রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

প্রশ্রয়দাতা রাজনীতিক ও পুলিশ কর্মকর্তাদের কি হবে?

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগর ও জেলায় তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ২৬ মাদক বিক্রেতা গোয়েন্দার হিটলিস্টে রয়েছে। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ১০ জনের মতো। এরা মূলত পাইকারি মাদক বিক্রেতা হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। এদের পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিকরা গোয়েন্দাদের নজরদারিতে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে র‌্যাব।
অপরদিকে খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৫ দিনব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছেন। তাদের সংস্থা ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক তালিকা থেকে সমন্বয় করে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার থেকে জানানো হয়।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, তার তত্ত্বাবধানে ২১ মে থেকে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেল ও গোয়েন্দা শাখা মিলে পৃথক তিনটি টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি টিমে ৫ সদস্য নিয়ে দিন-রাতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। সাথে রয়েছে এপিবিএন নিয়ে গঠিত বিশেষ টাস্ক ফোর্স। এতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্ব দেবেন।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্র মতে, ‘ক’ ও ‘খ’ সার্কেলে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা মিলে মোট ২৩০ থেকে ২৫০ জন মাদক বিক্রেতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সাথে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাদক বিক্রেতাদের তালিকাও রয়েছে। এর মধ্যে খালিশপুর, দৌলতপুর, আড়ংঘাটা, খানজাহান আলী থানা ও উপজেলা ফুলতলা, ডুমুরিয়া, তেরখাদা ও দিঘলিয়া নিয়ে গঠিত ‘খ’ সার্কেলের তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতা ১০১ জন। এছাড়া সদর, লবণচরা, হরিণটানা, সোনাডাঙ্গা ও উপজেলা রূপসা, পাইকগাছা, কয়রা, বটিয়াঘাটা ও দাকোপ থানা নিয়ে গঠিত ‘ক’ সার্কেলে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতা রয়েছে আরও ১৪০ জন।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, খুলনায় ২৫০ পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতার মধ্যে ২৬ জন হিটলিস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১০ জন মহিলা মাদক বিক্রেতা রয়েছে। এদের মধ্যে জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু এই তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় এলাকায় এরা থ্রি সিস্টার নামে প্রশাসনসহ এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ নানা মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এছাড়া হিটলিস্টের মধ্যে রয়েছে মহিলা মাদক বিক্রেতা শিউলি বেগম, মায়া, রেখা বেগম, বেনু, আসমা, লিপি ও বুবলী। বিদেশী ও দেশী পাইকারি ও খুচরা অবৈধভাবে মদ বিক্রেতাদের নামও রয়েছে। খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক মো. সাইফুর রহমান রানা বলেন, একজন মাদকসহ একাধিকবার আটক হচ্ছেন। এদেরকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। আবার আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবার এই ব্যবসায় ফিরে যাচ্ছেন।
গোয়েন্দা সূত্র মতে, ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল সরবরাহকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এরকম নির্দেশনার পর থেকে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছেন। তিন ধরনের তালিকা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এই তালিকার মধ্যে ‘টপ লিস্ট’ তালিকায় রয়েছে পাচারকারীদের নাম, ‘টপ টু’ তালিকা, ‘টপ থ্রি’ তালিকা ও ‘টপ টেন’ তালিকায় রয়েছে ডিলাররা। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকার সমন্বয়ে ওই তালিকাগুলো করা হয়েছে।
কেএমপি’র অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা বহাল তবিয়তে : মহানগর এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা থাকলেও সম্প্রতি সময়ে চলমান সাঁড়াশি অভিযানের কোন ছোঁয়া লাগেনি। তাছাড়া খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। রয়েছে বহাল তবিয়তে। তবে সারাদেশে র‌্যাব-পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের খবরে অনেকটা স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ। নগরীতে ১৫৪ জন মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীর তালিকা ইতোমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হাতে পেয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি মিডিয়া সোনালী সেন জানান, তালিকায় যে সকল পুলিশ সদস্যর নাম পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
এছাড়া জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টপ ‘টেন তালিকায় থাকা’ নগরীর শীর্ষ মাদকের চোরকারবারী ও ডিলারদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও মাদক বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে টপটেন তালিকায় নাম থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের নাম-পরিচয় ছাপা হলো না।
এ ব্যাপারে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান জানান, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে এ সকল তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতাদের নজরদারিতে রেখেছি। তাদের সকলের গতিবিধি আমাদের নজরে রয়েছে। তাছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য গত ১৭ দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় র‌্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ