সোমবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

মানবতার কল্যাণে শাশ্বত সমাধান : আল কুরআন

ফারজানা আক্তার লুনা : মহান রবের পক্ষ থেকে মানব জাতির জন্য একমাত্র নির্দেশনা ও অন্যতম মোযেজা হল আল কুরআন। যে ৭টি বিষয়ের উপর ঈমান আনা হল বিশ্বাসের মূলভিত্তি তার মধ্যে শুধু মাত্র আল কুরআনকে আমরা প্রত্যক্ষ করতে পারি। এছাড়া বাকী বিষয়সমূহ না দেখেই ঈমান আনতে হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনের যাবতীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছেন মানবজাতির জন্য। কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে মানবজাতির শিক্ষক রাসূল (সা.)-এর উপর এবং তিনি মানুষের জন্য সহজ করে কুরআনের বাস্তব প্রতিফলন তার জীবনে দেখিয়েছেন, কুরআনকে বলা হয়েছে দ্বীন অর্থাৎ জীবন বিধান। সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী এবং সফলতার মানদণ্ড।
রাসূল (সা.) তৎকালীন জাহেলী সমাজের পরিবর্তন তথা সংশোধনের জন্য অনেক বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। দীর্ঘদিন হেরাগুহায় ধ্যান মগ্ন ছিলেন এবং সমাধানের উপায় নিয়ে ভাবতেন। অবশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে জীবরাঈল (আ.) ওহী নিয়ে আসেন। অদ্ভুত হলেও সত্য যে, কোন প্রস্তুতি বা পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়া, কোন শক্তি সঞ্চয় বা কোন ধরনের অবলম্বন ছাড়াই শুধুমাত্র কিছু বাণীর ভিত্তিতে আরব ভূখণ্ডে জাহেলী সমাজে পরিবর্তনের বাতাস বইতে থাকে।
এই বাণীর ধারক এবং যারা একে সত্য হিসেবে গ্রহণ করে তারা একে চূড়ান্ত কল্যাণ হিসেবেই গ্রহণ করে। বনু হাশিমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরকে রাসূল (সা.)  এভাবেই আহ্বান জানান-
“আমি যা পেশ করছি তা যদি তোমরা গ্রহণ কর, তাহলে তাতে তোমাদের দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানে কল্যাণ নিহিত রয়েছে।” (সীরাতে ইবনে হিশাম, প্রথম জিল্দ, পৃ: ৩১৬)
কুরআনের ফযিলত ও কুরআনের মাহাত্ম্য নিঃসন্দেহে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু এখানে মূলত: কুরআন-এর উদ্দেশ্য বা নাজিলের কারণ এবং কিভাবে এ কুরআনই মানব জাতির জন্য গ্রহণীয় বিধান হবে এবং অন্যসব কিছুই বাতিল ও বর্জনীয় এ দিকটাকে তুলে ধরা হবে ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ উদ্দেশ্যহীনভাবে মানবজাতির জন্য এ বাণী পাঠান নি, কেননা তিনি বেহুদা কাজ হতে মুক্ত। কুরআন নাযিলের কারণ উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি নিজেই বলেন-
“আমি যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছি প্রামাণ্য দলিলসহ, আর নাজিল করেছি কিতাব ও ন্যায়ের দ- যাতে করে গোটা মানব জাতি ন্যায় ও ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।” (সূরা আল হাদীদ : ২৫)
অর্থাৎ এ বাণী ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য, ইনসাফ ও কল্যাণের জন্য যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর- সমস্যার সমাধানের জন্য, অন্ধকারের আলো, বিজয়ী বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবার জন্য এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার ধারক হয়ে এসেছে।
“হে মুহাম্মদ! এটি একটি কিতাব। আমরা এটি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে করে তুমি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসো।” (সূরা আল ইব্রাহিম : ১)
“তিনি আল্লাহ, যিনি স্বীয় রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি এ দ্বীনকে অন্য সমস্ত মত ও জীবন ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করে দিতে পারেন চাই তা মুশরিকদের কাছে যতই অপছন্দনীয় হোকনা কেন।” (সূরা আস সফ : ৯)
আইনি বা ডাক্তারী বই যারা লিখেন তারা এজন্য লিখেন না যে মানুষ তা ভক্তি ভরে শুধুমাত্র পড়ে রেখে দিবে। প্রতিষ্ঠানের যে শিক্ষকরা এই বইগুলো পড়ান কিংবা যারা তা পড়ে কেউই এ উদ্দেশ্যে পড়ে না যে বইগুলো পড়ে বুঝে সংরক্ষণে রেখে দিবে। বরং আইনের সহজ থেকে জটিল সমস্যার সমাধান করবে। রোগ নিরাময়ে ও চিকিৎসা সেবার উদ্দেশ্যেই এই বইগুলো রচনা, শিক্ষা প্রদান ও গ্রহণ করা হয়। মহাগ্রন্থ আল কুরআনও তেমনি জীবনের ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে সামষ্টিক পর্যায়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা প্রদান করার জন্যই এসেছে।
আল কুরআন পূর্ণাঙ্গ বিধান হিসেবে স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল : আল কুরআন এমন কিছু বৈশিষ্ট্যের ধারক যা একে অন্যসব বিধান ও বই থেকে পৃথক করে, নিশ্চিন্ততা ও প্রশান্তি দান করে। তাই একে যারা জেনে বুঝে পড়ে তারা
জীবন সমস্যার সমাধান খুঁজে পায় ও নিজেকে এ কুরআনের আলোকে পরিবর্তন করতে পারে।
“হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত। রাসূল (সা.) বলেছেন: এই কুরআন হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে ভোজনের আয়োজন। সুতরাং তোমরা যতটা পার তার ভোজনের আয়োজন গ্রহণ কর। এই কুরআন হচ্ছে আল্লাহর রজ্জু, সমুজ্জল জ্যোতি, রোগ নিরাময়ের অব্যর্থ চিকিৎসা এবং যে একে ধারণ করে তার জন্য রক্ষক। যে এর অনুসরণ করে তার জন্য ত্রাণকর্তা। এ কুরআন কখনো ভুল বলে না যে তাকে শুধরাতে হবে। কখনো এঁকে-বেঁকে চলে না যে তাকে সোজা করে দিতে হবে। এর বিস্ময়ের কোন শেষ নেই এবং বহুবার পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও তা পুরানো হয়না। তোমরা কুরআন পাঠ কর, কেননা আল্লাহ তোমাদের কুরআন পাঠের জন্য প্রতি অক্ষরে দশটা সওয়াব দিবেন। ভাল করে বুঝে নাও, আমি বলছি না আলিফ লাম মিম একটা অক্ষর বরং আলিফ একটা অক্ষর, লাম একটা অক্ষর এবং মীম একটা অক্ষর।” (হাকেম)
১. কুরআনের ভাষায় আল কুরআনের স্বাতন্ত্র্য হল :
* কুরআন পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান ও হেদায়াতের সরল সঠিক দিক নির্দেশনা সম্বলিত (সূরা আল বাকারা : ১৮৫)
* পৃথিবীর কোন বই এই দাবী পেশ করতে পারে না।
* কুরআন রচয়িতা মহান আল্লাহ বিশ্ববাসীকে চ্যালেঞ্জ করেছেন যে, তিনি ছাড়া এমন বিধান আর কারো পক্ষে রচনা করা সম্ভব নয়। (সূরা আল হুদ : ১৩)
* কোন পুস্তক রচনাকারী এমন দাবী করার যোগ্যতা রাখেনা।
* কুরআনে একই কথা বার বার আলোচিত হয়েছে, অথচ প্রতিবার আলোচনাতেই মানুষ নতুন উদ্যোগ খুঁজে পায়। কিন্তু কখনোই একঘেঁয়ে লাগে না। (সূরা আয্  যুমার : ২৩)
* আর কোন বইয়ে এমন আলোচনা মানুষের একঘেয়েমির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
* কুরআনের আবেদন সমগ্র মানবজাতির জন্য। কোন নির্দিষ্ট সময়ের বা জাতির পর এর আবেদন নিঃশেষ হয়ে যায় না।
* আল কুরআনের বিভিন্ন আয়াত বিভিন্ন সময়ে নাযিল হলেও এর বিন্যাস অর্থাৎ কোন আয়াতের পর কোন আয়াত বসবে, কোন সূরার পর কোন সূরা বসবে তাও আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ভাষণ হিসেবে এর আয়াত নাযিল হয়েছে এবং এমন বিন্যাস প্রতিটি ভাষণকে পূর্ণাঙ্গতা দান করে।
* কুরআনের নির্দেশনার সঠিক তাৎপর্য বুঝতে হলে, তা নাযিলের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। না হলে সঠিক মর্মার্থ বুঝা সম্ভব নয়। কিন্তু পৃথিবীর কোন বই এর তাৎপর্য বুঝার ক্ষেত্রে এতোটা আলোচনার প্রেক্ষাপট জানাটা জরুরী না।
* কুরআনকে সহজ করে নাজিল করা হয়েছে। কিন্তু যারা গ্রহণ করতে চায় তারাই এর সঠিক তাৎপর্য বুঝতে পারবে। (সূরা আল কামার : ৪০)
* কুরআন হেফাযতের দায়িত্ব মহান আল্লাহ নিজেই গ্রহণ করেছেন। কেউ একে বিলুপ্ত বা পরিবর্তন করতে পারবে না। অথচ অন্য কোন পুস্তকের রচয়িতা এমন দায়িত্ব নিতে সক্ষম নয়।
২. শাশ্বত ও পূর্ণাঙ্গ সমাধান : আল কুরআন : মানুষকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্বাধীনতা দিয়েছেন কিন্তু স্বেচ্ছাচারীতার অনুমতি দেন নি। আপন মর্জি দান করলেও তা পরিচালনার পথ বলে দিয়েছেন, সমস্যা থাকলেও তা সমাধানের জন্য শরিয়ত দিয়েছেন। জীবন যাপনের জন্য চিন্তাশক্তি দান করলেও নির্দিষ্ট দ্বীন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সব সৃষ্টিকে মানুষের জন্য তৈরি করা হলেও হালাল হারামের সীমানা দিয়েছেন। আর এসবই মানুষের জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর যদি তারা মেনে চলতে পারে।
*  কুরআন এর নির্দেশনা মানুষের আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক উভয় প্রয়োজনই পূরণ করে-
আল কুরআন মানুষের জীবনের কোন একটি দিক নয় বরং সমগ্র দিককেই নির্দেশ করে। মানুষের অন্তরের লুকায়িত বিষয়, চিন্তা ভাবনাকে লক্ষ্য উদ্দেশ্য জ্ঞান ও ধারণার ব্যাপারে সঠিক সমাধান ও দিক নির্দেশনা কুরআন দেয়া হবে না। শুধু নির্দেশনা প্রদানই নয় বরং এই ভাবাবেগের সাথে মানুষের অনুভূতির যে পরিচয় হবে, তা মেনে চলার দৃঢ়তা তৈরি হবে এমন বিষয়সমূহ এতে আলোচিত হয়েছে।
“হে মানুষ তোমাদের জন্য তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নসীহত এসে গেছে। এটা ঐ জিনিস যা অন্তরের সব রোগ সারায় এবং মুমিনের জন্য হেদায়াত ও রহমত। হে নবী আপনি বলে দিন, এটা আল্লাহর দয়া ও মেহেরবানী যে, তিনি তা পাঠিয়েছেন। এর জন্য তো লোকদের খুশি হওয়া উচিত। এটা ঐসব থেকে ভাল, যা লোকেরা জমা করে।” (সূরা আল ইউনুস: ৫৭-৫৯)
“আল্লাহ নাযিল করেছেন সর্বোত্তম বাণী সম্বলিত কিতাব যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা বার বার পাঠ করা হয়। যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে এর (পাঠে ও শ্রবণে) তাদের চর্ম রোমাঞ্চিত হয়ে উঠে তারপর তাদের দেহমন কোমল হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটাই আল্লাহর হুদা। তিনি যাকে এর দ্বারা পথ দেখান। আল্লাহ যাকে বিপদগ্রস্থ করে দেন তার কোন পথ প্রদর্শক নেই।” (আল আয্ যুমার : ২২-২৩)
মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় যেমন- ভাললাগা, অভ্যাস, রুচি, জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক যেমন ওঠা-বসা, চলন-বলন, রীতি-রেওয়াজ, মানবিক গুণাবলী যেমন- সত্যবাদিতা, আমানতদার, ওয়াদা পূরণ, উদারতা, বদান্যতা, ভাল আচরণ, আবার মানবিক ত্রুটি যেমন- মিথ্যা, ধোকা, অহংকার, কৃপণতা, লালসা, অপচয়, সন্দেহ এসবই কুরআনের আলোচ্য বিষয়।
এর পাশাপাশি সামষ্টিক ক্ষেত্রেও হক- অধিকার, লেনদেন, সামাজিক রীতিনীতি, শৃঙ্খল ও নিয়ম-কানুন, পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা এর বিপরীত পক্ষে সামষ্টিক পরিবেশে আচরণ, গীবত, অশ্লীতা, যুলুম-নিপীড়ন অর্থাৎ সব ব্যাপারেই আল কুরআন মানব জাতির জন্য মৌলিক নীতিমালা প্রদান করে।
মানুষের সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য যাবতীয় বিষয়সমূহ যেমন- চিকিৎসা, বিজ্ঞান, সৃষ্টিরহস্য, পরকাল, জান্নাত-জাহান্নাম, বিশ্ব প্রকৃতি পরিচালনা এমন মানুষের জানা অজানা সব বিষয়ই এতে আলোচিত হয়েছে।
সূরা আল আনআমে এমন অনেক বিধান ধারাবাহিকভাবে পেশ করার পরে আল্লাহপাক মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে ১৫৩ নং আয়াতে বলেন :
“এটা আল্লাহর হেদায়াত যে, এটাই আমার সরল মজবুত পথ। এ পথেই চল। অন্য সব পথে চলবে না। তাহলে তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে ছড়িয়ে ছিন্নভিন্ন করে দেবে। এ ঐ হেদায়াত যা তোমাদের রব তোমাদেরকে দিয়েছেন। হয়তো তোমরা বাঁকা পথ থেকে বেঁচে থাকবে।” মানুষ তার সকল সমস্যার সমাধানই এতে খুঁজে পাবে। এবং এটাই তাকে হেদায়াত ও কল্যাণের উপর টিকিয়ে রাখবে।
৩. শরিয়ত তথা বিধি-বিধান প্রণয়নের মূল উৎস
মানুষের দুনিয়াবী কার্যক্রমের সীমা সংরক্ষণ, আইন-কানুন, হালাল-হারাম, যায়েজ-নাযায়েজ এসবই শরিয়তের মধ্যে পড়ে। মানুষ কে কি করবে ও কি করবে না, অমান্য করলেও শাস্তি বা বিধান এ সবই চারটি উৎস হতে পাওয়া যায়। কুরআন সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস। কিন্তু কুরআনে যে বিষয়ের সরাসরি ও স্পষ্টভাবে বলে দেয়া আছে তার বিপরীতে বাকি ৩টি উৎস কিছু বলার অধিকার রাখে না। যেমন- উত্তরাধিকারী সম্পর্কে কুরআন যে বিধান দিয়েছে তার ব্যাপারে অন্য কোন বিধান বাকী তিনটি উৎস দিতে পারে না। বাকী তিনটি উৎস শরীয়তের ক্ষেত্রে কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক কোন নির্দেশ দিতে পারে না। এছাড়া ফরজ, ওয়াযিব ও হালাল হারামের ক্ষমতা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কুরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন, তা পরিবর্তনের অধিকার আল্লাহর নবীকেও দেয়া হয়নি। যেমন- সুদ বা নেশাকে কেউ হালাল করতে পারবে না। এমনি বিচার, আইন, রাষ্ট্র পরিচালনা হবে। শরিয়ত সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক নীতিমালার মূল উৎসই হল আল কুরআন। মানুষ চাইলেই নিজের মত তা প্রণয়ন করতে পারে না।
“সুতরাং তাদের জন্যই ধ্বংস, যারা নিজের হাতে শরীয়তের বিধান রচনা করে। তারপর লোকদের বলে যে, এসব আল্লাহর কাছ থেকে এসেছে এর বদলে সামান্য কিছু মূল্য পেতে পারে। তাদের হাতের এ লেখাও তাদের জন্য ধ্বংসের কারণ এবং তাদের এ রোজগারও ধ্বংসের কারণ।” (সূরা আল বাকারা : ৭৯)
“আমরা তাদের দ্বীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছিলাম। তাদের কাছে জ্ঞান আসার পর তারা পরস্পর বিদ্বেষের কারণে বিরোধিতা করেছিল। তারা যে বিষয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ করে সে বিষয়ে ফায়সালা করে নেয় তাদের প্রভু।
“তারপর আমরা তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করেছি, দ্বীনের বিশেষ শরিয়তের উপর। অতএব তুমি কেবল এ শরীয়তকেই অনুসরণ করো। অজ্ঞদের খেয়ালখুশির অনুসরণ করো না।” (সূরা আল জাসিয়া : ১৭-১৮)
মূলত: মানুষের সীমিত জ্ঞানে কল্যাণকর ও পূর্ণাঙ্গ বিধান রচনা সম্ভব নয়। কারণ এখানে সিদ্ধান্তের সাথে পূর্ণাঙ্গ অবস্থা দেখাও তার পক্ষে অসম্ভব। সচেতন কিছু মানুষ যখন দেখল পুঁজিপতিরা ধনী-গরীবের বৈষম্য ও দুর্বলদের উপর সবলদের নিপীড়নের বন্যা বয়ে যাচ্ছে তখন তারা এ ব্যবস্থা ভেঙ্গে সমাজতন্ত্র চালু করল। যেখানে সবাই সমান সমান পাবে। কিন্তু আবার যখন দেখল যে ন্যায্যভাবে যারা বেশি পায় তারা বঞ্চিত হচ্ছে তখন আবার এ ব্যবস্থার বর্জন করল। এভাবে একটার পর একটা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়।
বিভিন্ন ধর্মের অপপ্রয়োগ দেখে কিছু সচেতন মানুষ ধর্মনিরপেক্ষতা বা ধর্মহীনতা চালু করল। কিছু দিন পর যখন নৈতিকতার বিপর্যয় শুরু হল তখন এখানে আবার চালু হল নৈতিক শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ।
কিন্তু ধর্মীয় মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলায় নৈতিক শিক্ষাও যখন যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না, বরং যারা নিয়ম রক্ষা করবে সে প্রশাসনই হচ্ছে পরে অনিয়ম চালুর উৎস- এভাবেই চলতে থাকে একটার পর একটা উদ্যোগ গ্রহণ।
ব্যক্তি তার নিজের প্রাপ্য কিছু অন্যের জন্য ছাড়তে রাজি না কারণ সে এটা পাওয়াকে তার অধিকার মনে করে। কিন্তু অন্যের কিছু যখন তার অনেক প্রয়োজন হয়ে দাঁড়ায় তখন সে বলে যে, মানুষ কেন তার একটু উদার হতে পারে না। কোন বিষয়ে কারও অবস্থান যদি আমাদের পছন্দ হয় তখন আমরা তাকে দৃঢ়তা বলি আবার পছন্দ না হলে বলি একগুয়েমি।
এভাবে পরিবেশ ভাবাবেগ দ্বারা প্রভাবিত মানুষের পক্ষে সঠিক ও শরীয়ত প্রণয়ন ছাড়া প্রকৃতপক্ষে অসম্ভব। আর তাই শরীয়ত তথা বিধানকে রহমত হিসেবেই ভারসাম্যপূর্ণভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষকে দান করেছেন। যা পেয়ে মানুষের অনেক বেশি কৃতজ্ঞ ও খুশি হওয়া উচিত। [চলবে]

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ