রবিবার ১৭ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

কোনো দলকে নয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিন

* খুব বেশি হলে জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন শেখ হাসিনা -দুদু
স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে। কিন্তু তাই বলে খবরদারি কেন করবে? আমাদের দেশের সরকার কে হবে তা জনগণ পছন্দ করবে। ভারতের সরকার তো সে দেশের জনগণ পছন্দ করে। সেটা তো শেখ হাসিনা পছন্দ করে দেয় না। তাই ভারতকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে তারা তাদের নীতি পরিবর্তন করবে কি-না। আমি বলবো কোনো দলকে নয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিন। এদিকে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, কোনোভাবেই এই অবৈধ্য প্রধানমন্ত্রী আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। খুব বেশি হলেও তিনি (শেখ হাসিনা) আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত সাবেক বিএনপি নেতা এম. শামসুল ইসলাম ও জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণসভায় বক্তৃতাকালে বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা কৃষিবিদ মেহিদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, খালেদা ইয়াছমিন প্রমুখ।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শেখ হাসিনা অনেক শক্তিশালী সেটা আমি মনে করি না। তবে তার পেছনে যে শক্তি কাজ করে অনেকে বলেন ইন্ডিয়ার কথা। তাদের সঙ্গে আমাদের অনেক সম্পর্ক করার কথাও বলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা আর ইন্ডিয়ার মধ্যে তো ভালো সংসার চলছে। সেই সংসারে ভাঙন ধরানো কি ঠিক হবে? সেই চেষ্টার থেকে বড় চেষ্টা হওয়া উচিত ভারতকে পরিষ্কার করতে হবে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সম্মান করে কি না? তারা মনে করে কি না যে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশের মালিক। যদি সেটা মনে করে তাহলে দেশের মানুষের কাছে সব থেকে অপছন্দের মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজ থেকে তাদের বিরত থাকা দরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দুর্দশার জন্য শেখ হাসিনাসহ কার কার দায় আছে বিশ্ববাসীকে আমাদের তা জানাতে হবে। বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের কথা।
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর আগের পাকিস্তান সরকার আর বর্তমান সরকারের মধ্যে পার্থক্য নেই। তখনও মিছিলের ওপর পুলিশ গুলী করত এখনো আমাদের ওপর গুলী করছে পুলিশ। বরং তাদের থেকে বেশি করছে। তাহলে পাকিস্তানি পুলিশ আর আমাদের পুলিশের মধ্যে তফাত কোথায়? এরা জনগণের সেবক। কিন্তু তারা জনগণের সঙ্গে খবরদারি করে আর শেখ হাসিনার কাছে গেলে দলীয় লোকের মতো আচরণ করে।
গয়েশ্বর বলেন, আমরা জেল থেকে বের হওয়ার পর মনে হচ্ছে ভেতরেই ভালো ছিলাম। কারণ বের হয়েও তেমন কিছু করতে পারছি না। ভয়ের কারণে কথা বলি না আমরা। তদবির ও তোষামোদ করে পদ পাওয়া যায় কিন্তু জনগণের সালাম পাওয়া যায় না। সুতরাং কাজে নেমে পড়ুন। কাজ করলে সালাম পাওয়া যাবে। তাতে পদ লাগবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটা যৌক্তিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। নির্বাচন নিয়ে তো ব্যস্ততা থাকবেই। কারণ বিএনপি তো নির্বাচনের দল। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। আর আওয়ামী লীগ একদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে গয়েশ্বর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন খুলনার নির্বাচন আমি নিজে মনিটরিং করেছি। সত্য কথা বলেছেন। আবার বলেছেন, আমার ভাই (চাচাতো) শেখ হেলালও মনিটরিং করেছে। এর অর্থ হলো তারা ইসির ওপর হস্তক্ষেপ করেছে। মনিটরিং যখন তারাই করেছে তাহলে ইসির কাজ কি? খুলনার নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা আমাদের একটা বার্তা দিয়েছেন। এটা বুঝতে পারলে ভালো। না বুঝতে পারলে আমাদের বিপদ আছে।
দেশে পরিবর্তন হবেই এমন দাবি করে তিনি বলেন, সেই পরিবর্তনে আমাদের ভূমিকা কতটুকু থাকবে সেটা বিষয়। কিন্তু পরিবর্তন হবেই।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আজকের এই স্মরণ সভায় উপস্থিত আপনারা (নেতাকর্মীরা) যদি দিন-তারিখ নিতে চান আমি বলে দিতে পারি খুব বেশি হলে ডিসেম্বর আর না হলে জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি (হাসিনা) ক্ষমতায় থাকবেন। তাকে রক্ষার মতো কোনো শক্তি নাই, পতন হবেই। পুলিশ প্রশাসন দিয়ে কোনো কাজ হবে না। আমি বিশ্বাস করি আজকে যে পুলিশ ভাইয়েরা উলঙ্গ ভাবে তাদেরকে (সরকার) সমর্থন করছে, এর সংখ্যা ১০ ভাগ, ৯০ ভাগই এর বিরুদ্ধে। এদেশে সৎ মানুষের সংখ্যা বেশি, দুর্নীতিযুক্ত মানুষের সংখ্যা খুব কম।
পতনের কারণ উল্লেখ করে বলেন, তাঁর (শেখ হাসিনার) পতন হবে এই কারণে যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষার স্বার্থে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে, স্বাধীনতার প্রশ্নে, ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে, দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হানি হয়েছে আমাদের দেশে। গণতন্ত্রের জন্য স্বাধীনতার জন্য যে দেশ স্বাধীন হলো সেটা আপনি (শেখ হাসিনা) কেড়ে নেবেন আর বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে এটা হয় নাকি? এটা প্রত্যাশার কোনো বিষয়?
বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার পতনের দুটি পথ আছে একটি হলো নির্বাচন, আরেকটি গণঅভ্যুত্থান। সরকার যদি মনে করেন নির্বাচন ভন্ডুল করে আবারও ক্ষমতায় থাকবেন তা হবে অসম্ভব। কোনো ভাবেই এবার তারা (সরকার) ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
দুদু বলেন, আন্দোলন করতে হবে বেগম জিয়ার জন্য, বেগম জিয়া তিনি তাঁর কাজ করেছেন। তিনি দেশের জন্য ভাবেন, মানুষের জন্য ভাবেন, সংগ্রামের কথা ভাবেন। তিনি অপ্রতিরোধ্য মানুষ হিসেবে জেলে গেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ