মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

রোজার শুরুতেই সাতক্ষীরায় জনজীবনে ভোগান্তি

আবু সাইদ বিশ্বাস; সাতক্ষীরা: রোজার শুরুতেই জেলাবাসীর নানা ভোগান্তি পোহাচ্ছে। দ্র্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রাস্তা ঘাট খোঁড়াখুঁড়ি, যানজট, খাদ্যে ভেজালসহ রাস্তা-ঘাটে চাঁদাবজিতে অতিষ্ঠ জনজীবন। সবকিছুই যেন নিয়ন্ত্রণহীন। সরকারের নানা উদ্যোগ ও সতর্কবাণীর পরও রমজান কেন্দ্রিক কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ রয়েছে, কিন্তু দাম চড়া। শুধু তা-ই নয়, রোজাভিত্তিক বিভিন্ন নিত্যপণ্য কৃষক পর্যায়ে যে দামে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলো ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে প্রায় তিনগুণ দামে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে জেলায় রমজান ভিত্তিক কয়েটি পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েক দফায়। রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজারে টিসিবির সাশ্রয়ী পণ্য বিক্রির কথা থাকলেও সাতক্ষীরাতে এর সূফল পায়নি জনগণ। বিশ্বের বহু দেশে রমজানে দ্রব্যমূল্যের দামকমাতে ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগীতায় নামে । সেখানে বাংলোদেশে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠে ব্যবসায়ীরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব এবং অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেই। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। আর এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জেলাতে সব পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে পর্যাপ্ত। কিন্তু রোজা শুরুর দু’একদিন আগ থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে পকেট কাটছে ক্রেতাদের। সরকার ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেয়া হলেও রমজানে পণ্যের মূল্যের লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেহরি ও ইফতারির অনেক পণ্যই সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এতে বাধ্য হয়েই স্বল্প আয়ের অনেককেই প্রয়োজনীয় তালিকা থেকে বেশকিছু পণ্য কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে রমজান ও ঈদকে টার্গেট করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ভেজাল চক্রের সদস্যরা। ভেজাল পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। পুলিশ-র‌্যাবসহ একাধিক সংস্থা ষোষণা দিয়ে ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযানে নামলেও থেমে নেই ভেজাল খাবার ও মৌসুমি ফল কেনাবেচা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পণ্য খেয়ে ভোক্তারা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
সরকারের নানা উদ্যোগ ও সতর্কবাণী সত্ত্বেও দাম বাড়ছে রমজানের চাহিদাসম্পন্ন কয়েকটি পণ্যের। তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ টাকা। পণ্যগুলো হচ্ছে- বেগুন, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, এবং শসা। বাজার ও মান ভেদে এসব পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারে এসে হতবাক হয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার সাতক্ষীরা খুচরা বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা কেজি দরে। বুধবার এই বেগুনই বিক্রি হয়েছিল ২৫-৩৫ টাকা। খুচরা ব্যবসায়ীরা জানালেন পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদেরও বাড়াতে হচ্ছে। এছাড়া কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকা। ৬০ টাকার ধনেপাতা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজিতে। শশা ২০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকায়। সব মাংশের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ৫০-৮০ টাকা পর্যন্ত। মসলার দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি।
মৌসুমের শুরুতেই বেশি দামের লোভে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো হচ্ছে বিভিন্ন ফল। অপরিপক্ব আম পাকাতে ক্যালসিয়াম কারবাইড ও ইথানল ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। খেজুরেও দেয়া হচ্ছে ফরমালিন। বাহারি ইফতার তৈরিতেও ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল।
বাজারে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদন হীন বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন সেমাই সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ