শনিবার ১৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে শিক্ষা সংস্কৃতির ভূমিকা

খনরঞ্জন রায় : সকল ভেদাভেদ ভুলে জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে অচেনা আপনজনের জন্য অশ্রুপাত করে হোলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। পয়লা জুলাই ২০১৬ রাত নয়টার দিকে প্রথম খবর আসে গুলশানে বিদেশিদের প্রিয় হোলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। কিছুদিন আগে থেকেই দেশের নানা জায়গায় সহিংস উগ্রপন্থী জঙ্গিদের একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটতে থাকায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে।
বেকারিতে ভেতরে যাঁরা আটকা পড়েছিলেন, তাঁদের পরিজন-নিকটাত্মীয়দের কাছেও ফেসবুক-টুইটারের কল্যাণে সেই সব খবর পৌঁছে যায়। তাঁরা রাতভর প্রায় পাগলের মতো ছোটাছুটি করেছেন, জানতে চেয়েছেন কী হচ্ছে ভেতরে। হোলি আর্টিজনের ভেতরে আটকে পড়া এক মেয়ের বাবা-মা পুলিশের মহাপরিদর্শকের গাড়ির গতি রোধ করে তাঁদের মেয়ে তারিশি জৈনের কথা জানতে চেয়েছিলেন এবং তারিশিকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে। রাতভর জিম্মি নাটক ও নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চলার পর সেনা কমান্ডোরা সেখানে অভিযান চালান সকাল আটটার কিছু আগে। সেখানে রাতভর কী ঘটেছিল, আমরা তার নানা খন্ডচিত্র বিভিন্ন সূত্র থেকে পেতে থাকি। কিন্তু সেই বিভীষিকার পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো জানা যায়নি।
হোলি অর্টিজানে জঙ্গিদের হামলাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে। একসঙ্গে এতজন বিদেশী নাগরিককে হত্যার ঘটনা এ দেশে এর আগে আর কখনোই ঘটেনি। হামলাকারীদের প্রচারিত বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের উদ্দেশ্যে ছিল শুধু অমুসলিমদের হত্যা করা। এ রকম বিবৃতিও এই প্রথম। হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে হোলি আর্টিজান বেকারি বেছে নেয়ার মূল কারণ, সেখানে বিদেশীরাই বেশি যেতেন। এসব বিদেশীর মধ্য ছিলেন বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। আরও ছিলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা। খুব হিসাব-নিকাশ করেই হামলার লক্ষ্য বাছাই করা হয়েছিল, যাতে অর্থনীতিতে প্রভাবটা গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। জিম্মি হত্যার জন্য কুখ্যাত জঙ্গিগোষ্ঠি আইএসের তরফেও ঢাকার ঘটনাটিই ছিল প্রথম তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কোনো শহর, যেখানে তারা জিম্মি করে নৃশংতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব দাবি করেছে।
হামলায় ২০ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, অধিকাংশই বিদেশী নাগরিক। ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি,  বাংলাদেশি, ১ জন যুক্তরাষ্ট্রের এবং ১ জন ভারতীয় নাগরিক। তা ছাড়া, ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয় পুলিশের দুজন কর্মকর্তাকে। হামলাকারী ছিল সাতজন, তাদের মধ্যে ছয়জন সেনাবাহিনীর অভিযানে মারা যায়। পুলিশের ভাষ্যমতে একজনকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। আরও গ্রেপ্তার করা হয় ঘটনাস্থল থেকে বেঁচে যাওয়া দুজনকে, তাদের একজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক।
হোলি আর্টিজানে হামলার পর সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো জঙ্গিবাদের হুমকিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তা দমনে তৎপর হয়েছে। গত এক বছরে তাতে বেশ সফলতাও এসেছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের উদ্দীপনায় উজ্জীবিত হয়ে নবরূপে সংগঠিত নব্য জেএমবির (জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) প্রথম সারির সংগঠক ও নেতাদের অনেকেই পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছেন (বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা সত্তরের মতো)। গ্রেপ্তারের সংখ্যাও কম নয়। সন্ত্রাসের এই জঘন্য ঘটনার এক বছর পূর্তিতে দেশবাসী যখন প্রার্থনা ও শ্রদ্ধায় হোলি আর্টিজানে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে সেই মুহূর্তে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভায় ৭ নম্বর বামনপারা ওয়ার্ডে পুলিশ-র‌্যাব জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৪ জনকে আটক করে। জাতীয় পর্যায়ে আমাদের স্ট্রাটেজি বা কৌশল (কাউন্টার র‌্যাডিক্যালাইজেশন স্ট্রাটেজি) দেখতে পাচ্ছি না। ইতোমধ্যে অনেকে ওই পথে চলে গেছে। তাদের কী করব? এখন তাদেরকে জঙ্গিবাদ থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই কাজ শিগগিরই আমাদের হাতে নিতে হবে। যারা জঙ্গি তৎপরতা চালাতে গিয়ে আটক হয়ে কারাগারে গিয়েছে, তাদের অবস্থা কী, তা বোঝার জন্য একটি সমীক্ষা চালাতে হবে।
বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ এখন ছোবল মারছে এবং সন্ত্রাসীদের হামলা ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধা কিংবা ধর্মে-বর্ণে কোনো ভেদাভেদ নেই। নিউইয়র্কে টুইন টাওয়ারে হামলার শিকার যেমন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা ছিলেন, তেমনি ছিলেন বাংলাদেশীও। লন্ডনের টিউব হামলায়ও তা-ই। কিন্তু ঢাকার হামলায় বিদেশীদের প্রাণহানির পর পাশ্চাত্যের প্রতিক্রিয়ায় তাই অনেকেই কিছুটা বিস্মিত হন। ঢাকার রাস্তায় সাঁজোয়া যানের প্রহরা নিয়ে বিদেশী কূটনীতিকদের চলাচলের দৃশ্যে সেই প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে। ওই সব দেশের কূটনীতিকদের পরিবারের জন্য ঢাকা এখনো নিষিদ্ধ।
বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গত ৫ জানুয়ারি জারি করা দীর্ঘমেয়াদি সতর্ক বার্তা এখনো বহাল আছে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর ঝুঁকি বহাল আছে বলে হালনাগাদ বার্তাগুলোয় বলা হয়েছে। গত ১ জুন হালনাগাদ করা যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সন্ত্রাসীরা হামলা চালাতে পারে। এই হুমকি দেশজুড়েই আছে। গত মার্চ মাস থেকে জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তবে সরাসরি বিদেশীদের লক্ষ্য করেও হামলার ঝুঁকি আছে। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নাগরিকদের বিশেষ প্রয়োজন না হলে বাংলাদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে। অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণ সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি আছে। যদিও আমাদের দেশের সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদের ধরন এখনো তেমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেনি নানা কারণে। আমাদের জনগণ সন্ত্রাস সমর্থন করে না। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, সন্ত্রাসের সঙ্গে পরিবারের নারী ও শিশুদের যুক্ত হওয়ার প্রবণতা। একই সঙ্গে আত্মঘাতী হয়ে ওঠার প্রবণতা এবং আত্মঘাতী হামলার সরঞ্জামের উপস্থিতি। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীই নয়, সমগ্র সমাজ সচেতন না হলে এ প্রবণতা ঠেকানো সম্ভব নয়। আমাদের দেশে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, আফগানিস্তান এমনকি ফিলিপাইনের মতো পরিস্থিতিও নেই। তথাপি কমবেশি হলেও বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিভাজন কারণে সন্ত্রাসী ঝুঁকি থেকে দূরে নই। এসবের সমাধান এক দিনে বা এক মাসে সম্ভব নয়। এগুলো যেমন সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলে তেমনি এগুলোর সমাধানকল্পেও সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপের প্রয়োজন। মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছে, অস্থিরতা আরও বাড়ছে। ফলে ইউরোপে সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আইএসের কোণঠাসা হওয়ার পর থেকে। অন্যদিকে সৌদি আরব-কাতার পরিস্থিতি সমস্যাকে আরও জটিল করছে। হোলি আর্টিজনের পর থেকে অনেক দুর্গম পথ পাড়ি হয়েছে। সন্ত্রাস দমনের প্রথম ধাপ যথেষ্ট ফলপ্রসূ হয়েছে। এখন প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। বর্তমানে দৃশ্যত সন্ত্রাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। তবে একেবারেই আশঙ্কামুক্ত নই। অন্যদিকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে সরকারের একার কাজ নয়। এখানে যেমন রাষ্ট্রের অংশগ্রহণও থাকতে হবে। তেমনি সমাজের অংশগ্রহণও থাকতে হবে। বিশেষ করে নাগরিক সমাজের বড় ধরনের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। সন্ত্রাসীরা তো সমাজেরই মানুষ। তাই সমাজের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা যত দিন না হচ্ছে, তত দিন এটা বন্ধ করা যাবে না। এজন্য শিক্ষা ও সংস্কৃতি দুয়েরই বিকাশ দরকার। সংস্কৃতি বিযুক্ত শিক্ষা প্রকৃত শিক্ষা নয়। জঙ্গিবাদে না জড়াতে মুক্ত মন দরকার।  শিল্পকলা ও ক্রীড়া মানুষের মুক্ত মন তৈরি করে। আর কৈশোরে মানুষ স্বপ্ন দেখে। নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চায়। যেকোনো মহৎ কাজের জন্য আত্মোৎসর্গ করতে চায়। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, সমাজব্যবস্থায় মহত্তর কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। স্কাউটিং, রোটার‌্যাক্ট, ইন্টাব্যাক্ট, লিওসহ স্বেচ্ছাসেবি নানান সংগঠনে কাজ কারার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।
দেশে এখনো কিশোর বা তরুণদের সম্পৃক্ত করে কোনো সুনির্দিষ্ট গঠনমূলক কাজ চলছে না। হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলাকারী এক তরুণের মা পরামর্শ দিয়ে বলেছেন তরুণদের মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা বিকাশে সম্পৃক্ত উচিত। বেকারত্বের বিষয়টিও ভেবে দেখতে হবে। বেকারত্ব জীবনের বড় একটি অভিশাপ। বেকার তরুণরা প্রায়ই বিষণ্ণতায় ভোগেন। এই অভিশাপ একজন তরুণকে সহজেই বিপথে নিয়ে যায়। সহজেই করে ফেলে বিপথগামী।
শ্রমশক্তি জরিপ (২০১৫-১৬) দিকে তাকালে ব্যাপারটা আরো সামনে আসে। আমাদের দেশে এখন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ যুবক বেকার। যারা বসে আছে, শ্রম দিতে প্রস্তুত; কিন্তু পারছে না। দুঃখের বিষয় হলো, এই বেকারদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষিত। যারা উচ্চ শ্রেণি হতে ডিগ্রি নিয়ে বছরের পর বছর উপযুক্ত কাজের আশায় বসে আছে, কিন্তু সেটা পাচ্ছে না। উপরোক্ত জরিপে একটি মজার বিষয় উঠে এসেছে। তা হলো ডিপ্লোমা শিক্ষা গ্রহণ করে কোন তরুণ বেকার নেই। অথচ এ দেশে যে পরিমাণে ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজন সেই অনুপাতে নির্মাণ করা হয়নি। এজন্য তরুণদের অবশ্যই দায় দেয়া যায় না। এ দায় সরকারের। আর সরকারকেই এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বর্তমানে বেকারদের কর্মসংস্থান সহযোগিতা করে, বন্ধ করতে হবে ভবিষ্যতের বেকার তৈরির প্রক্রিয়া। ডিপ্লোমা শিক্ষাখাতে আনতে হবে আমূল পরিবর্তন। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে বেকার হওয়ার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে হবে। ডিপ্লোমা শিক্ষাগ্রহণ শেষে কর্মের অভিজ্ঞতা একজন শিক্ষার্থী শিক্ষা ব্যবস্থা থেকেই পায়। প্রতিবছর ১৪ লক্ষ তরুণ এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। তাঁদের বিকাশ ও দেশের দক্ষ জনশক্তি চাহিদা মেটাতে নতুন-নতুন বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স চালু করতে হবে। হাইস্কুলের পার্শ্বেই নির্মাণ করতে হবে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট। বিআইডিএস জরিপ বলছে আগামী পাঁচ বছরে প্রধান নয় খাতে ৬৫ লাখ দক্ষ শ্রমশক্তি প্রয়োজন হবে। কিন্তু সরকারের মাথা গরম কেবল প্রকৌশলখাত নিয়ে। বাকি আটটি অন্ধকারে।
ঔপনিবেশিক ধ্যান-ধারণার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা নামক ভ্রান্তনীতি পরিহার করতে হবে। আগামী ৫ বছরে প্রধান ৯টি খাতের ৬৫ লাখ প্রশিক্ষিত জনবল চাহিদা মাথায় রেখে প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামো উন্মোচন করতে হবে। তবেই শিক্ষিত তরুণরা অভিশাপ না হয়ে, রূপান্তরিত হবে সম্পদে। আর তখনই আমরা পৌঁছতে পারব উন্নত রাষ্ট্রের দরজায়। প্রশিক্ষিত তরুণরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করবে। বেকার ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ হিসাবে আভির্ভুত হবে আমাদের প্রিয় দেশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ