বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র

১১ মে, বিবিসি : ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছয় ইরানি ও তিন কোম্পানির ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নতুন এ নিষেধাজ্ঞা দিল। মার্কিন ডলারে আইআরজিসির প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে সহায়তা করায় ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও এ নিষেধাজ্ঞায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। যেসব ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, ট্রেজারি বিভাগ তাদের নাম প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এই ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোই আইআরজিসির জন্য মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করছে। যা দিয়ে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রভাব বিস্তার ও ‘ক্ষতিকারক কার্যক্রম’ চালাচ্ছে; ওই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতেই যুক্তরাষ্ট্রের এ শাস্তি, জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন ম্নুচিন।

পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিতে ৯০ থেকে ১৮০ বা এর চেয়েও বেশি দিন লাগতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

তার আগেই আইআরজিসির সঙ্গে সম্পর্কের অজুহাতে ছয় ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানের ওপর এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা তেহরানের ওপর চাপ বাড়াবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবেন না মার্কিন নাগরিকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিষেধাজ্ঞায় থাকা ব্যক্তি ও কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্যে বাধা দেওয়া হবে।

“আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থ ও অস্ত্র দেওয়াসহ আইআরজিসির নানা ধরনের ক্ষতিকারক কার্যক্রমে সহায়তা করতে ইরানের শাসকগোষ্ঠী ও এর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে মার্কিন ডলার সংগ্রহ করছিল। আইআরজিসির রাজস্বের উৎস ও গন্তব্যের প্রবাহ বন্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্যে,” বিবৃতিতে বলেন ম্নুচিন।

ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতিরক্ষায় ১৯৭৯ সালে আইআরজিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ইরানের অন্যতম বৃহৎ সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাহিনী।

বৃহস্পতিবার আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সুনির্দিষ্টভাবে আইআরজিসির বিদেশি শাখা কুদস ফোর্সকেই লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ট্রাম্প এই কুদস ফোর্সকে ‘দূর্নীতিগ্রস্ত সন্ত্রাসী বাহিনী ও মিলিশিয়া’ অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। গত বছরের অক্টোবরেও তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে তেহরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণা দেন।

জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে তেহরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টানতে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ স্থায়ী সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে দশ বছর মেয়াদী একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল ইরান।

চুক্তি অনুযায়ী গত তিন বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার পাশাপাশি তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও পরিদর্শকদেরও নিয়মিত অনুমতি দিয়ে এসেছে।

বারাক ওবামা আমলে স্বাক্ষর হওয়া ওই চুক্তি নিয়ে প্রথম থেকেই সমালোচনা মুখর ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার এক ঘোষণায় চুক্তিটি ‘ক্ষয়ে ও পচে গেছে’ উল্লেখ করে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসা এবং ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে জানান এ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট। 

চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো বলছে, তারা এখনও চুক্তির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে আসাকে ‘ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কোনো অভিপ্রায় নেই যুক্তরাজ্যের।

জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মেরকেল বলেছেন, তার দেশ ভবিষ্যতেও ইরানকে এ চুক্তির বাধ্যবাধকতার মধ্যে রাখতে যা যা করার দরকার, তা করবে।

ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে হওয়া চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ায় ‘গভীর হতাশার’ কথা জানিয়েছে রাশিয়া।

তুলনামূলক সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলছেন, তিনি চুক্তিটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন। রুহানির আমলেই ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে এই জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) স্বাক্ষরিত হয়।

শেষ পর্যন্ত চুক্তি বাঁচানো না গেলে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ ফের শুরু করতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ