সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

দেশি মাছ রক্ষায় চলনবিলে অভয়াশ্রম করতে হবে -ভাইস চেয়ারম্যান

মো. শামীম হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিংড়া

সিংড়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান শামীম হোসেন এক সাক্ষাৎকারে জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল। চলনবিলের মাছ খুবই সুস্বাদু। মৎস্য ভান্ডার হিসেবে পরিচিত চলনবিলের মৎস্য ভান্ডার শূন্যের পথে। মিঠা পানির সু-স্বাদু মৎস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল অঞ্চলে ৫০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি প্রায়।
যেসব মাছ বিলুপ্তির পথে সেসব মাছ রক্ষায় চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় অভয়াশ্রম করতে হবে। বেশি পরিমানে মাছের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলে তা রক্ষণাবেক্ষণ করলে চলনবিল তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে বলে মনে করেন তিনি। এতে এ অঞ্চলের মানুষ তাদের দেশীয় মাছের স্বাদ আর পুষ্টি পুরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, সিংড়া উপজেলার শতকরা ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামে যাঁরা বসবাস করেন, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ লোকের এখনো কৃষি খামার বা চাষাবাদ রয়েছে। অন্যদিকে শহরেও শতকরা প্রায় ১১ ভাগ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে যুক্ত।
মোট দেশজ উৎপাদনের হিসাবে জিডিপিতে এখন কৃষিখাতের অবদান শতকরা ১৫.৩৩ ভাগ। এছাড়াও এই কৃষিখাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে ৪৮.১ ভাগ কর্মজীবী মানুষের। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ধীরগতিতে কৃষি প্রধান অর্থনীতি থেকে একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির দেশে পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি বৃহৎ খাতের মধ্যে কৃষির অবদান এখন তৃতীয়।
তিনি মনে করেন, চলনবিলে কৃষির প্রচুর সম্ভাবনা রয়ে গেছে। কৃষিকে আধুনিকায়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘‘শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই চলবে না, কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। কৃষককে ভর্তুকিসহ, উন্নত সার ও বীজের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দেশে কৃষিভিত্তিক শিল্পের ওপর জোর দেয়া।' সিংড়ায় একটি কৃষি বিশ^বিদ্যালয় করতে পারলে কৃষি খাতে আরো উন্নয়ন সম্ভব।
তিনি জানান, অযতœ আর অবহেলায় ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে নাটোরের সিংড়া উপজেলার তিনশ' বছরের পুরনো প্রাচীন ঐতিহ্য স্থাপত্য কলার অন্যতম নিদর্শন চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি। কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ না করায় চলনবিলের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একমাত্র জমিদার বাড়িটি আগাছা বেষ্টিত আছে। ইতিহাস ও প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৭২০ সালে জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে চলনবিলের উত্তর পূর্ব কোণে প্রায় ৪৮ একর জমির উপর ৯টি পুকুরসহ রাজা রামজীবনের দান করা এই জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার রসিক রায়। নাটোর রাজার অধীনে চৌগ্রাম জমিদার বাড়ি ছিল একটি মাত্র পরগণা। এর পিছনে একটি ইতিহাস রয়েছে।
রাজবাড়ি সংস্কার করা হলে অনেক পুরাতন একটা ঐতিহ্য ধরে রাখা সম্ভব এবং এটা সংস্কারের ফলে পর্যটন শিল্পে রূপান্তরিত করা যেতে পারলে আয়ের একটা বড় উৎস তৈরি হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ