সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চলনবিলের কৃষকদের স্বস্তির নিঃশ্বাস

সিংড়া (নাটোর) : টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের পানিতে আত্রাই ও নাগরের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়ে নাটোরের সিংড়ার চৌগ্রাম, তাজপুর, ইটালি, ডাহিয়া বিলে ১০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে ডুবে যায় এবং ৫০ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে উপজেলার কৃষকরা শতকরা ৯০ শতাংশ জমির ফসল ঘরে তোলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এবার উপজেলায় ৩৮ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে। এতে করে কৃষকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারছে। বর্তমানে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় চলনবিলের কৃষকদের। এর কারণ হচ্ছে ধান সিদ্ধ-শুকানো এবং খড় শুকানো। সিংড়া পৌর শহরের চকসিংড়া মহল্লার কৃষক মহিদুল ইসলাম বলেন, আমার ধান কাটা প্রায় শেষ,কিন্তু ধান ও খড় শুকানো এখনো হয়নি ফলে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয় লাগে। একই গ্রামের গোলাম হোসেন বলেন, ধান সিদ্ধ করেছি কিন্তু বৃষ্টি হওয়ার কারণে শুকাতে পারছি না। উপজেলার কৈগ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, ধান কাটা শেষ কিন্তু মেঘ-বৃষ্টির কারণে ঠিক মত ধান ও খড় শুকাতে পারছি না।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, উপজেলায় ধান কাটা ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। আমরা সবসময় চলনবিলের কৃষকদের পাশে ছিলাম। সবসময় তাদের পরামর্শ দিয়েছি। অল্প কিছু জমি পানিতে ডুবে গিয়েছিলো তাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এছাড়াও কোনো কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি হলে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে তাদের সহযোগিতা করা হবে। বৃষ্টিতে অল্প কিছু ক্ষতি হলেও এবছর ফসলের ফলন ভালো হয়েছে।
এদিকে সিংড়ায় ভারি বর্ষণে ধান ডুবে যাওয়া এবং খড় শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত রোদের ব্যবস্থা না থাকায় গবাদিপশুর খাদ্যসঙ্কট প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করছে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিস। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে খড়সঙ্কটের কারণে গবাদিপশুর খাবার নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে কৃষকদের। অন্যান্য সময়ে গবাদিপশুকে মাঠের ঘাস খাওয়ানো সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে মাঠজুড়ে আমনের আবাদ হওয়ায় ঘাসের সঙ্কট বিরাজ করবে। এদিকে এ সঙ্কটকে কাজে লাগিয়ে গবাদিপশুর খড়ের দামও উঠতে পারে চরম পর্যায়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ