বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে -ড. মোশাররফ

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে নাগরিক আন্দোলন ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : গণআন্দোলনের মুখে পড়ে সরকার সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একইসাথে পবিত্র রমযানে সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম নামে একটি সংগঠন এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলন ঘোষণা দিয়ে হয় না। কোটা আন্দোলন দেখুন। কোনো নেতাও ছিল না। সময় আসছে। জনগণ আর আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে না। নিজেরাই রাস্তায় নেমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নেবে। সরকার তখন গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে। আর খালেদা জিয়া, বিএনপি এবং ২০ দল ছাড়া দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না।
বিএনপির এই নীতি-নির্ধারক বলেন, খালোদা জিয়াকে মাইনাস করে যে নির্বাচনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। জনগণ তা মেনে নেবে না। জনগণের সঙ্গে বার বার প্রতারণা করা যায় না। দেশের জনগণ অত্যন্ত সচেতন। বার বার প্রতারিত হবে না। যদি ২০১৪ সালের পথে আওয়ামী লীগ হাঁটে জনগণ তা রোধ করবে। যারা মনে করছেন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতায় টিকে থাকবেন তা ভুলে যান। জনগণ রাস্তায় নামলে টিকতে পারবেন না। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, গণতন্ত্রের মুক্তি, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য গণআন্দোলনে কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ।
রোজায় নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করে সাবেক এই স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমযান মাসেও বাজার নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে সরকার। রোজায় প্রতিবছরই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। সরকারের পক্ষ থেকে তদারকির কথা বলা হলেও এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
তিনি বলেন, রোজার আগে প্রত্যেকটি নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কত ছিল? আর আজকে দ্বিতীয় দিনে কত হয়েছে? অনেক পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই। পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে তারা।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ীদেরকে অবৈধ সুযোগ সুবিধা দেওয়া এই পরিমাণ করেছে যে, কোনো কিছুর ওপর এই সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তাদের কোনো চেইন অব কমান্ড নেই। এই সরকারের কোনো দায়িত্ববোধও নেই।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের সমালোচনা করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি বলেছিলেন, রমযানে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে না। অথচ রমযানের দু’দিনের মধ্যে সব বেড়ে গেছে। তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। কারণ তাদের কোনো চেইন অব কমান্ড নেই।
সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত স্বৈরাচার সরকারের কবল থেকে মুক্তি পেতে হলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। আমাদের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বলছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে হবে। আর খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যদি অংশ না নেয় সেটা কখনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, হাইকোর্ট জামিন দিল, আপিল বিভাগও জামিন দিল। কিন্তু অন্য মামলাগুলো নিয়ে যেভাবে পরিকল্পনা করছে সরকার সেটিই বাস্তবায়ন করছে। যদি খালেদা জিয়াকে বন্দী রেখে নির্বাচন করতে চায় সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। জনগণ তা মেনে নেবে না।
ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হইয়ে গেছে উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। তাই ব্যংকগুলো আজ দেউলিয়া। এফবিআই-এর তদন্তে এসেছে রিজার্ভ লুট হয়েছে সরকারের লোকজনের সহযোগিতায়। এদেশের শেয়ার মার্কেট ধ্বংস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নিজে সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন- শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির তদন্তে এমন কিছু মানুষের নাম এসেছে তাদের হাত আমার থেকেও লম্বা।
এই সরকার সব দলকে বাইরে রেখে নির্বাচন করতে চায় দাবি করে এই বিএনপি নেতা আরও বলেছেন, এদেশের জনগণের ঘাড়ে যেভাবে নির্বাচন ছাড়া একটি স্বৈরাচার সরকার চেপে বসেছে, এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন জরুরি। আর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণ জরুরি। যার জন্য আজকে জনগণও চাচ্ছে- আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে হতে হবে। এদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব, আমরা দেখেছি। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বলেছিলেন- দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না। তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ৪টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। আজকে খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে নির্বাচনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা এদেশের জনগণ মেনে নেবে না।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দীন আলম, আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতুল্লাহ, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ