বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে বাজার সয়লাব

ইবরাহীম খলিল : দেখলে মনে হবে পুরোপুরি পাকা আম। বিক্রির সময় দেওয়া হচ্ছে মিষ্টির নিশ্চয়তা। কিন্তু আসলে বাজারে এখন যেসব পাকা আম পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো পরিপক্ক না। আবার বেশি মিষ্টিও না। অনেকটা টক এবং ফ্যাকাসে। কিন্তু রমযানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ক আম বাজারে বিক্রি করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে এখন যেসব আম পাওয়া যাচ্ছে তা ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ইথোফেন নামক রাসায়নিক দিয়ে পাকানো এবং রং করা। আগামি ১০ থেকে ১৫ দিন পর আম কিনে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর ফুটপাত থেকে শুরু করে কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, মিরপুর ১০ নম্বর ফলপট্টি, শেওড়াপাড়া ফলবাজার, পুরানা পল্টন, হাতিরপুল, পলাশীবাজারসহ সব বাজারেই এখন কার্বাইড দিয়ে পাকানো আম বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর সবচেয়ে বড় ফলের আড়ৎ বাদামতলীতে প্রতিদিনই শত শত ট্রাক ভর্তি আম আসছে। মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের পশ্চিম পাশের ফল বিক্রেতা কাঞ্চন মিয়া বলেন, সবাই পাকা আম খুঁজছেন। ২৮০ টাকা কেজিতে আম বিক্রি করছি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর হাটবাজার অলিতেগলিতে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে সয়লাব হয়ে গেছে। হলুদ টকটকে আম দেখে মানুষ নিয়ে যাচ্ছে। ক্রেতাদের দেওয়া হচ্ছে কড়া মিষ্টির নিশ্চয়তা। পরীক্ষা করে দেখা যায় এসব আম পরিপক্কতা আসেনি। উপর থেকে পাকা মনে হলেও ভেতরে ঠিক মতো পাকেনি। ভেতরে আটিও পরিপক্ক হয়নি। এসব আম খেয়ে অসুস্থ হওয়ার উপক্রম দেখা দেবে মানুষের। পাশাপাশি মানব দেহে ভয়াবহ ক্ষতি ডেকে আনবে।
গত কয়েকদিন ধরে বিএসটিআই এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে আমে ক্ষতিকর পদার্থের অস্তিত্ব পেয়েছে। 
বিএসটিআই জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে আসা আম বাইরে হলুদ ও পাকা মনে হলেও ভেতরে কাঁচা। স্বাদে টক। গাছ থেকে অপরিপক্ব অবস্থায় পাড়া হয়েছে। এছাড়া আম পরীক্ষা করে ইথোফেন হরমোন স্প্রে করার প্রমাণ পায়। তারা বলছেন, এগুলো পরিপক্ব হতে আরও ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে।
প্রসঙ্গত, ইথোফেন হরমোন স্প্রে মূলত জমিতে ব্যবহার করা হয়। ইথোফেনযুক্ত আম খাওয়া হলে ডায়রিয়া পেটের লিভারের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন হরমোন মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।
দেশের জেলাগুলোর মধ্যে সাতক্ষীরার আম বাজারে আগে আসে। কিন্তু রমযানে বেশি দাম পাওয়ার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী লোভে বেশি মুনাফার আশায় অপরিপক্ব আমকে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য দিয়ে পাকাচ্ছে। এতে করে তারা শুধু মানুষের শারীরিক ক্ষতি করছে না, দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতিও করছে।
‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, আগামী ২০ মে থেকে বাজারে আসবে সব ধরনের গুটি আম। এরপর ২৫ মে গোপালভোগ, হিমসাগর ও ক্ষিরসাপাতি ২৮ মে বাজারে আসবে। আগামী ১ জুন লক্ষণভোগ, ৫ জুন ল্যাংড়া ও বোম্বায়, ১৫ জুন আমরূপালি, ফজলি ও সুরমা ফজলি বাজারে আসবে। আশ্বিনা আম আসবে ১ জুলাই থেকে।
খাদ্যবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা যায়, বিভিন্ন ফলে পর্যায়ক্রমে মেশানো হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইড, কার্বাইড ও ফরমালিনের মতো রাসায়নিক। তাই বাজার থেকে ফল কেনার আগে সাবধান হতে বলছেন পুষ্টিবিদরা।
পুষ্টিবিদ ড. আশুতোষ মন্ডল এখন পাকা আম না খেয়ে কাঁচা আম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, কাঁচা আমে আছে প্রচুর পুষ্টি। আছে ক্যারোটিনয়েড, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি সিক্স ও ভিটামিন বি টুয়েলভ। এতে আছে ১৭ রকমের অ্যামাইনো এসিড। কাঁচা আমের আঁশ পাকস্থলিসহ পেটের অন্যান্য অঙ্গ ভালো রাখে। কাঁচা আম চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তিনি আরও জানান, কাঁচা আমে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য ভীষণ দরকারি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ