বুধবার ২০ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

দখল ও দূষণের কবলে হালদা নদী

ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ হতে নারায়ণহাট পুরাতন ব্রিজ পর্যন্ত হালদা নদীতে বিভিন্ন স্থানে এভাবে বর্জ্য ফেলে রাখা হয়েছে

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফটিকছড়ি : এশিয়ার একমাত্র মিঠা পানির প্রাকৃতিত মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে  প্রতিবছর কার্প জাতীয় রুই, কাতল, মৃগেল, কালিবাউশসহ বিভিন্ন্ প্রজাতির মা মাছ ডিম ছাড়ে এ হালদা নদীতে। যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু নদীটি আজ চরমভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে মৎস্য প্রজনন হ্রাস পাবে।
সরে জমিনে ঘুরে দেখা যায় যে, ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পুরাতন ব্রিজ হতে নারায়ণহাট পুরাতন ব্রিজ পর্যন্ত হালদা নদীতে বর্জ্য  ফেলে বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাজিরহাট বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে হালদা পাড়ে  জবাই করার পর গরুর বিভিন্ন প্রকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে অবাধে। এ ছাড়া নাজিরহাট বাজারের সব ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয় এ হালদায়। বাজারের পশ্চিম পার্শ্বে মাছবাজারের ময়লা, কাঁচাবাজারের ময়লাসহ সকল প্রকার ময়লার নিরাপদ স্থান হচ্ছে হালদার পাড়, ময়লাগুলো ফেলার পর এগুলো ধীরে ধীরে হালদার পানিতে পতিত হয়ে পচে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এ ছাড়া আবর্জনাগুলো পঁচে ও জোয়ারের সময় হালদার পানির সঙ্গে মিশে হালদার স্বচ্ছ পানিকে করছে বিষাক্ত। তাছাড়া একশ্রেণির দখলবাজদের কবলে পড়ে ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে হালদার প্রশস্ততা। বাঁশের দোকান বা বাঁশ আড়ত করা, লাকড়ির দোকান, গাছের টুকরা মজুদসহ নানা অজুহাতে দিন দিন হালদাকে গ্রাস করছে সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এতে হালদার অস্তিত্ব অনেকটা বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী দিদারুল আলমম সওদাগর জানান, বাজারে ময়লা ফেলার নির্ধারিত ডাস্টবিন না থাকায় ব্যবসায়ীরা ময়লা হালদার পাড়ে ফেলেন। তিনি জানান, এতে হালদার পানি দূষিত হলেও বাধ্য হয়েই তারা হালদায় ময়লা বা বর্জ্য ফেলেন। নাজিরহাট পৌরসভা হয়েছে ৩ বছর অতিবাহিত হলো। কিন্তু বাজারের নোংরা পরিবেশ এখনো বিদ্যমান।
নারায়ণহাট কলেজে ছাত্র মো. রুবেল বলেন, নারায়ণহাট সব ময়লা-আবর্জনা ব্রিজের উপর হতে চুড়ে ফেলে। আমরা অনেক প্রতিবাদ করেছি কিন্তু কোন কাজ হয়নি।
ব্যবসায়ী সিরাজদৌল্লাহ চৌধুরী দুলাল জানান, বাজারের সব ময়লা হালদার বাঁধে  ফেলে হালদা নদীকে দূষণ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়া বাজার কমিটি বা পৌরসভার থেকে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা প্রয়োজন।
ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম বাবু বলেন, হালদা নদী আমাদের অনেক উপকার করে আসছে। এটি দখল ও দূষণের হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বটেই। নাজিরহাট যেহেতু পৌরসভা হয়েছে। পৌরসভার সকল কাঠামো গড়ে তুলে হালদাকে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হালদা নদী বিশেষজ্ঞ মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হালদায় যেহেতু জোয়ার-ভাটা আছে সে জন্য নদীর উপরিভাগে কোনো বর্জ্য বা ময়লা পড়লে তা পুরো নদীর পানিকেই বিষাক্ত করে তোলে। হালদা নদী দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি নাজিরহাট পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনেকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। সাধারণত মানুষ সচেতন হলে দূষণ থেকে হালদা নদী রক্ষা পাবে বলে মরে করি।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নাজিরহাট পৌরসভার প্রশাসক দীপক কুমার রায় বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ