বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কালাইয়ে বন্ধ হয়ে গেছে ৪টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়

কালাই (জয়পুরহাট) থেকে মুনছুর রহমান : জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে শিক্ষা প্রসারের লক্ষ্যে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা নিজ উদ্যোগে লক্ষ্য লক্ষ্য টাকা ব্যায় করে প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপন করে এখন বিনা বেতনে প্রায় দেড়-যুগ সময় থেকে চাকুরী করার পরেও এম পি ও ভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) না হওয়ায় বর্তমান বন্ধ হয়ে গেল উপজেলার ৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ওই সব প্রতিষ্ঠানগুলো শুরুতেই সরকারের পক্ষ থেকে যে সকল শর্ত আরোপ করা হয়েছিল তার অধিকাংশই মেনে নেওয়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে শিক্ষাবোর্ড থেকে প্রথম পর্যায়ে তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠদানের অনুমতি পায়। আর সেই থেকে তারা শুরু করে সকল শিক্ষা কার্যক্রম। পরে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা,ফলাফল, অবকাঠামোসহ নানা ধরনের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে একাডেমিক স্বীকৃতি দিয়েছেন শিক্ষাবোর্ড। তবে ওই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা প্রায় দেড়-যুগ আগে সংশ্লি¬ষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির নিকট থেকে নিয়োগ পেয়ে নিয়মিত পাঠদানসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম পরিচালানার করার পর অবশেষে তারা শিক্ষকতার মতো মহান পেশা ছেড়ে দিয়ে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় যোগ দিয়েছেন। আবার অনেকেই বাড়ীতে বসে সময় পার করছেন। ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা প্রায় দেড়-যুগ সময় থেকে বেতন-ভাতা না পেয়ে বর্তমানে তারা মাসের পর মাস মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালাই উপজেলার শিব-সমুদ্র নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাত্রাই নি¤œ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, চেচুরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং গঙ্গাদাসপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রায় দেড়-যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয়। এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ জন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে ওই সব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিরা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওই সব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ের নামে জেএসসি পরীক্ষায়  অংশগ্রহন করে নিয়মিত ভাল ফলাফলের মাধ্যমে এলাকায় বেশ সুনাম অর্জনও করেছে। ওইসব বিদ্যালয় প্রায় দেড়-যুগ ধরে বিনা বেতনে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী পদে চাকরি করে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তাদের মহান পেশা ছেড়ে দিয়ে বর্তমান বিভিন্ন পেশায় নিজেকে জড়িয়েছেন। আবার অনেক শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বয়স প্রায় শেষের দিকে। এ অবস্থায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ওই ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা থেকে শুরু করে সরকারি সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে করে ওই সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনুপস্থিতি কারণে শিক্ষার্থীরাও যাতায়াত ছেড়ে দিয়েছে। ফলে গত চার বছর থেকে ওই ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রী জেএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেনি। বর্তমানে উপজেলার ওই ৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম এখন বন্ধ রয়েছে।  
উপজেলার চেচুরিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আমিনুল ইসলাম মিলন বলেন, গত ২০০১ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পাঠদানের অনুমতি পায় এবং গত ২০০৫ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা, ফলাফল, অবকাঠামোসহ নানা ধরনের কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে একাডেমিক স্বীকৃতি দিয়েছেন শিক্ষাবোর্ড। জেএসসি পরীক্ষায় আমার বিদ্যালয়টি একের পর এক শতভাগ পাশের রেকর্ড গড়লেও প্রায় দেড়-যুগেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমপিও ভুক্তি মেলেনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষক, শিক্ষিকা ও কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে চাকুরী করে মাস শেষে আমাদেরকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষিকারা প্রায় তিনবছর থেকে বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছেন। শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়ে বর্তমান তারা বিভিন্ন পেশায় জড়িয়েছেন। বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  এইসব বিষয়ে কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী মো.মনোয়ারুল হাসান বলেন, আমরা সব সময় চাই ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও ভুক্ত হোক। এতদিন এমপিও ভূক্তির না হওয়ার কারণ হলো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিও ভূক্তির জন্য যেসকল নীতিমালা থাকার প্রয়োজন হয়। সেসকল নীতিমালা না থাকার কারনেই ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিও ভূক্ত হয়নি। তাছাড়া জাতীয় শিক্ষা জরিপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা কোন অংশ গ্রহন করেনা। আর চার বছর ধরে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী জেএসসি এবং পাবলিক পরিক্ষায় অংশগ্রহণ না করে এবং ওই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অনুপস্থিতি থাকে তাহলে ওই সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। কাউকে বন্ধ করে দিতে হয় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ