বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বসুন্ধরায় অভিযানে গিয়ে বিপাকে শুল্ক গোয়েন্দারা

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার অভিজাত বিপণি বিতান বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে অবৈধ মোবাইল সেট জব্দ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দাদের। গতকাল  শনিবার দুপুরের এই অভিযানে বেশ কিছু মোবাইল সেট জব্দ করা হলে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করে; তারা শুল্ক গোয়েন্দাদের আটকে ফেলে, সড়কেও গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সড়ক ছাড়লেও শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কাজী জিয়াউদ্দিনসহ অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের ছাড়ছিলেন না তারা। বিপাকে পড়ে বিকালে ওই বিপণি বিতানের ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন জিয়াউদ্দিন। দেড় ঘণ্টা আলোচনার পর বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ওই বিপণি বিতান থেকে বেরিয়ে আসেন।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আটক মোবাইলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বৈঠক শেষ হয়েছে।’ অবৈধ মোবাইল সেট জব্দ করতে দুপুর ১২টার দিকে বসুন্ধরা শপিং মলে অভিযানে নেমেছিলেন শুল্ক গোয়েন্দারা। ব্যবসায়ীরা বাধা দিলে র‌্যাব পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে র‌্যাব কর্মকর্তাদেরও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে ব্যবসায়ীরা বিপণি বিতানটির সামনের পান্থপথ থেকে কারওরান বাজারমুখী রাস্তায় অবস্থান নেন। তবে ৩টার দিকে তারা রাস্তা ছাড়েন।
জিয়াউদ্দিন তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘নিয়ম মেনে বসুন্ধরা মার্কেটে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজ পরীক্ষা করে মোবাইল ফেরত দেওয়া হবে।’
তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ কমছিল না। শুল্ক গোয়েন্দারা বিপণি বিতানের পেছন দিক দিয়ে বের হতে চাইলে তাদের আটকে দেন বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা।
আরএম ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী মোফাজ্জেল হোসেন মামুন বলেন, ‘বিনা নোটিসে শুল্ক গোয়েন্দারা আমাদের মোবাইল মার্কেটে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। তারা স্থানীয় পুলিশকে কিছু না জানিয়েই এ অভিযান চালায়। তাই বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের পথ রোধ করে মোবাইলগুলো ফেরত চাইছে।’
ঊষা টেলিকমের মালিক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “৫টা দোকান থেকে ২ কোটি টাকার মালামাল নিয়ে গেছে। তারা আইফোন নিয়ে গিয়েছে। এসময় অন্য মোবাইলের বিষয় জানতেও চায়নি।”
বিক্ষোভরত এক ব্যবসায়ী মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, “প্রতি ঈদের আগেই শুল্ক গোয়েন্দারা এখানে এসে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে। তারা মোবাইল নিয়ে যায় এবং সেগুলো ফেরত দেয় না।” তবে হয়রানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন শুল্ক গোয়েন্দারা।
শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের মহাপরিচালক সহিদুল বলেন, “যারা শুল্ক না দিয়ে অবৈধভাবে মোবাইল কেনা বেচা করে সরকারকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করছে তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এমন অভিযান আরও পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।” তিনি জানান, গতকাল শনিবার উত্তরা, গুলশান ও মহাখালীতে অভিযানে দুই কোটি টাকার ২৬২টি আই ফোন আটক করা হয়েছে। অবৈধভাবে আনা এসব সেট বিক্রিতে জড়িত অভিযোগে নয়জনকে আটক করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ