ঢাকা, মঙ্গলবার 11 August 2020, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতে ওআইসিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান প্রেসিডেন্টের

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।খবর ইউএনবির।

আজ শনিবার ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের (ওআইসি-সিএফএম) ৪৫তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মানে আয়োজিত এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় এ আহ্বান জানান তিনি।

আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বৈষম্যের শিকার, নির্যাতিত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গা মুসলমান ভাইদের তাদের নিজ দেশে ন্যায্য অধিকারসহ শান্তিপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ওআইসি সদস্যদের এখনই কাজ করা প্রয়োজন।’

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘এখন আমরা প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের কারণে একটি চরম চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। রোহিঙ্গা মুসলমানরা মিয়ানমারের একটি প্রাচীন জাতিগোষ্ঠী এবং বর্তমানে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের মধ্যে বৃহত্তম গোষ্ঠী। কয়েক দশক ধরে তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের অধীনে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তারা (রোহিঙ্গারা) স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এছাড়া নাগরিক ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ থেকে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়।’

গত বছরের আগস্ট  থেকে শুরু হওয়া রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মিয়ানমারে যা ঘটছে তা শুধু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির লঙ্ঘন নয়, বরং জাতিগত নিধনের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।’

রোহিঙ্গা সংকটে ওআইসির প্রচেষ্টার প্রশংসা করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের সঠিক কারণ প্রচারের জন্য আমরা আপনাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করি। একইভাবে আমরা ফিলিস্তিনের ন্যায্য বিচারের জন্য ওআইসির অব্যাহত ভূমিকার প্রশংসা করি।’

তিনি বলেন, ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওআইসিকে উন্নয়ন খাতে আরো দৃঢ় সংহতির জন্য দ্রুত শক্তিশালী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

শান্তি ও উন্নয়নের জন্য সংহতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি একাত্মতার জন্য বিভিন্ন অভিজ্ঞতা এবং প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে চলেছে।

‘ওআইসিকে আরো দৃষ্টি দিতে হবে যেন মুসলমানরা ইসলামোফোবিয়া বা জাতিগত নিধনের সম্মুখীন না হয়। এই বিষয়ে একাত্মতা প্রকাশে ওআইসি সদস্যদের জোরালো ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’, যোগ করেন রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওআইসির মহাসচিব ড. ইউসুফ এ আল ওথাইমিন এবং ওআইসির সদস্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিব উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ