বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফারাক্কা বাঁধ দিয়ে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে মেরে ফেলা হচ্ছে -ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার : ফারাক্কা বাঁধকে মরণবাঁধ আখ্যায়িত করে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, এই বাঁধ দিয়ে নদীকে শুকিয়ে মারা হয়েছে। ঐতিহাসিক ফারাক্কা লং মার্চ দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভাসানী অনুসারী পরিষদ এর আয়োজন করে।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ফারাক্কা বাঁধ যে মানুষকে মেরে ফেলবে, তা বুঝেছিলেন মওলানা ভাসানী। তিনি ছিলেন সমাজ বিপ্লবী, ছিলেন মেহনতি মানুষের নেতা। সারাটা জীবন মেহনতি মানুষের জন্য রাজনীতি করে গেছেন। আবেদন-নিবেদন করে দাবি আদায় করা যায় না, মন্তব্য করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মওলানা ভাসানী ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লং মার্চ করেছেন। তিনি আরও বলেন, নদী নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলতে হবে, বাঁধ দিয়ে আমাদের মেরে ফেলা হচ্ছে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, পুঁজিবাদের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো জঘন্য চরিত্রের লোক আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায়, নরেন্দ্র মোদির মতো সাম্প্রদায়িক লোক ক্ষমতায়। পুঁজিবাদী শোষণ বেড়ে যাচ্ছে।
ফারাক্কা লংমার্চের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীকে একজন দূর দৃষ্টি সম্পন্ন নেতা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মওলানা ভাসানীই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধীরে ধীরে পানি আগ্রাসনের স্বাকীর হচ্ছে, তাই ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের শুরুতেই তিনি রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। মওলানা ভাসানী ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা লংমার্চের মাধ্যমে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা করে সংকট সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করেন।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার গুলোর নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে আমরা আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বারবার বঞ্চিত হয়েছি। মওলানা ভাসানীর ফারাক্কা লংমার্চ পরবর্তী দীর্ঘ ৪৩ বৎসরে পানি সংকট আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের বৃহত্তর প্রতিবেশী ভারত আন্তজার্তিক নীতিমালা অগ্রাহ্য করে বরাক নদীতে টিপাই মুখ বাধ, তিস্তার উজানে গজলডোবা বাঁধ এবং গঙ্গায় নতুন করে ১৬টি ব্যারেজ নির্মানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণ পক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহী, চাপাই নবাবগঞ্জে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৮-১০ ফুট জায়গা বিশেষে ২৫/৩০ ফুট নীচে নেমে যাওয়ায় পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। এককথায় প্রকৃতি, পরিবেশ জীবনমান সব কিছুই বিপর্যস্থ তাই আসুন সকল বিভেদ বিভাজন ভূলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমার ঐক্যবদ্ধ ভাবে রুখে দাঁড়ানোর অহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় ভাসানী অনুসারী পরিষদের সভাপতি জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, পবিত্র রমযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। ভারত আমাদের প্রতিবেশী হিসেবে থাকুক কিন্তু ভারত যেন বাংলাদেশকে ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত না করতে পারে।
সিনিয়র সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ অভিযোগ করেন, মজলুম জননেতা ভাসানীকে সচেতনভাবে ইতিহাস থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, জাতি যখন তাঁর কৃতী পুরুষকে ভুলে যায়, সেই জাতি কখনো আধুনিক জাতি হিসেবে এগিয়ে যেতে পারে না।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম, ভাসানী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
বক্তারা ভারতের টালবাহানার কারণে পানি বন্টনের একটি চুক্তি অনেক সীমাবন্ধতা নিয়ে হওয়া সত্বেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এবং আমরা আমাদের ন্যায্য হিস্যা পাইনি। ভারত চুক্তির শর্তভঙ্গ করে বারবার বাংলাদেশকে বঞ্চিত করেছে। ২০১২ সালে পানি বন্টনের আশ্বাস নিয়ে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরে এসে ও পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রীর আপত্তির অজুহাতে বিষয়টি আজ অবদি অমীমাংশিত রয়ে গেল। এখন বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের পানি ন্যায্য হিস্যা প্রাপ্তি নিশ্চিত না করলে আমাদের কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ