বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

২০ দলীয় জোটের আরো ৫ নেতা গ্রেফতার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ

গাজীপুর সংবাদদাতা : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীদেরকে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশের এই ধড়পাকড়ে নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ বাড়ছে। শুক্রবার রাতে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আবজাল হোসাইনসহ ২০দলীয় জোটের ৫ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে মহানগর জামায়াতের আমীরসহ ৪৫জনকে আটক করে পুলিশ। এই ধরপাড়কের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোট মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি খায়রুল হাসানসহ নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, অবিলম্বে ধরপাকড় বন্ধ করে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করাতে হবে। তারা আরো বলেন, ২০দলীয় জোট প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ এখন অপপ্রচার ও নির্বাচনী মাঠে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে। ধরপাকর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোন লাভ হবে না, কোন অবস্থাতেই আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না।
ধানের শীষের মিডিয়া সেলের প্রধান বিএনপির কেন্দ্রীয় নেসতা ডা মাজহারুল আলম জানান, গাজীপুর ডিবি পুলিশ শুক্রবার রাত ৯টায় টঙ্গী চেরাগ আলী মার্কেটে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক করে মহানগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আফজাল হোসাইনকে, রাত সাড়ে ১২টায় উত্তরার বাসা থেকে আটক করা হয় টঙ্গী থানা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আকবর হোসেন ফারুককে, গাজীপুর সদরের বিএনপির কানাইয়া গ্রাম কমিটির সভাপতি ও গ্রাম কেন্দ্রের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক আব্দুস সোবহানকে, এর আগে সন্ধ্যায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের আহবায়ক ও কাজী আজিম উদ্দিন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিপি আশরাফ হোসেন টুলু ও সদর থানা ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম উজ্জলকে আদালত পাড়ায় পানির ট্যাংকি এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া গাজীপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মীর হালিমুজ্জামান ননী, টঙ্গী থানা স্বেচ্ছাসেবকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভেন্ডার, টঙ্গী সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস জিয়াউল হাসান স্বপন, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন মরুসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে রাতব্যাপী তল্লাশি ও হয়রানি চালায় পুলিশ।
জামায়াত নেতা আফজাল হোসাইনের দোকান কর্মচারীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ডা, মাজহার জানান, শুক্রবার রাত ৯ টায় ১০-১২ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ আফজাল হোসাইনকে দোকান থেকে ধরে নিয়ে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো- গ- ৩৫-৭৮১৫) উঠিয়ে নিয়ে যায়। এছাড়া শুক্রবার সকালে বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি আবুল কালাম সিদ্দিকীকে কাশিমপুর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দেয় পুলিশ।

মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের বিবৃতি
এদিকে পুলিশের ধরপাড়কের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ২০ দলীয় জোট মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। তিনি অবিলম্বে ধরপাকড় বন্ধ করে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার দেখে আওয়ামী লীগের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। হতাশাগ্রস্ত আওয়ামী লীগ এখন অপপ্রচার ও নির্বাচনী মাঠে পুলিশ লেলিয়ে দিচ্ছে। ধরপাকর ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে কোন লাভ হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোন অবস্থাতেই আওয়ামী লীগকে খালি মাঠে গোল দেয়ার সুযোগ দেয়া হবে না। জীবন দিয়ে হলেও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন বলেও তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জামায়াতের মহানগর সেক্রটারির বিবৃতি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য গাজীপুর মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো: খায়রুল হাসান নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আফজাল হোসাইনকে ডিবি কর্তৃক তুলে নেয়ার ঘটনায় এক প্রতিবাদ বার্তায় বলেন, গতকাল রাত ৯ ঘটিকায় টংগীস্থ চেরাগ আলী তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিবির লোকেরা মাইক্রোতে করে তাকে তুলে নিয়ে যায়। সরকার মূলত গণবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে জনজোয়ারে ভীত হয়ে সরকার গ্রেফতার- নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। সরকারের দমন-নিপীড়নের অংশ হিসেবেই গতকাল নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আফজাল হোসাইন, জেলা জিয়া পরিষদের আহবায়ক আশরাফ হোসেন টুলু, ছাত্রদল নেতা উজ্জø, জামায়াত কর্মী মো: মাইন উদ্দিনকে গ্রফেতার করে। জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ায় জনগণের ভোট পাবে না বলেই সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই গুম-খুন ও গ্রেফতার। কিন্তু গ্রেফতার নির্যাতন করে সরকারের পতন ঠেকাতে পারবে না। জনতার বিজয় অবস্যম্ভাবী ইনশাল্লাহ।
অবিলম্বে জামায়াত নেতা আফজাল হোসাইনসহ সকল নেতা-কর্মীর মুক্তি দিতে এবং গ্রেফতার-নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ধানের শীষের পক্ষে সিটি করপোরেশনের পূবাইল বাদুন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক এস এম সানাহ উল্লাহসহ ৪৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ