শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০
Online Edition

আকাশে মেঘ হলেই কর্মকর্তাদের চোখ ঘোলা হয়ে আসে -বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: ভবিষ্যৎ উন্নত বাংলাদেশের জন্য আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার দিকে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিটের প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তাতে লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর না হওয়ায় এখন একটু বৃষ্টি হলেই লোডশেডিং হচ্ছে।
“আকাশে মেঘ হলেই বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের চোখ ঘোলা হয়ে আসে।” তিনি ভবিষ্যৎ উন্নত বাংলাদেশের জন্য পরিকল্পিতভাবে স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা উন্নয়নে কর্মকান্ড  গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ট্রাডিশনাল সিস্টেম থেকে বের হয়ে আসতে হবে। টেকনোলজি এবং অটোমেশনে যেতেই হবে। আপনারা যত দেরী করবেন তত লস করবেন।
“বর্তমান ট্রান্সফরমারভিত্তিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা ভবিষ্যতের বাংলাদেশে চলবে না। যেভাবে আপানারা মেন্টেইন্যান্স করছেন, চলবে না। এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যেভাবে আপনারা কাস্টমার সার্ভিস দিচ্ছেন চলবে না। যেভাবে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউশনগুলোতে ম্যানেজ করতেছেন তা ফাইন টিউনিংয়ে না গেলে চলবে না। টেকসই শিল্পায়নের জন্যও নিরবচ্ছিন্নবিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি জানান।
“আমরা এখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে না পারায় ব্যবসায়ীরা ক্যাপটিভ পাওয়ারের দিকে ঝুঁকছে। তারা বলছে- ‘আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দরকার’। কারণ তাদের লস হচ্ছে। লস হলে সে আমার বিদ্যুৎ কেন নেবে? তারা যদি বিদ্যুৎ না নেয় তাহলে সরকার এতো বিদ্যুৎ যে উৎপাদন করছে এই বিদ্যুৎ আমরা কি করব? তাই সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া কোনো উপায় নেই বলে জানান তিনি।
সিলেট মহাসড়কের পাশে একটি সঞ্চালন লাইনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সিলেট মহাসড়কের পাশে মাটির নীচে পল্লী বিদ্যুতের একটি সাবস্টেশন বসানো হয়েছে। কিন্তু এখন সিলেট মহাসড়ক ফোর লেইন হবে। এখন ওই সাবস্টেশন আবার খুঁজে বের করে এখন কোথায় বসাবেন? অথচ এই সড়ক বড় হতে পারে, প্রথমবারেই সে পরিকল্পনা নিয়ে যদি কাজটা করা হত তাহলে আজকে এই সমস্যায় পড়তে হত না। বিশেষজ্ঞ তৈরির জন্য তরুণ কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করারও নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ বিভাগের বাংলাদেশ পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটও দক্ষ জনবল তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের মধ্যে আরও এক হাজার মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ