মঙ্গলবার ০২ মার্চ ২০২১
Online Edition

কাফনের কাপড় পড়ে ২০ দলীয় জোটের  নেতাকর্মীরা কেসিসি নির্বাচনের মাঠে থাকবে 

 

খুলনা অফিস : খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে প্রচারণা কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তবে এই ঘোষণার পাঁচ ঘণ্টা পরই প্রচারণায় ফিরলেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিং শেষে বেলা ২টার দিকে মঞ্জু দলীয় কার্যালয়ের আশপাশ এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিং করে নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মঞ্জু। বৈঠক শেষে বেলা ১২টায় দলীয় কার্যালয়ে ডাকা প্রেস ব্রিফিংয়ে মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে বিএনপি সরে দাঁড়াবে না। ধারাবাহিক অত্যাচার-নির্যাতন সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে না। এই শহরের জনগণ বিএনপির পাশে আছে। আর সরকারি দলের পাশে রয়েছে পুলিশ, সন্ত্রাসী ও কালো টাকা। এরপরও কোনো অবস্থাতেই আমরা নির্বাচনী বিজয় ছিনিয়ে নিতে দেবো না।’ প্রয়োজনে কাফনের কাপড় পড়ে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে থাকবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাতভর খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২১ নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমরা জেনেছি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামী ৬ মে খুলনায় আসবেন এবং বৈঠক করবেন। নির্বাচনী লেবেলপ্লেয়িং ফিল্ড তৈরি, দলীয় প্রশাসনকে বদলী এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি না দিলে আমরা প্রয়োজনবোধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বৈঠক বয়কট করতে বাধ্য হবো। এ সব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘কোন ভয়-ভীতিতেই বিএনপি এ নির্বাচন থেকে সরে দাড়াবে না। এই নির্বাচন থেকে আন্দোলন ও নির্বাচনে বিএনপি এবং ২০দল সফল করবে। ইনশাআল্লাহ পাশে খুলনার জনগণ। আর সরকারি দলের পাশে আছে-তাদের অনুগত বাহিনী পুলিশ, প্রশাসন, তাদের কালো টাকা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী দিয়েই তারা জনগণের বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে চায়। কিন্তু ভোটার এবং আমরা, আমাদের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রয়াসে তাদের এ ষড়যন্ত্র আমরা সফল হতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে আমাদের পোলিং এজেন্ট, ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা প্রতিদিন নির্বাচনী কাজ করছিলেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করছিলেন; তাদেরকে গ্রেফতার করে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে। ভীতি ছড়ানো হয়েছে। যাতে বিএনপি কর্মীরা আর মাঠে না থাকে। যাতে ভোটাররা ভয় পায়, ভোট কেন্দ্রে যেতে। কিন্তু আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই- হাজারো গ্রেফতার হলেও বিএনপি কর্মীরা মাঠ ছেড়ে যাবে না ইনশাআল্লাহ। কর্মীরা বলেছে- আরেকটা লড়াইয়ের, জনগনের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে জনগণ বিএনপি পাশে, ২০দলের পাশে থাকবেই ইনশাআল্লাহ। খুলনাবাসীর ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার লড়াইয়ে প্রয়োজনে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে থাকবো। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার মধ্যদিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবে ইনশাআল্লাহ।’ দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ের পরেই প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েন তিনি। এরআগে, সকাল সোয়া ৮টায় বাসভবনে তাৎক্ষনিক প্রেস ব্রিফিং করেছিলেন মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

ধানের শীষের প্রার্থী মঞ্জু বলেন, আগামী ৬ মে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আসছেন খুলনায়। রিটার্নিং অফিসারকে বলেছি, সিইসি যেনো এইসব সংকট নিষ্পত্তি করে খুলনায় আসেন। না হলে সিইসি বৈঠক বয়কট ছাড়া আমাদের আর কোন পথ খোলা থাকবে না। গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিন এবং এই অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করুন। একই সাথে সরকারি দলের আইনভঙ্গের যে চেষ্টা সেটা বন্ধ করার জন্য তাদের নোটিশ করুন; নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সেই দাবি জানিয়েছি। সরকার ইমেজ সংকটে আছে। সেই ইমেজ সংকট ঠেকানোর জন্যই সরকার এই ধরণের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও আমাদের উপরে আক্রমণ করছে। সরকারকে বলতে চাইÑ এই জায়গা থেকে সরে যান। এই নির্বাচন যদি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়; তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আপনাদের পক্ষে করা সম্ভব হবে না। এটা শুধু দেশের জনগণ নয়; গোটা বিশ্ব সেদিকেই তাকিয়ে আছে। সে জন্য আগামী নির্বাচনের দিকে অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করা হোক; সেটা খুলনাবাসী দেখতে চায়।

নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উলে¬খ করে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া সরকার কোন পদক্ষেপ নিতে পারবে না। সমস্ত বাহিনী থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের অসহায়ত্ব দেখে হতবাক হয়েছি। লেবেলপে¬য়িং ফিল্ডের জন্য বিভাগীয় কমিশনারকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে; যে কমিটি শুধু মাত্র সরকারের বিজয় নিশ্চিত করার জন্যই কাজ করছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। আমরা এতো আপত্তি দিয়েছি, নির্দিষ্ট অভিযোগ করেছি, যার একটিরও শুনানী হয়নি এবং কোন ব্যবস্থা এখনো পর্যন্ত নেয়া হয়নি। আমরা বলেছিলাম অনুগত পুলিশদের খুলনা থেকে সরিয়ে দিয়ে সেনা মোতায়েনের জন্য।

প্রেস ব্রিফিংয়ের শুরুতেই তিনি বলেন, মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের মুক্তি আন্দোলন এবং খুলনার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের রাজনীতিকে সঙ্গে নিয়েই বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। গত আটদিনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছি; নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপি কেন্দ্রীয় ও ২০দলের নেতৃবৃন্দ প্রচারে অংশ নিয়েছেন। প্রচার কাজ যখন করেছি, তখন মানুষের ইশারায় ইঙ্গিত পেয়েছি; একটা ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে এ নির্বাচনে। খুলনার জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে এই নির্বাচন করতে চায়। জনগন বহুদিন পরে ধানের শীষে ভোট দেবার আকাঙ্খা থেকেই এই উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। খুলনা বিএনপি’র শহর, খুলনা ধানেরশীষের শহর। গত পঁয়ত্রিশ বছরে বিএনপি সৃষ্টির ইতিহাসে খুলনায় কখনো অংশগ্রহনমুলক নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হয় নাই। 

তিনি আরও বলেছেন, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় ষড়যন্ত্রমুলক সভা হয়েছে। মাহবুব-উল আলম হানিফ সাহেব গল্লামারীর ওপারে মিটিং করেছেন, রূপসা ব্রীজের পাদদেশের একটি পেট্রোল পাম্পে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা খুলনায় এসেছেন; প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছেন। নানাধরনের পরিকল্পনা করেছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। নির্বাচনের বিজয় ছিনিয়ে নেবার জন্য নানাধরনের ষড়যন্ত্র কাজ করছে। আমরা আভাস পেয়েছিলাম যে, আক্রমণ আসছে আমাদের উপরে। আমরা জনগণকে সেভাবেই প্রস্তুত করছিলাম; এ আক্রমণের বিপরীতে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। জনগণও সেভাবেই তৈরি হচ্ছিল। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছিলাম। সে জন্য মিডিয়াকে আগেই প্রকাশ করেছি যে, জনতার বিজয়কে ছিনিয়ে নেবার ষড়যন্ত্র চলছে। আরেকটি ভোট নির্বাচন; সরকার পরাজিত হবার ভয় পায়। বুধবার রাত ৮টা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে পুলিশ। রাতভর মহানগরীর ছয় থানা ও জেলায় তাদের চালানো অভিযানে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়া অন্তত ২১ জন নেতাকর্মী গ্রেফতার করেছে। ভয়ঙ্কর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে পুলিশ। দলের নেতাকর্মীরা নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আমি নিজে প্রার্থী হয়েও নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। গত ২৪ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার শুরু থেকে শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে বিএনপির নির্বাচনী কার্যক্রমকে বাঁধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাসক দলীয় ক্যাডারদের হুমকি-ধামকি প্রদর্শন, পাঁচটি প্রচার মাইক ভাঙচুরের চেষ্টা ও প্রচার কাজে নিয়োজিত ইজিবাইক আটকে রাখা, মহিলা কর্মীদের ওপর হামলা, প্রার্থী এবং ঢাকা থেকে আগত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের পথ সভাকে বাঁধাগ্রস্ত করা হয়েছে। পথ সভার জন্য নির্ধারিত স্থান যুবলীগ কর্মীরা দখলে নিয়ে মহড়া দিয়েছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থীর গণসংযোগে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে একাধিকবার।

গণগ্রেফতার ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি বলেন, বুধবার রাত ৮টার পর থেকে মহানগীর পাঁচ থানা এলাকায় গণগ্রেফতার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। রাত সোয়া ২টার দিকে গ্রেফতার হন মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ। রাত দেড়টার দিকে সোনাডাঙ্গা থানা পুুলিশ গ্রেফতার করে খুলনা মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারুকে। এর আগে, ৩০ এপ্রিল দিনদুপুরে ডিবি পুলিশ নগরীর ব্যস্ততম গল¬ামারী এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায় বাগেরহাট জেলা যুবদল সভাপতি মেহবুবুল হক কিশোরকে। কিশোর ওই দিন খুলনায় এসে নগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এলাকায় ফিরছিলেন। এছাড়া বুধবার দিবাগত রাতভর সকল থানায় অভিযান চলেছে। দৌলতপুর থানার ৬নং ওয়ার্ড থেকে বিএনপি নেতা আজিজুল খন্দকার ও তার ছেলে আরিফ খন্দকার, ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক রকিবুল ইসলাম মিঠু, যুবদল নেতা ফারুক হোসেনসহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে। খালিশপুর থানা পুলিশ যুবদল থানা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সান্টু ও ১৩নং ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভুট্টোকে গ্রেফতার করার পর তার হাইকোর্ট থেকে নেয়া জামিনের কাগজপত্র নিয়ে থানায় যাওয়া শুকুর ও সুমন নামে দু’জনকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। সদর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ২১নং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি আবু তালেব ও বিএনপি কর্মী গাউসকে। এছাড়া ৩১নং ওয়ার্ড বিএনপি কর্মী নাসিমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোনডাঙ্গা থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে ১৮নং ওয়ার্ড যুবদল কর্মী আপনকে। এছাড়া রূপসা থানার আইচগাতিতে বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গ্রেফতার করা হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলালের ভাই খুলনা জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোস্তফা উল বারী লাভলু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, বিএনপি কর্মী আব্দুর রহমান ও জাহাঙ্গীর আলমকে। এরপর তাদেরকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ ওয়াহিদুজ্জামান ও ফয়সালকে গ্রেফতার করে। এছাড়া বুধবার দিবাগত সমস্ত রাত নগরী জুড়ে পুলিশ ও ডিবির অভিযান, নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, কর্মীকে বাড়ি না পেয়ে তাদের পরিবারের সদস্য নারী ও শিশুদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করলে খুব খারাপ পরিণতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে আমাদের দাবি অবিলম্বে পুুলিশ প্রশাসনের অভিযানের নামে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, হয়রানি, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি অভিযান ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে। গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান, নির্বাহী কমিটির ভাইস-চেয়ারম্যান বাবু নিতাই রায় চৌধুরী, এম মশিউর রহমান, আমিরুল ইসলাম আলিম, জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, ইকবাল হোসেন, এনপিপি’র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিজেপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন সাঈদ, সাম্যবাদী দলের কমরেড সাঈদ আহমেদ, ডিএল’র সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাপ’র মহাসচিব এম সেলিম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল¬াহ আল মেহেদী, জমিয়াতুল উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র মহাসচিব মুফতি মুহিউদ্দিন ইকরাম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবীব লিঙ্কন, জাগপা’র সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপি’র ভারপ্রাপ্ত  মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈসা, তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, খুলনার ২০দল নেতাদের মধ্যে ছিলেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, বিজেপির সভাপতি এডভোকেট লতিফুর রহমান লাবু, খেলাফত মজলিসের মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, গোলাম মোস্তফা, মাওলানা নাসির উদ্দিন, সিরাজ উদ্দীন সেন্টু, মুসলিম লীগের এডভোকেট আকতার জাহান রুকু, জামায়াতে ইসলামীর এডভোকেট শাহ আলম, গোলাম রসুল, বিএনপি নেতা সৈয়দ নার্গিস আলী, মুজিবর রহমান, গাজী আলাউদ্দীন, আমীর এজাজ  খান, মীর কায়সেদ আলী, ডা. গাজী আব্দুল হক, জাফরউল¬াহ খান সাচ্চু, শেখ মোশাররফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম মেঝভাই, কওসার জমাদ্দার, স ম আব্দুর রহমান, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, মো. ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুল হাসান বাপ্পী, আমজাদ হোসেন, আরিফুজ্জামান অপু, মনিরুজ্জামান মন্টু, শেখ আব্দুর রশিদ, আবু হোসেন বাবু, কামরুজ্জামান টুকু, আশারফুল আলম নান্নু, ইকবাল হোসেন খোকন, নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর, শরিফুল ইসলাম বাবু ও হেলাল আহমেদ সুমন প্রমুখ।

বিএনপির অভিযোগ প্রত্যাখান করেছে আওয়ামী লীগ : নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে বিএনপির মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার অভিযোগকে মিথ্যাচার বলেছেন খুলনা আওয়ামী লীগ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের সামনে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেকের গণজোয়ার দেখে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী মঞ্জু। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কেসিসিতে বিএনপি সমর্থিত একাধিক কাউন্সিলর তালুকদার আব্দুল খালেকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যে কারণে নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিশ্চিত পরাজয় জেনে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ ও মিথ্যাচার করছে। মহানগর ও জেলা বিএনপির প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার গ্রেফতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের নামে মামলা রয়েছে। তাই তাদেরকে প্রশাসন গ্রেফতার করেছে। নির্বাচনে পুলিশ প্রশাসনের কোন কাজে আওয়ামী হস্তক্ষেপ করছে না। 

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনার রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজি আমিনুল হক, কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য অসিত বরণ বিশ্বাস, ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান হোসেন খান, গুটদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা সরোয়ার প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ