বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার কুর্মিটোলায় র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠান কেক কেটে উদ্বোধন করেন -পিআইডি

সংগ্রাম  ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে ছেলে-মেয়েদের রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রেখে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যেতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি র‌্যাবকে অনুরোধ করবো, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন আমরা অভিযান চালিয়ে সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি তেমনি এখন মাদকের বিরুদ্ধেও এই অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুর্মিটোলা সদর দপ্তরে র্যাবের ১৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক যারা তৈরি করে, কারা বিক্রী করে, যারা পরিবহন করে এবং যারা সেবন করে সকলেই সমানভাবে দোষী । এটাই মাথায় রাখতে হবে এবং সেভাবেই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাদক বিরোধী অভিযানে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যাতে এর ছোবল থেকে দূরে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে নিতে হবে ।’

এ ব্যাপারে বিশেষভাবে ভূমিকা পালনের জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে বড় বড় অভিযানে র্যাবের সাফল্যের জন্য র‌্যাবের সদস্যদের ধন্যবাদ জানান এবং এই অভিযান অব্যাহত রাখারও নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক ও র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সন্ত্রাস, জঙ্গিদমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, অপহরণ এবং জাল-জালিয়াতি সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রর্‌্যাবের বিভিন্ন ভূমিকা সম্পর্কে এবং সুন্দরবনে র‌্যাবের অভিযানে ২০টি জলদস্যুবাহিনীর ২১৭ জন সদস্যের আত্মসমর্পন এবং তাদের সাধারণ জীবনে পুনর্বাসন সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে পৃথক দুটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।

মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, তিনবাহিনী প্রধানগণ, মহাপুলিশ পরিদর্শক, মহাপরিচালক বিজিবি, সরকারের উর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, র‌্যাব ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ র‌্যাবের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছলে র‌্যাবের একটি সুসজ্জিত বাহিনী প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী উত্তরা আশকোনা এলাকায় ৮ দশমিক ৫৬ একর জমির ওপর অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত র‌্যাব সদর দপ্তর কমপ্লেক্স নির্মাণের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন।

তিনি শহীদ র‌্যাব সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে র‌্যাব সদর দপ্তরে শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ ‘প্রেরণা ধারা’র উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, চরমপন্থি দমন এবং ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনাসহ সকল ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র‌্যাব অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। র‌্যাব দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সকলের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মের মূলধারা কোরআন ও হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা থেকে বিচ্যুতির কারণে উগ্র জঙ্গিবাদের উদ্ভব হয়েছে। এই জঙ্গিবাদীরা সাম্প্রদায়িকতা, সহিংসতা, অরাজকতা ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল ও নিরাপত্তাহীন করে তোলার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। কিন্তু র‌্যাব জঙ্গি দমনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে, যা সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে।

তিনি বলেন, র‌্যাবের দক্ষতা ও জনবল বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ২টি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১টিসহ মোট ৩টি নতুন ব্যাটালিয়ন গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 ‘বাংলাদেশ আমার অহংকার’ র‌্যাবের এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে কাজ করতে র‌্যাবসহ সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আমার প্রিয় দেশ। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে এদেশ আমরা অর্জন করেছি, এদেশ আমার অহংকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ