রবিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১
Online Edition

রাঙ্গামাটিতে উপজেলা ও নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলী করে হত্যা

 

স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির নানিয়ার চর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির নেতা শক্তিমান চাকমাকে গুলী করেছে দুর্বৃত্তরা। এদিকে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও রাজগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল হককে (৭০) প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা গুলী করে হত্যা করে।

রাঙামাটি থেকে সংবাদদাতা : রাঙামাটি জেলার দুর্গম নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস সংস্কার)  শীর্ষ নেতা এডভোকেট শক্তিমান চাকমাকে প্রকাশ দিবালোকে গুলী করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (৩মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনেই তাকে গুলী করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শিরা জানায় শক্তিমানের শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫ রাউজন্ড গুলী করে সন্ত্রাসীরা। এসময় চেয়ারম্যানের সাথে থাকা জেএসএস সংস্কারের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রূপম চাকমাও গুলীবিদ্ধ হন। 

পাহাড়ে ভাতৃঘাতী সশস্ত্র সংঘাতের জের ধরে আঞ্চলিক উপজাতীয় সংগঠন  জেএসএস সংস্কারের সহ-সভাপতি খুন হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে। এই ঘটনার জেরে যেকোন মুহূর্তে আরো বড় ধরনের সহিংস সংঘাতের আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ। 

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মো. আলমগীর কবির চেয়ারম্যান গুলীতে নিহত হবার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গুলীবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শক্তিমানের মৃত্যু হয়। এসময় তার সাথে থাকা রূপম চাকমাও আহত হন। আহত রূপমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, কে বা কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমার লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুইটি গাড়ি দিয়ে পাহারার মাধ্যমে লাশটি রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এসময় পুলিশের উদ্বর্তন কর্মকর্তাগণসহ জেলা আইনজীবি সমিতির নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জেনারেল হাসপাতালে ছুটে যান নিহতকে এক নজর দেখার জন্যে। এসময় এ্যাডভোকেট শক্তিমান চাকমার একমাত্র মেয়ে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী মেঘা চাকমাকে তার সহকর্মীরা নিয়ে আসলে সেখানে এক হ্রদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানাগেছে, বৃহস্পতিবার সকালে মুখোশধারী তিন যুবক হাতে তিনটি ব্যাগ নিয়ে উপজেলা পরিষদের নীচে ওঁৎ পেতে ছিল; বেলা এগারোটার সময় চেয়ারম্যান নিজ বাসা থেকে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে আসলে চেয়ারম্যান ও তার সহকর্মীর উপর গুলী চালায় আততায়ীরা। এসময় পরিষদ চত্বরে অনেক লোক থাকলেও তারা কেউ ভয়ে এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায়ে আততায়ীরা সুযোগ বুঝে সটকে পড়ে।

পরে গুলীবিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাকে বহনকরা মোটর সাইকেল চালককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। সেখানে পুরো শরীরে অন্তত ২০টি বুলেট বিদ্ধ অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমানকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। অপরজনকে প্রাথমিক সার্পোট দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। নানিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর সূত্র জানায়, উপজেলা চেয়ারম্যানকে রিভলভার দিয়ে খুব কাছ থেকে গুলী করে সন্ত্রাসীরা। তার পুরো শরীরে অন্তত ২০টি বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। সূত্রটির দাবি, উপজেলা চেয়াম্যানের শরীরের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে গুলী লাগেনি। জেএসএস সংস্কার এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যার ঘটনাটি চুক্তি বিরোধী আঞ্চলিক সংগঠনের দু’জন পেশাদার অস্ত্রধারী ঘটিয়েছে।  সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা এ ঘটনার জন্য প্রকাশ্যেই ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, ইউপিডিএফ’র সশস্ত্র গ্রুপ’র নেতা অর্পন চাকমার নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে ইউপিডিএফ এর শীর্ষ নেতা মাইকেল চাকমা এ ঘটনার সাথে তাদের কোনো সংযোগ নেই দাবি করে বলেছেন, এখন কোনো হত্যাকান্ড ঘটলেই আমাদের দায়ী করা হচ্ছে। এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন আগামী জাতীয় নির্বাচনের গেম হিসেবে এডভোকেট শক্তিমান চাকমার মৃত্যু হয়েছে। দোষ চাপানো হচ্ছে আমাদের উপর।

এই হত্যা ঘটনার পর যে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কায় গোটা জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নরসিংদীতে আ’লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান

প্রতিপক্ষের গুলীতে নিহত

নরসিংদী সংবাদদাতা : রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এবং বাশগাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে পরপর ছয় বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল হক (৭০) প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলীতে আহত হয়ে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় তার নিজ ইউনিয়নের আরাকান্দা সড়কে গুলীবিদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। পরে দুপুর সোয়া তিনটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুরা উপজেলা পরিষদে কাজ শেষে মটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে নিজ ইউনিয়নের আরাকান্দা গ্রামের সড়কে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলীতে তিনি গুরুতর আহত হন। তার আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিরাজুল হককে বহনকারী এম্বুলেন্সে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেছেন। তিনি বাঁশগাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান পদে পরপর ছয়বার নির্বাচিত হয়েছেন। বাঁশগাড়িতে তিনি খুবই জনপ্রিয় লোক ছিলেন। তার মৃত্যুতে রায়পুরা সদর ও বাঁশগাড়ীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। রায়পুরা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবির কাউছার চেয়ারম্যান সিরাজুল হক হত্যাকা-ের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রায়পুরা থানা পুলিশ জেলা হাসপাতাল থেকে তার লাশ সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান এই ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দু’টি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। একটি গ্রুপের নেতা সাবেক চেয়ারম্যান সাহেব সরকার অতি সম্প্রতি স্ট্রোক করে মৃত্যুবরণ করেন। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন সিরাজুল হক চেয়ারম্যান। আজ তিনিও গুলীবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের গুলীতেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের দাফনের পর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ