শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

লাউড স্পিকার আতঙ্কে নো ম্যানস ল্যান্ডের রোহিঙ্গারা

২১ মে, রয়টার্স/এএফপি : নো ম্যানস ল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী আবারও লাউড স্পিকার বাজানো শুরু করার পর রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা বলছেন, নতুন করে লাউড স্পিকার বাজানোর কারণে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কয়েকজন রোহিঙ্গার অভিযোগকে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা খবরটি জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

তবে রবিবার (২০ মে) নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গারা এএফপি’র কাছে অভিযোগ করেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নতুন করে লাউড স্পিকার বাজাচ্ছে। রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা বলছেন, নতুন করে লাউড স্পিকার বাজানোর কারণে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ আরিফ জানান, ‘গতকাল তারা এটি কয়েকবার বাজিয়েছে। আজকে সকালে আবারও তারা একই কাজ করেছে। এটি খুব বিরক্তিকর এবং জনমনে আতঙ্ক তৈরি করে।’ তিনি জানান, লাউড স্পিকারে মিয়ানমারের বিচার ব্যবস্থার আওতাভুক্ত এলাকা ছাড়তে রোহিঙ্গাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তা না হলে তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, লাউড স্পিকারে বার্তা দেওয়ার সময় রোহিঙ্গাদেরকে ‘বাঙালি’ হিসেবে সম্বোধন করছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা কমিউনিটির আরেক নেতা দিল মোহাম্মদ এএফপিকে বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের নাগরিক। এটি আমাদের পিতৃভূমি। এখানে থাকার সবরকমের অধিকার আমাদের আছে। আমরা কেন অন্য কোথাও যাব?’

বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি’র স্থানীয় কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মঞ্জুরুর হাসান খান জানান, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা লক্ষ্য করেছি তারা (মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী) ক্যাম্প সংলগ্ন সীমান্ত বেড়ার পাশে থাকা গাছের সঙ্গে লাউড স্পিকার বেঁধে দিয়েছে।’

উল্লেখ্য, দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি করলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় গত এপ্রিলে হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মিয়ানমারের বিচার চেয়ে এক রিট দায়ের করা হয়। রিট আবেদন আমলে নিয়ে শুনানির জন্য বিচারক ঠিক করে দেওয়ার পর ১৪ এপ্রিল পাঁচ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানায় মিয়ানমার। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানরত কয়েক হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্য থেকে একটি পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা শুনেছেন তারা। তবে সেই ফিরিয়ে নেওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় নয় বলে জানায় বাংলাদেশ। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরও এই ধরনের কোনও প্রত্যাবাসনের কথা জানে না বলে জানায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ