রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

খুলনায় অবৈধ দখলে ‘নদীগুলো খাল ও খালগুলো নালা’য় পরিণত

খুলনা অফিস : ‘এক সময় বসবাসের জন্য দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন নগর খুলনা আজ জলাবদ্ধতায় ডুবে থাকে। এখানকার নদীগুলো খাল হয়েছে, খালগুলো নালা হয়েছে আর নালাগুলো হারিয়ে গেছে। নগরবাসী জলাবদ্ধতায় আটকে থাকলেও কেসিসি তেমন কোনও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে না।’ 

অল্প সময়ের জন্য হওয়া ভারি বৃষ্টিতে মহানগরীর খানজাহান আলী রোড, রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, কেডিএ মোড় ও কেডিএ এভিনিউ, সোনাডাঙ্গা মোড়, রূপসা ট্রাফিক মোড়সহ বিভিন্ন অলিগলি পানিতে তলিয়ে যায়। খালিশপুরের বায়তুল ফালা, জামিলের মোড়, শিয়া মসজিদ, এম লাইন থেকে এস লাইনসহ দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে হাঁটু পানি জমে যায়।

খুলনার নাগরিক নেতারা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকঢোল পিটিয়ে নগরীর ময়ূরী, ক্ষুদের খালসহ বেশ কয়টি খাল খনন করে কেসিসি। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেয়া হয় নানা পদক্ষেপ। তারপরও বর্ষণে মহানগরীর পিটিআই মোড়, রয়েল মোড়, শান্তিধাম মোড়, ফুল মার্কেট, টুটপাড়া, আহসান আহমেদ রোড, নতুন বাজার, স্যার ইকবাল রোড, কেডিএ এভিনিউ, জোড়াগেট, খালিশপুর বাস্তুহারা, বয়রা এলাকা, মুজগুন্নী, নেভি স্কুলের সামনে, হাউজিং বাজার, নতুন কলোনী, দৌলতপুর, খালিশপুরসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের শিক্ষা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান, হোস্টেল, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বিপণি বিতানের আশপাশ বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হচ্ছে। অনেকের বসত-বাড়ির ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ছে। এছাড়া নগরীর নিম্নাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলোতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী।

নাগরিক নেতা এডভোকেট কুদরত ই খুদা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা-আবর্জনা, বড় বড় খাল ভরাট, অবৈধভাবে দখল ও বাঁধ দিয়ে প্রভাবশালীদের মৎস্য চাষসহ নানা কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনও মাথাব্যথা নেই। ফলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ্জামান এমন মন্তব্য করেন। অবশ্য তার মন্তব্যের প্রমাণও পাওয়া গেছে-মাত্র ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে সোমবার খুলনা মহানগরীর অধিকাংশ রাস্তা ও অলিগলি তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী।

কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৃষ্টিপাতের ফলে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে করপোরেশনের জনবল কাজ করছে। পানি কোথায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তা শনাক্ত করে সমাধানের কাজ চলছে। স্থানগুলোতে আটকে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, কেসিসিকে ঘিরে ৩৪টি খাল রয়েছে। আর নালা রয়েছে এক হাজার ১৬৫ কিলোমিটার। গত ৫ বছরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ও খাল পুনঃখননে কেসিসি ব্যয় করেছে ৬২ কোটি টাকা। ৩৪টি খালের ২৫টিই অবৈধ দখলে রয়েছে। খালের মাঝখানে সরাসরি বাঁধ দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। কয়েকটি খালে ছোট ছোট বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কচুরিপানা এবং পলি পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু খালে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যাচ্ছে নগরের অধিকাংশ এলাকা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ