বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

‘২০২১ সালে তৃতীয় পায়রা বন্দর আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর হিসেবে চালু হবে’

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: আগামি ২০২১ সাল থেকে পায়রা বন্দরকে আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দর হিসেবে চালু করার ঘোষণা দিলেন পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডার এম জাহাঙ্গীর আলম এনইউপি, এনডিসি, পিএসসি। বৃহস্পতিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিংএ গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ৬৫০ মিটার দীর্ঘ একটি জেটিসহ টার্মিনাল নির্মাণের জন্য তিন হাজার নয় শত ৮২ টাকার ডিপিপিটি নৌমন্ত্রণালয়ে প্রেরন করা হয়েছে। ক্যাপিটাল এন্ড মেইনটেনেন্স ড্রেজিং, কয়লা টার্মিনাল এবং জিওবি অর্থায়নে ২০২০ সালের মধ্যে এসব সম্পন্ন করা হবে। বন্দর চেয়ারম্যান জানান, পায়রা বন্দরের মূল চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পটি এবছরের ১৯ মার্চ মন্ত্রীসভা কর্তৃক জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প অর্থাৎ এনপিপি হিসেবে ঘোষণা করেছে। জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নবেম্বর মাসের মধ্যে এই ক্যাপিটাল ড্রেজিংএর কাজ শুরু হবে। ক্যাপিটাল ড্রেজিং সম্পন্ন হলে এই বন্দরের মূল চ্যানেলের গভীরতা থাকবে ১৪ দশমিক পাঁচ মিটার। দশটি ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্টের মধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দর একটি। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন এখন ৩২ একরে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে জমি অধিগ্রহণকৃত সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে পুনর্বাসনের ১৪ টি প্যাকেজের প্রথম প্যাকেজের কাজ দ্রত শুরু করা হবে। মোট ৪৯৩ একর জমিতে পুনর্বাসন কাজ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসনে ১০৫৯ কোটি টাকা এবং তাদের প্রশিক্ষণে ২৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই প্যাকেজে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ১৮-৩৫ বছরের সদস্যদের ৪২০০ জনকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৩৫ ক্যাটাগরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। যেখানে কম্পিউটার বেসিক, পোশাক তৈরি, বিউটিফিকেশন, ইলেকট্রনিক্স, ড্রাইভিং, রাজমিস্ত্রি, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং। এছাড়া আরও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকছে। বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, পায়রা বন্দর নির্মাণে স্বল্প মেয়াদী কার্যক্রম প্রায় শেষ হয়েছে। এখন চলছে মধ্য মেয়াদী কার্যক্রম। এরপরে দীর্ঘমেয়াদী কার্যক্রম। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, এই বন্দর থেকে ২০২৫ সালে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বাণিজ্য মেটানো সম্ভব হবে। মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে পণ্যখালাশ করতে পায়রা বন্দর ব্যবহারে প্রতি টণ পণ্যে কমপক্ষে ছয় ডলার খরচ কম হবে। মোট কথা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকটা নির্ভরশীল থাকবে পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে। এপর্যন্ত এ বন্দর থেকে ২০টি জাহাজ পণ্য খালাশ করায় সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।
এছাড়া বন্দর আয় করেছে প্রায় তিন কোটি টাকা। চেয়ারম্যান জানান, পায়রা বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকার অনুমোদিত লোকবলের ১৭৮টি পদের বিপরীতে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কতেক লোকবল যোগদান করেছে বলে জানান। পায়রা বন্দর প্রকল্পের অফিসের কনফারেন্স কক্ষে ব্রিফিংকালে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মহিউদ্দিন আহমেদ খানসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইতোমধ্যে পায়রা বন্দর প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নের কথা ব্রিফ করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ