বৃহস্পতিবার ০৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সুন্দরবন না থাকলে বাংলাদেশের উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়বে

স্টাফ রিপোর্টার : বিদ্যুৎ বিভাগের করা বিদ্যুতের ‘মহাপরিকল্পনা ২০১৬’-এ যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে বেশি বলে মনে করে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সংগঠনটির মতে, মানুষের পাশাপাশি ক্ষতি হবে পরিবেশেরও। সেখানে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ না করে শুধুই ব্যবসার কথা চিন্তা করা হয়েছে। তাই গোঁজামিল দেওয়া এই বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা (পিএসএমপি) ২০১৬ বাতিলের দাবি করেছে জাতীয় কমিটি।
গতকাল শনিবার পল্টনের মুক্তি ভবনে ‘বিকল্প প্রস্তাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই দাবি জানানো হয়েছে।   মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন জুলফিকার আলী। বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহম্মদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোসায়েদা সুলতানা, বজলুর ফিরোজসহ অন্যরা। আকবর খানের সঞ্চালনায় সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন মওদুদ রহমান।
মওদুদ রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান (পিএসএমপি) করেছে। যেটি গোঁজামিল দেওয়া একটি পরিকল্পনা । তাতে বলা হয়, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুতের যে চাহিদা হবে, তার মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট ও পারমাণবিক বিদ্যুৎেকেন্দ্র থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করতে হবে। আসলে জাতীয় কমিটি যাচাই করে দেখেছে যে, এক্ষেত্রে কয়লা দিয়ে ১১ হাজার ও পারমাণবিক থেকে মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে।
 তিনি বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির যে লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে, তাতে আমদানি করা বিদ্যুতের কথাই বলেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু জাতীয় কমিটি মনে করে দেশের ভেতরেই এই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। পিএসএমপি অনুযায়ী, দেশের বায়ু, জল ও সৌর বিদ্যুতের কোনও দরকারই নেই এই সরকারের।’
আনু মুহম্মদ বলেন, ‘এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ঋণগ্রস্ততা, পরিবেশ ধ্বংসসহ মহাবিপদের ঝুঁকির মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে যাচ্ছে সরকার। গত আট বছর ধরে প্রকল্পগুলো বাতিলের আন্দোলন করে যাচ্ছি। কিন্তু কিছুতেই সরকার পিছিয়ে আসছে না। গুটিকয়েক ব্যবসায়ীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশের এই বড় ক্ষতি করতে যাচ্ছে তারা।
 তিনি বলেন, ‘সুন্দরবন না থাকলে বাংলাদেশের উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়বে। এদিকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সেই জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করছি আমরা। কিন্তু সেই ক্ষতি ঠেকাতে সুন্দরবন আমাদের বড় জায়গা হলেও আমরা সেই সুন্দরবনকেই ধ্বংস করতে চলেছি। সুন্দরবনের আশেপাশেই একের পর এক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের চুক্তি করছে সরকার।’
জাতীয় কমিটি কখনও বলেনি যে, বিদ্যুৎ লাগবে না উল্লেখ করে আনু মুহম্মদ বলেন, ‘উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎ পরিবেশ ধ্বংস করে হতে পারে না। আরও অনেক বিকল্প পদ্ধতি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দেশের পুরো বিদ্যুতের চাহিদা নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়েই পূরণ করা সম্ভব। এজন্য দেশের মাত্র একভাগ জমি লাগবে। ফলে জমি নেই বলে সরকার যে অজুহাত দেখাচ্ছে, তাও গ্রহণযোগ্য নয়। বায়ু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের উপকূল খুবই উপযোগী। কিন্তু সরকার সেখানে উইন্ড ম্যাপিং করতেই চাচ্ছে না। এসব প্রকল্প নিয়ে সরকারের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা থেকে জনগণকে সরিয়ে আনতে হবে। তাদের জানাতে হবে প্রকৃত সত্য। সেজন্য আাগামী কয়েক মাস আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপুর্ণ। যেভাবেই হোক পিএসএমপি বাতিল করতে হবে সরকারকে। বাতিল করতে হবে রামপাল ও রূপপুরের মতো ক্ষতিকারক প্রকল্পগুলো। সেক্ষেত্রে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চলবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ