বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চলমান সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন

গতকাল শনিবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র উদ্যোগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হবার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশ এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। দেশের জনগণ এখন চরম দু:সময় কাটাচ্ছে। সবাই এর থেকে পরিত্রাণ চায়। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তোরণে আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। নিজেদের অধিকার নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত করি। গতকাল শনিবার রাজধানীর লেডিসক্লাবে রাজনীতিবিদদের সম্মানে বিএনপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চেয়ারটি ফাঁকা রেখেই অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ রাজনীতিবিদদের নিয়ে ঢাকার লেডিস ক্লাবে ইফতার করলেন বিএনপি নেতারা। দ্বিতীয় রোজায় বিএনপির এই আয়োজনে দলীয় চেয়ারপার্সনের অনুপস্থিতি মঞ্চে রাজনীতিবিদদের পাশে তার আসন শূন্য রাখা হয়। মঞ্চে খালেদা জিয়ার শূণ্য চেয়ারের এক পাশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। বিএনপি আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল শীর্ষ নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ইফতারের আগে বিএনপি ও জোটের সিনিয়র নেতারা একে অপরের সাথে কুশলাদি বিনিময় করেন।
অতিথি সারিতে বসে ইফতার করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বীরপ্রতীক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি‘র আসম আবদুর রব, তার স্ত্রী তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবুল মালেক রতন,  নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক।
ইফতারে মঞ্চে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
ইফতারে মূল মঞ্চে ২০ দলীয় জোটে মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারোয়ার, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, কল্যাণ পার্টিল মেজর জেনারেল অব, সৈয়দ মোহাম্মদ ইরবরাহীম, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারসহ জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতিবিদদের স্বাগত জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বলেন, ইফতারে আসার জন্য আমি জাতীয় নেতৃবৃন্দকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রতি বছর আমরা এই ইফতারের আয়োজন করি। এই ইফতারের কেন্দ্র বিন্দুতে থাকেন আমাদের নেত্রী, ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আজকে তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত নেই। তিনি এই সরকারের ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠে আজকে তাকে ইফতার করতে হচ্ছে।  আমরা সবাই সেজন্য আজকে ভরাক্রান্ত।
 দেশের এই দুঃসময়, গণতন্ত্রের চরম সংকটে আমরা সবাই প্রত্যাশা করি যে, আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ মূল্যবান অবদান রাখবেন এবং সংকট উত্তরণে তারা নেতৃত্ব দেবেন। আমরা মনে করি এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবার জন্য আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের সকলের প্রতি আমাদের উদার্ত আহবান থাকবে দেশের প্রয়োজনে আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিা করি।
 দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করলেন বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সভাপতি বি চৌধুরী বলেন, আজকে বিএনপির নেতারা বেশি না হলেও কর্মীদের ভয়ে বুক কাঁপে ধুর ধুর করে। কাঁপবে না কেনো? তারা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। কি হবে যদি আবার সরকারি দল ক্ষমতায় আসে- এবারে আমাদের কি হবে? এটা স্বাভাবিক শঙ্কা। অভিজ্ঞতায় বলে খুব সুবিধা হবে না। একইভাবে সরকারের কিছু কিছু রাজনৈতিক কর্মী আমার কাছে আসছেন তাদেরও বুক কাঁপে। যদি বিএনপি আসে তাহলে তাদের কি হবে? এটা কী খুব ভালো কথা, এটা কী রাজনীতির জন্য শুভ, এটা কী দেশের ভবিষ্যতের জন্য শুভ? এটা কী ইংগিত নয় যে, আমার একটা পর্যায় যেতে পারে দেশ যেখানে মানুষ মানুষকে হত্যা করে, নিগৃত করবে, জেলে দেবে, আগুন জ্বালিয়ে দেবে। কিন্তু থামাবে কে? আমি চিন্তার খোরাক দিয়ে গেলাম।
তিনি বলেন, এমন একটা শক্তি দরকার যে ওদিকেও কনট্রোল করতে পারে, এদিকেও কনট্রোল করতে পারে। তারা যদি উঠে আসতে পারে। বলে দেয়- তোমরা যদি একটা মানুষের গায়ে হাত দাও তাহলে সমর্থন উইথ ড্র করবো, গোল্লায় যাও, বিরোধী দলে যাও। এটাও বলবে, ওটাও বলবে। একমাত্র তাহলেই দেশ রক্ষা পেতে পারে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমাদের দেশে যেন সেরকম দুযোর্গ না আসে। আমরা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবে ভালো ভাবতে শিখি।
ইফতারে ২০ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুর রব ও  মোবারক হোসেন,  ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, মাওলানা আবদুল করীম, বিজেপি‘র আবদুল মতিন সউদ, জাতীয় পার্টি(কাজী জাফর) এসএমএম আলম, আহসান হাবিব লিংকন, এলডিপির সাহাদাত হোসেন সেলিম, কল্যাণ পার্টির এম এম আমিনুর রহমান, শাহিদুল রহমান তামান্না, জাগপার রেহানা প্রধান, খন্দকার লুৎফর রহমান, আসাদুর রহমান খান, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপির খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, লেবার পার্টির দুই অংশের মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, হামদুল্লাহ আল মেহেদি, মুসলিম লীগের  এএইচএম কামরুজ্জামান খান, শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী,  ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম,বাংলাদেশ ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ,পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ইসলামিক পার্টির আবু তাহের চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের দুই অংশের মাওলানা নুর হোসাইন কাশেমী, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির আবদুল্লাহ আল নোমান, কামাল ইবনে ইউসুফ, শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান,  বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল মান্নান, আমীনুল হক, জয়নাল আবেদীন, রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, গোলাম আকবর খন্দকার, জিয়াউর রহমান খান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আনহ আখতার হোসেইন, সুজাউদ্দিন, আবদুল কাইয়ুম, শাহিদা রফিক, নজমুল হক নান্নু, আব্দুল কুদ্দুস, মামুন আহমেদ, এনামুল হক চৌধুরী, ফরহাদ হালিম ডোনার, জিএম ফজলুল হক, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল,খায়রুল কবির খোকন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদ, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, শিরিন সুলতানা, হারুনুর রশীদ, কায়সার কামাল, ফাওয়াজ  হোসেন শুভ, এবিএম মোশাররফ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, নাজিমউদ্দিন আলম, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন, আবদুস সালাম আজাদ,আবদুল বারী ড্যানি, শহিদুল ইসলাম বাবুল, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, আনোয়ার হোসেইন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, হাফেজ আব্দুল মালেক, শাহ মো. নেসারুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী নজরুল ইসলাম মনজুও ইফতারে ছিলেন।
ইফতারের আগে কারাবন্দী অসুস্থ খালেদা জিয়ার মুক্তি ও লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আরোগ্য লাভসহ দেশে অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এদিকে আজ রোববার বাংলাদেশে অবস্থানরত কুটনৈতিকদের সন্মানে ইফতারের আয়োজন করেছে বিএনপি। রাজধানী গুলশানে অবস্থিত হোটেল ওয়েস্টিনে এই ইফতা অনুষ্ঠিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ