বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারী বর্ষণে যমুনার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন ॥ জনমনে আতঙ্ক

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা নদীর তীরবর্তী ভাটপাড়া পয়েন্টে সিটি ব্লকে ধস

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে যমুনা তীরবর্তী কৈজুরী ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বসতভিটা আর ফসলী জমিগুলো নদী ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যমুনা নদী ছাড়াও করতোয়া, হুরাসাগর নদীর তীরবর্তী এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গন তীব্র হচ্ছে। ফলে নদী তীরের মানুষের যেন দুঃখের শেষ নেই। ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় সহসাই বন্ধ হচ্ছে না ভাঙ্গন। হাট পাঁচিল, ভেকা, ভাটপাড়া, জগতলা, গালা এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে এই ভাঙ্গন সংঘটিত হচ্ছে। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে অনেক নিম্নাঞ্চল এবং এলাকার আবাদী ফসল তলিয়ে গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কৈজুরী ইউনিয়নের গত ১ সপ্তাহ পূর্বে যে জায়গা বিশাল মরুভূমির মতো ছিল সে জায়গা এখন বৃষ্টির পানিতে নতুন করে সে সব এলাকা তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে আগাম বন্যার বার্তা বহন করে আসছে।
এ কারণে ভাটপাড়া গ্রামে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এলাকার বাঁধের অনেক সিসি ব্লক ধ্বসে পড়তে দেখা গেছে। যার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।  স্থানীয় এলাকাবাসী তাপস কুমার নন্দী জানান, টানা বর্ষণে মাটি ক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এতে করে সাধারণ মানুষের মনে ভাঙ্গন আতঙ্ক নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় থাকতে দেখা গেছে। এ ভাঙ্গন রক্ষা করতে না পাড়লে অনেক গ্রাম রাক্ষুসী যমুনা গিলে খাবে।
কৈজুরী ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণে এই ইউনিয়নের অনেক নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে এবং বৃষ্টির কারণে ভাটপাড়া গ্রামে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত বছরের বন্যায় অনেক গ্রাম ভাঙ্গনে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
অনেক পরিবার ভিটামাটি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। অপরদিকে, বর্ষণের কারণে কয়েক’শ বিঘা আবাদী ফসল তলিয়ে গেছে। উল্লেখ্য গত ২ যুগের যমুনা নদীর ভাঙ্গনে ক্রমশ ছোট হয়ে আছে শাহজাদপুরের মানচিত্র। এবং নদী ভাঙ্গনে ৫০টির বেশি গ্রাম নদী গর্ভে বিলীণ হওয়ার পাশাপাশি গৃহহারা হয়েছে ২ লক্ষাধিক মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ