বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

স্বার্থের দ্বন্দ্বে পাহাড় রক্তে লাল ॥ আবারও আতঙ্ক

তোফাজ্জল হোসেন কামাল : পঁচিশ উপজেলা আর তিন জেলা নিয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য জনপদ “পার্বত্য চট্টগ্রাম”-যেখানে শত শত উঁচুনীচু পাহাড় আকাশে হেলান দিয়ে ঘুমায়। প্রাকৃতিক নয়নাভিরাম দৃশ্য ,নানা সম্পদ, অপার সম্ভাবনা আর সর্পিল চলার গতি অবিরত কাছে টানে। সবুজের সমারোহে গড়ে ওঠা জনপদ ছিল নানা সমস্যায় নাকাল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যাকে পুঁজি করে শান্তির নামে অশান্তির বীজ বুনে তথাকথিত ‘শান্তিবাহিনী’। এই সশস্ত্র সংগঠনের রাজনৈতিক মোড়ক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’। যাদের কারণে পাহাড়ি জনপদ ছিল অশান্ত। তাদের হাত থেকে তিন পার্বত্য জেলাকে শান্ত করতে এ যাবত নানা উদ্যোগ নিয়েছে দেশের সরকারগুলো। কিন্তু কোন উদ্যোগই পাহাড়কে শান্ত করতে পারেনি। বরং দিনের পর দিন নানা ছুতোয় অশান্ত করে তোলা হয়েছে সবুজ-শ্যামল পাহাড়কে। রক্তে রঞ্জিত হয়ে সবুজ পাহাড়ের বর্ণ হয়েছে লাল।
১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি-জেএসএসের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তার বিরোধিতায় গড়ে ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সেই থেকে দুই দলের বিরোধে ২০১৬ পর্যন্ত সশস্ত্র সংঘাতে মারা গেছে প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী। ২০১৬ সালে দুই দলের মধ্যে অলিখিত ও অপ্রকাশ্য এক সমঝোতায় সশস্ত্র সংঘাত থামলে কিছুটা স্বস্তি আসে পাহাড়িদের মনে। কিন্তু এরই মধ্যে জেএসএস থেকে বেরিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল গড়ে ওঠে, যা সংঘাতে আনে নতুন মাত্রা। সে মাত্রার বলি হয়ে গত পাঁচ মাসে সংঘাতে প্রাণ ঝরেছে ১৮ জনের। সর্বশেষ গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারে মারা গেছেন ৬জন। স্বার্থের দ্বন্দ্বে সবুজ পাহাড় রক্তে লাল হচ্ছে। এতে করে নতুন আতংক ছড়িয়ে পড়ছে।
 খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ওই দুদিনের ছয় হত্যাকান্ডের কারণে আবারও আতঙ্ক বাড়ছে পাহাড়ে। কোথায় কখন কার লাশ পড়ে, সেই ভয়-আতঙ্কই যেন তাড়া করে ফিরছে পাহাড়ের মানুষকে। সম্প্রতি পাহাড়ে আবারও বেড়েছে খুন-গুম-হত্যা। প্রতিদিন কারও না কারও রক্তে লাল হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ জনপদ। শান্তিচুক্তির দুই দশক পূর্তি পার হতে না হতেই আবারও সহিংস হয়ে উঠেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলো। যে আশা নিয়ে শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল সেই শান্তি এখনও পায়নি পাহাড়ের সাধারণ মানুষ। পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্রের কারণে মানুষকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে আর হানাহানি লেগে আছে বলে মনে করছেন সাধারণ লোকজন। যত তাড়াতাড়ি পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে তত দ্রুতই পাহাড়ে শান্তি ফিরবে বলে মনে করেন সাধারণ লোকজন।

পাহাড়ে সংঘাতে ৫ মাসে ঝরেছে ১৮ প্রাণ
দুই দশক আগের শান্তিচুক্তি পাহাড়ে রক্তক্ষয় অবসানের প্রত্যাশা জাগালেও এরপর থেকে চলছে পাহাড়ি সংগঠনগুলোর নিজেদের কোন্দল, যার পরিণতিতে গত পাঁচ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। এক সময়ের একক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ভেঙে এখন অন্তত চারটি দল সক্রিয় পাহাড়ে; তাদের কোন্দলের সর্বশেষ নজির গত দুই দিনে ছয়জনের মৃত্যু।
এসব হত্যাকান্ডের বিষয়ে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির বলেন, “আঞ্চলিক দলগুলোর সশস্ত্র তৎপরতা এবং এমন বেপরোয়া হত্যার ঘটনাকে সরকার গুরুত্বসহকারে নিয়েছে। এখন সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই আমরা পদক্ষেপ নেব।”
১৯৯৭ সালে সরকার এবং জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) নেতৃত্বাধীন জেএসএসের মধ্যে পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর তার বিরোধিতায় গড়ে ওঠে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সেই থেকে দুই দলের বিরোধে ২০১৬ পর্যন্ত সশস্ত্র সংঘাতে মারা গেছে প্রায় এক হাজার নেতা-কর্মী। ২০১৬ সালে দুই দলের মধ্যে অলিখিত ও অপ্রকাশ্য এক সমঝোতায় সশস্ত্র সংঘাত থামলে কিছুটা স্বস্তি আসে পাহাড়িদের মনে।কিন্তু এরই মধ্যে জেএসএস থেকে বেরিয়ে জেএসএস (এমএন লারমা) এবং ইউপিডিএফ ভেঙে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দল গড়ে ওঠে, যা সংঘাতে আনে নতুন মাত্রা।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২০ বছর পূর্তিতে এক আলোচনা সভায় জেএসএস সভাপতি সন্তু লারমা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা পাহাড়ে আবার আগুন জ্বালাবে।
তার ঘোষণার দুদিন পরেই ৫ ডিসেম্বর অনাধি রঞ্জন চাকমা (৫৫) নামে ইউপিডিএফ সমর্থক ইউপি সদস্যকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার জন্য ইউপিডিএফকে (গণতান্ত্রিক) দায়ী করে ইউপিডিএফ। ওই দিন সকালে অনাধিকে নানিয়ারচর সতেরোমাইল ও আঠারোমাইলের মধ্যবর্তী চিরঞ্জীব দোজরপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে ডেকে বের করে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয়।
একই দিন রাঙামাটির জুরাছড়িতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অরবিন্দ চাকমাকে গুলী করে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ এই হত্যাকান্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএসকে দায়ী করে। একই দিন বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাসেল মার্মাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। একদিন বাদেই ৭ ডিসেম্বর রাঙামাটি শহরে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভানেত্রী ঝর্ণা খীসার বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙ্গায় ইউপিডিএফকর্মী ও সংগঠক অনল বিকাশ চাকমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয়। ইউপিডিএফ এই হত্যাকান্ডের জন্য নতুন ইউপিডিএফকে দায়ী করে।
৩ জানুয়ারি বিলাইছড়ি উপজেলায় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্বরায় তংচঙ্গ্যাকে গুলী করা হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এই ঘটনার জন্য যুবলীগ জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করেছিল।
৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয় ইউপিডিএফের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মিঠুন চাকমাকে। ইউপিডিএফ এই হত্যার জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করে।
৩০ জানুয়ারি বিলাইছড়িতে আওয়ামী লীগের তিন কর্মীকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়। এই ঘটনার জন্য সন্তু লারমার জনসংহতি সমিতিকে দায়ী করে আওয়ামী লীগ। ১২ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটি শহরে ছাত্রলীগ নেতা সুপায়ন চাকমাকে মারধর করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কর্মীরা, প্রতিবাদে রাঙামাটিতে হরতাল পালন করে ছাত্রলীগ।
২১ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সুভাষ চাকমা নামের একজন গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয়। তিনিও ইউপিডিএফ কর্মী ছিলেন।
১৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরের হরিনাথপাড়া এলাকায় ইউপিডিএফ কর্মী দীলিপ কুমার চাকমাকে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ইউপিডিএফের হরিনাথ পাড়ার সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন। তিনি পানছড়ির চেঙ্গী ইউনিয়নের মনিপুর এলাকার সন্তোষ কুমার চাকমার ছেলে।
১১ মার্চ বাঘাইছড়িতে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয় ইউপিডিএফকর্মী নতুন মনি চাকমাকে। তিনি ইউপিডিএফের প্রসীত বিকাশ খীসার পক্ষের ছিলেন।
১৮ মার্চ রাঙামাটির কুতুছড়ি থেকে অপহরণ করা হয় ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশন নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমাকে। ৩২ দিন পর ১৯ এপ্রিল মুক্তি পান তারা। এই ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করে ইউপিডিএফ।
১২ এপ্রিল পাল্টাপাল্টি হামলায় মারা যান তিনজন।  রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় ইউপিডিএফের এক সদস্যকে গুলীতে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএসের (এমএন লারমা) দুই কর্মীকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন ইউপিডিএফ কর্মী জনি তঞ্চঙ্গ্যা (৪০), জেএসএস (এমএন লারমা) কর্মী পঞ্চায়ন চাকমা ওরফে সাধন চাকমা (৩০) ও কালোময় চাকমা (২৯)।
১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি শহরের পেরাছড়া এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় সূর্য বিকাশ চাকমা নামে একজন নিহত হন। তিনিও ইউপিডিএফ এর দুই অংশের বিরোধের কারণে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হয়।
২২ এপ্রিল খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার মরাটিলা এলাকায় ইউপিডিএফ ও জেএসএসের (এমএন লারমা) মধ্যে গোলাগুলীতে সুনীল বিকাশ ত্রিপুরা (৪০) নামে এক ইউপিডিএফ নেতা নিহত হন।
সর্বশেষ ৩ মে নানিয়ারচর উপজেলায় নিজ কার্যালয়ে সামনে গুলী চালিয়ে হত্যা করা হয় উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএসের (এমএন লারমা) অন্যতম শীর্ষ নেতা শক্তিমান চাকমাকে। এইসময় তার সাথে থাকা সংগঠনটির আরেক নেতা রূপম চাকমাও গুলীবিদ্ধ হন।
এর একদিন পরেই ৪ মে শক্তিমান চাকমার দাহক্রিয়ায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের অন্যতম শীর্ষ নেতা তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা, একই দলের নেতা সুজন চাকমা, সেতুলাল চাকমা, টনক চাকমা এবং তাদের গাড়িচালক সজীব।
জানা যায়, নিহতদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এবং আওয়ামী লীগের দলের লোকজন রয়েছেন। তবে জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের হত্যা-পাল্টা হত্যার ঘটনা ঘটলেও একেবারে চুপচাপ রয়েছে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পাহাড়ের প্রধান আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন জেএসএস। তাদের কোনও নেতাকর্মী এ বছর হত্যাকান্ডের শিকার না হলেও প্রতিপক্ষের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছে বারবার। কিন্তু প্রতিবারই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
পাহাড়ের এসব হত্যাকান্ডে সাধারণত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয় না। পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনও সুরাহা পাওয়া যায়নি।
শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করলেও এক বছরের মাথায় চুক্তির বিরোধিতা করে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপরই ফের শুরু হয় পাহাড়ে রক্তের খেলা। ২০০৭ সালে জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে রূপায়ণ দেওয়ান-সুধাসিন্ধু খীসাদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এম এন লারমা)। এতদিন এই দুই সংগঠন অনেকটা এক হয়ে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে গেলেও গত বছর আত্মপ্রকাশ করে পাহাড়ের চতুর্থ আঞ্চলিক সশস্ত্র দল ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। এই চার সংগঠনের ক্ষমতা ও আধিপত্যের দ্বন্ধের কারণে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে পাহাড়। ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলের প্রধান তপনজ্যোতি চাকমা বর্মা দল গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় প্রতিপক্ষের গুলীতে নিহত হলেন।
মূলত পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে আধিপত্য ও চাঁদাবাজির এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈরিতা থাকলেও চার দলই একে আদর্শিক সংঘাত বলে দাবি করে থাকে। অবশ্য তাদের এই দাবি বিশ্বাস করার লোক পাহাড়ে হাতেগোনা।
নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা শক্তিমান চাকমা এবং ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর আহ্বায়ক তপনজ্যোতি চাকমা ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা অপহরণ মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। এ বছর খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ নেতা মিঠুন চাকমা হত্যা মামলার এজাহারেও আসামি হিসেবে শক্তিমানের নাম ছিল।
তপনজ্যোতি চাকমা বর্মার হত্যাকান্ডের জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছেন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা। তিনি বলেন, শক্তিমান চাকমাকে হত্যা করার পর তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।
তবে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মুখপাত্র নিরন চাকমা বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। তিনি আরও বলেন, যারা তাদের সৃষ্টি করেছে, আবার তাদের প্রয়োজনে তাদের হত্যা করতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ইউপিডিএফ বারবার বলে আসছিল ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর কারণে পাহাড়ে হত্যার রাজনীতি শুরু হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ হত্যাকান্ড নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টকারীদের ছাড় দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পাহাড়ে শান্তি বিনষ্টকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অচিরেই পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার বাংলা এডাডেমিতে ‘গৌরব ৭১’ শীর্ষক আলোচনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং মুক্তিযোদ্ধা ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ে এখন অশান্তি বিরাজ করছে। এর আগেও দীর্ঘদিন পাহাড়ে অশান্তি ছিল। ১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শান্তিচুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী পাহাড়িদের জন্য অনেকগুলো উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নেয়া হয়। সেগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ