বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১২ মাসে নিহত ১২০ সাংবাদিক

সংগ্রাম ডেস্ক : ২০১৭ সালের মে থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১২০ জন সাংবাদিক। এদের মধ্যে ২০১৭ সালে নিহত হয়েছেন ৮৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৪৬ জন দুর্নীতিবিষয়ক খবর সংগ্রহে জড়িত ছিলেন। আর ২০১৮ সালের প্রথম চার মাসেই এক নারীসহ ৩২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গড়ে প্রতিমাসে বিশ্বজুড়ে নিহত হচ্ছেন ৮ জন সাংবাদিক। ওয়ার্ল্ড প্রেস ইনস্টিটিউটের (আইপিআই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে সামনে রেখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর নিহত ৮৮ সাংবাদিকের মধ্যে ছয়জন নারী। ২০১৭ সালের শেষ আট মাসে নিহত হয়েছিলেন ৫৫ জন সাংবাদিক। তাদের বেশিরভাগকেই টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছিল। তারা দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান করছিলেন এবং প্রকাশের চেষ্টা করছিলেন। চলতি বছর স্লোভাকিয়াতেই সরকারের দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে সাংবাদিক জ্যান কুসিয়াককে। ২২ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে গিয়ে প্রেমিকা ও তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যাকান্ডের পর পদত্যাগে বাধ্য হন দেশটির প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো।

আইপিআই’র ডেথ ওয়াচ প্রকল্প থেকে জানা গেছে, ১৯৯৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১৮০১ জন সাংবাদিক। সবচেয়ে বেশি ছিল ২০১২ সালে। ওই বছর নিহত হন ১৩৩ জন। পরের বছর এই সংখ্যা ছিল ১২১ জন।

সংস্থাটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, গত ১২ মাসে হত্যাকান্ডের শিকার সাংবাদিকদের মামলার অগ্রগতি তেমন হয়নি। কয়েকজনকে আটক করলেও খুব বেশি তদন্ত আগায়নি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্লোভাকিয়ার ঘটনা, মালটায় গাড়িবোমা হামলা, ভারতে নিজ বাড়ির সামনে খুন হওয়া গরি লঙ্কেশ, মেক্সিকোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক জ্যাভিয়ের ভালদেস কার্দেনাসের মৃত্যু।

ইউরোপে সাংবাদিক হত্যার বিষয়টি সারা বিশ্বে আলোচনায় এলেও আরও অনেক মৃত্যু খুব একটা মনোযোগ পায় না। লাতিন আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। তারা বেশিরভাগই সেখানকার মাদক পাচার ও দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করছিলেন। শুধু মেক্সিকোতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।

সাংবাদিকরা সবসময়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যান। অনেক সময় হত্যাকা-েরও শিকার হতে হয়। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলী বাহিনীর গুলীতে প্রাণ হারিয়েছেন ফিলিস্তিনী দুই সাংবাদিক।

আইপিআই’র নির্বাহী পরিচালক বারবারা ত্রিনোফি বলেন, সাংবাদিককে হত্যা করা হচ্ছে সংবাদকে দমিয়ে রাখার নৃশংসতম পন্থা। সত্য জানার অধিকার সবার আছে। আর এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। ডেথ ওয়াচের মাধ্যমে আমরা দেখি, এই মৃত্যু শুধু সাংবাদিকের পরিবার, স্বজন ও বন্ধুদের জন্যই কষ্ট নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্যও হুমকি নিয়ে এসেছে।

১৯৫০ সাল থেকে কাজ করা এই সংস্থাটি সব সরকারকেই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে। ত্রিনোফি বলেন, ‘সরকার যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয় তবে সাংবাদিকরা এমন হত্যা ও নিপীড়নের শিকার হতেই থাকবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ