হচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। অনুশীলনে এই দুই স্পিনারকে সামলানোর নানান পথ খোঁজার চেষ্টা করেন রিয়াদ-মুশফিকরা। কেননা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ বিশ্বের সেরা বোলার। তাকে সমীহ না করে উপায় নেই।

 এ নিয়ে রিয়াদ বলেন, ‘যখন আমরা অনুশীলন করি কিংবা নেটে ব্যাটিং করে আসি, তখন আমার সঙ্গে মুশফিক কিংবা তামিম-সাব্বির সহ যারাই আছে, আমরা যখন বসে থাকি, তখন বিষয়টা নিয়ে কথা বলি। আলোচনা করি রশিদকে নিয়ে। কারন আমরা সবাই জানি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে রশিদ বিশ্বের সেরা বোলার। অবশ্যই তাকে সমীহ করতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের শক্তির জায়গাটা বোঝা দরকার, আমরা কে কিভাবে ক্রিকেট খেলি। প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গার ব্যাপারেও ধারনা থাকা উচিত। সবকিছু বিবেচনা করে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়ে যার যার শক্তি অনুযায়ী আমাদের ক্রিকেট খেলতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ