সোমবার ১০ আগস্ট ২০২০
Online Edition

কালো টাকা সাদা করা সমর্থন করে না ডিসিসিআই

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি মো. আবুল কাসেম খান বলেছেন, কালো টাকা সাদা করাকে আমরা সমর্থন করি না। তবে বৈধভাবে উপার্জন করা অর্থ অনেক সময় দেখানো হয় না। এটি বেশি ট্যাক্স দিয়ে পরিশোধের সুবিধা থাকা উচিত। যেটি অবৈধ সেটাকে বৈধ করার সুযোগ ডিসিসিআই সমর্থন করে না। এটা করার সুযোগ দিলে নিয়মতি কর প্রদানকারীরা আগ্রহ হারাবে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া সুশাসনের পরিপন্থী।
গতকাল শনিবার মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক বাজেট সংবাদ সম্মেলন তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইর সহ-সভাপতি রিয়াদ হোসেন, পরিচালক রেজাউল করিম প্রমুখ।
আবুল কাসেম খান বলেন, খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উদ্যোগ নিতে হবে। খেলাপি ঋণ সমস্যা সৃষ্টি করে। ছোট ঋণ দেয়ার সময় যেসব নিয়ম মানা হয় বড় ঋণের ক্ষেত্রেও সে বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। এ বিষয়ে এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে উদ্যোগ নিতে হবে। ঋণ খেলাপিদের একটি নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। যে ঋণ দেয়া হচ্ছে এটি আদায় হবে কিনা ব্যাংকগুলোকে তা নিশ্চিত হতে হবে।
তিনি বলেন, অনিয়ম দুর্নীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যে সব ব্যাংক ব্যবসা পরিচালনায় ব্যর্থ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা না করাই ভালো। এতে যারা ভালোভাবে ব্যবসা করছে তারা উৎসাহ হারাবেন। আমাদের সব সময় ভালো-খারাপের পার্থক্য রাখতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলএনজি গ্যাসের দাম যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, আন্তর্জাতিক বাজার অনুযায়ী দাম নির্ধারণ না করে সরকার এই খাতে ভর্তুকি দেবে। বর্তমানে দেশে যে দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দাম নির্ধারণ করতে হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে করপোরেট কর হার কমানোর দাবি করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী আগামী তিন বছরে করপোরেট করের হার পর্যায়ক্রমে ১০ শতাংশ কমিয়ে আনার পরামর্শ দেন।
আবুল কাসেম বলেন, বাংলাদেশে করপোরেট করের হার অনেক বেশি। বেসরকারি এবং বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে আসন্ন বাজেটে এই কর কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ কমানো দরকার। সেইসঙ্গে পরের দুই অর্থবছরে আরও পাঁচ শতাংশ কমানো যেতে পারে। তাতে ব্যবসায়ীরা আরও বেশি বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। বিনিয়োগ বাড়লে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চট্টগ্রাম বন্দরকর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো, যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেন থেকে আট লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি। আগামী বাজেটে অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে, আগামী বাজেটে ৪১টি প্রস্তাব তুলে ধরে ডিসিসিআই। এর মধ্যে করমুক্ত ব্যক্তি আয়কর সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে আড়াই লাখ থেকে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হলে ১০ শতাংশ কর দিতে হয়। চার লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয় হলে ১৫ শতাংশ, পাঁচ লাখ থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত ২০ শতাংশ এবং ছয় থেকে ৩০ লাখ পর্যন্ত ২৫ শতাংশ এবং ৩০ লাখের বেশি হলে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে প্রতিটি ক্ষেত্রে কর পাঁচ শতাংশ কমিয়ে আনলে মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে।
ডিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে ব্যবসা করতে হলে আগে তিন বছর ভালো ব্যবসা করে দেখাতে হবে। এর আগে টাকা সংগ্রহের কোনো উপায় নেই। আর তিন বছর পরে সেটা সম্ভব হচ্ছে কিনা তাও বলা মুশকিল। এতে এ ধরনের কোম্পানিগুলোর ব্যবসাও বাড়ানো সম্ভব হয় না। তাই বাজেটে মেগা প্রকল্পসহ গ্রিন ফিল্ড কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে একটি পলিসি তৈরির প্রস্তাব করছি। যাতে তারা তিন বছরের আগেই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ