ঢাকা, বুধবার 12 August 2020, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭, ২১ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে ওআইসির প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: নির্যাতনের শিকার ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।খবর ইউএনবির।

তিনি বলেন, ‘জোরপূর্বক নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় তাদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে ওআইসির প্রতি আমার আবেদন রয়েছে। আমাদের জন্য মহানবীর (স.) বার্তা হলো, দুর্দশাগ্রস্ত মানবতার পাশে দাঁড়ানো। যখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ‘জাতিগত নিধনের’ শিকার হচ্ছে তখন ওআইসির ভ্রাতৃত্বতা বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না।’

শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান্য পাবে রোহিঙ্গা সংকট। এছাড়া সারাবিশ্বে মুসলিমরা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সেসবও গুরুত্ব দেয়া হবে।

এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘টেকসই শান্তি, সংহতি এবং উন্নয়নের জন্য ইসলামি মূল্যবোধ’। ১৯৮৩ সালের পর এবার দ্বিতীয়বারের মতো ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন আয়োজন করেছে বাংলাদেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের জন্য নিখাদ মানবিকতার খাতিরে বাংলাদেশ তার হৃদয় ও সীমান্ত খুলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ওআইসিকে অবশ্যই মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ দিয়ে যেতে হবে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার বাংলাদেশের সাথে যে সমঝোতা করেছে তা বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করতে হবে। ‘রোহিঙ্গাদের আমাদের মতোই জীবন, সম্মান ও অস্তিত্বের অধিকার রয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ জনসংখ্যা, এক-তৃতীয়াংশের অধিক কৌশলগত সম্পদ এবং অনেকগুলো বিশাল সম্ভাবনাময় ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দেশ থাকা মুসলিম দেশগুলোর বিশ্ব থেকে পিছিয়ে পড়ার কোনো কারণ নেই। মুসলিম দেশগুলোর মাঝে যৌথ উদ্যোগ নেয়ার জন্য নিজেদের কৌশল পুর্নবিন্যাস করা কথাও বলেন তিনি।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সামনে পাঁচ দফা তুলে ধরেন। এগুলো হলো- ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসে আস্থা রাখা, সাম্প্রদায়িক মানসিকতা বর্জন এবং বিবাদ ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার বন্ধ করা; নিন্দুকদের হস্তক্ষেপের সুযোগ না দিয়ে সদস্য দেশগুলোর নিজেদের সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা; আত্মসচেতনমূলক আলোকিত জীবন যাপন; ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূর করতে এবং মানবিক আকাঙ্ক্ষাগুলো পূরণে ওআইসির সাহসী প্রকল্পের পাশাপাশি ‘ফাস্ট ট্রাক’ উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা এবং সর্বশেষ ইসলামের শাশ্বত মূল্যবোধ- শান্তি, সংযম, সংহতি, সমতা, ন্যায়বিচার ও সহানুভূতি থেকে অনুপ্রেরণা ও শক্তি নেয়া।

মুসলিম বিশ্বে বিদ্যমান নানা ধরনের অভিমত ও ধারণা নিয়ে যে ভিন্নতা রয়েছে তা খোলা মনে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য যে রক্তারক্তি হচ্ছে তা অপ্রয়োজনীয় এবং ধ্বংসাত্মক বলেও মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন, সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বিশ্বশন্তি রক্ষায় বাংলাদেশ উজ্জ্বল সাফল্য অর্জন করেছে।

ওআইসির সদস্য দেশগুলোর ২৭ জন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ১২ জন প্রতিমন্ত্রীসহ প্রায় ৬০০ প্রতিনিধি এবারের সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। বিশেষ অতিথি দেশ হিসেবে রয়েছে কানাডা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়া ফ্রিল্যান্ড কানাডা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ডি.এস/আ.হু

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ