বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ফিটনেসবিহীন অর্ধলক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বাতিল করছে বিআরটিএ

স্টাফ রিপোর্টার : ফিটনেস মেয়াদ ১০ বছর আগে পেরিয়ে গেছে সারা দেশে, এমন মোটরযানের সংখ্যা ৫২ হাজার ৪০৮টি। এসব যানের লাইসেন্স বাতিল করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দেশের কোনো সড়কে এসব গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। বিআরটিএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সংস্থাটি বলছে, মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩-এর ৪৭ ধারা মোতাবেক নিয়মিতভাবে প্রতি বছর বিআরটিএ থেকে মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণের আবশ্যকতা থাকা সত্ত্বেও বিআরটিএ’র ডেটাবেজ অনুযায়ী, ১০ বছরের অধিককাল ধরে উল্লেখ যোগ্যসংখ্যক মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ওই মোটরযানগুলো ফিটনেস সার্টিফিকেট নবায়ন না করেই রাস্তাায় চলাচল করছে কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্ত বা চিরতরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, যেসব মোটরযানের ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ ১০ বছর উত্তীর্ণ হয়েছে সেসব মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন করার অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আগামীকাল থেকে ফিটনেসবিহীন ওইসব মোটরযানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ রাইট অফ করার নিমিত্তে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) মো. নুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বিআরটিতে নিবন্ধন নেয়া গাড়ির মধ্যে কতগুলো কনডেম করা হয়েছে তার কোনো রেকর্ড নেই। তবে সাধারণত ১০ বছর বা তার বেশি আগে ফিটনেস নেয়া মোটরযান ঢাকা শহরে চলাচলের কথা নয়। তবে ঢাকার বাইরে এ ধরনের মোটরযান রয়েছে, তারা একবার নিবন্ধনের সময় ফিটনেস নেয়ার পর আর বিআরটিএতে আসে না। ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী। এসব গাড়ির বিরুদ্ধে সারা দেশে আগামীকাল থেকে অভিযান চালানো হবে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে বিআরটিএতে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৩৪ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা সংখ্যার বেশি। নিবন্ধিত এসব মোটরযানের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪০৮টি গাড়ির ফিটনেসের মেয়াদ ১০ বছরের বেশি পুরোনো হয়ে গেছে। ফিটনেস সনদ নবায়ন না করলে এসব মোটরযানের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। তবে যেসব মোটরযান নিয়ম মেনে ফিটনেসের জন্য পুনরায় আবেদন করবে যাচাই-বাছাই শেষে সেগুলোকে পুনরায় ফিটনেস সনদ দেওয়া হবে।
এদিকে নিবন্ধন বাতিলের তালিকায় মোটরযানের মধ্যে বেসরকারি মালিকানাধীন রয়েছে ৫২ হাজার ৬৬৯টি। এর মধ্যে ১০ বছরের পুরোনো ফিটনেস রয়েছে ৪০ হাজারের বেশি যানের। শুধু ঢাকায় এ ধরনের মোটরযান রয়েছে ২০ হাজার ৬৫৬টি। যদিও ঢাকায় নিবন্ধিত মোটরযান রয়েছে ১১ লাখের বেশি। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে ১০ বছরের পুরোনো ফিটনেসযুক্ত মোটরযান রয়েছে ১০ হাজার ৬৬৮টি। এছাড়া সিলেটের পাঁচ হাজার ২৫৭টি, বগুড়ার রয়েছে দুই হাজার ৯২৬টি, কুমিল্লার এক হাজার ২৯৫টি, ময়মনসিংহের ৭৯৮টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৭৩০টি, বরিশালের ৪৫৪টি উল্লেখযোগ্য।
এর বাইরে ১০ বছরের পুরোনো ফিটনেস নেওয়া মোটরযানের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার রয়েছে তিন হাজার ৭৩৯টি। এর মধ্যে দুই হাজার ২৫৩টি ঢাকায় নিবন্ধিত। এছাড়া কুমিল্লায় নিবন্ধিত রয়েছে ২০৮টি, সিলেটে ১৩৯, নোয়াখালীতে ১৩২, বগুড়ায় ১৩০ ও বরিশালে ১০৩টি উল্লেখযোগ্য।
এদিকে ডিএমপির  সূত্রে জানা গেছে, ট্রাফিক আইন অমান্যকারী গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও বিআরটিএ  যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট চালিয়ে প্রতিদিনেই জেল জরিমানা করছে। সর্বশেষ গত ৩ মে ৮ গাড়ি চালককে কারাদণ্ড প্রদান করেছে। ঐদিন বেলা বারোটা হতে ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের শাহবাগ এলাকায় ও ট্রাফিক উত্তর বিভাগের মেরুল বাড্ডা এলাকায় এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শাহবাগ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের  নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মশিউর রহমান ও মেরুল বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আঃ রহিম সুজন।
এই যৌথ অভিযানে ৩৬টি মামলায় ৮জন চালককে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে ৭ জন বাস চালককে  একমাস করে ও একজনকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। এ সময় ট্রাফিক আইন অমান্যে বিভিন্ন গাড়ির বিরুদ্ধে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় ও  সাতটি গাড়িকে ডাম্পিং করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ডিএমপি’র অন্যান্য ট্রাফিক বিভাগেও এই যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সূত্র জানায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ