মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

জীবননগরে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু কাজে আসছে না

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা : চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর ও ঘোষনগর গ্রামের মাঝখানে ভৈরব নদের ওপর সাড়ে ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর দুপাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি জনসাধারণের কোনো কাজে আসছে না। দুই বছর আগে জনদুর্ভোগ লাঘবে ওই নদের ওপর একটি সেতু নির্মিত হয়। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সেতুর দুপাশের জমির মালিকরা তাদের জমি থেকে রাস্তা তৈরির জন্য মাটি কাটতে না দেয়ায় সংযোগ সড়ক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংযোগ সড়ক না থাকায় ওই দুই গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষের ভোগান্তির শেষ হয়নি। সবচেয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসা নিতে উপজেলা শহরে যাওয়া বিভিন্ন রোগী, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসাগামী শিক্ষার্থীদের। সংযোগসড়ক নির্মাণ না করায় সেতুটিতে আজ অবধি সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারেনি।
জীবননগর উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নের আলীপুর ও ঘোষনগর গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে ভৈরব নদের ওপরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬শ ৫৩ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট লম্বা সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে সেতুটি হস্তান্তর করে। এর পরই সেতুর দুপাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেতুটির দুপাশের জমির মালিকরা রাস্তা তৈরির জন্য তাদের জমি থেকে মাটি কাটতে না দেয়ায় ওই সময় সংযোগসড়ক তৈরি করা সম্ভব হয়নি। আলীপুর গ্রামের ষাটোর্ধ্ব কসিম উদ্দিন জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর থেকে এলাকাবাসী ভৈরব নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে এখানে একটি সেতু হলেও অপূর্ণ থেকে গেলো সংযোগ সড়কটি। সেতু নির্মাণ স¤পন্ন হলেও সংযোগ সড়কটির অভাবে দুর্ভোগের প্রহর যেনো বাড়ছে। দুর্ভোগ লাগবে অতি দ্রুত সংযোগ সড়কটি নির্মাণের দাবি তার।
ঘোষনগর গ্রামের আলি আকবার জানান, সেতুর দুপাশে রাস্তা না থাকার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। দুটি গ্রামের বসবাসকারীদের ৩-৪ কিলোমিটার রাস্তা অতিরিক্ত ঘুরে শহরে যেতে হয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, সেতু নির্মাণ শেষে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করার জন্য মাটি কাটতে গেলে সেতুর উত্তর পাশের জমির মালিকরা বাঁধা দেবার কারনে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে রাস্তা নির্মাণের ব্যাপারে জমির মালিকদের সাথে আলোচনা চলছে। মাটি ভরাটের জন্যে সেতুটি কর্মসৃজনের প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়েছে। আগামী এক দুমাসের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে।
এ ব্যাপারে জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আব্দুল লতিফ অমল বলেন, এলাকাবাসীর দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় তার সুফল ভোগ করতে পারছেন না এলাকার লোকজন। এখন বোরো ধান কাটার মওসুম শেষ পর্যায়ে। ধান কাটা শেষ হলে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ