সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ইরান চুক্তি থেকে না সরতে ট্রাম্পকে অনুরোধ জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস

৩ মে, বিবিসি : পরমাণু অস্ত্র অর্জনে ইরানের সক্ষমতা রুখতে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে হওয়া তেহরানের চুক্তি থেকে বেরিয়ে না আসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস।

বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ২০১৫-র চুক্তি সংরক্ষণ করা না গেলে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার বাস্তব ঝুঁকি সৃষ্টি হবে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, জার্মানি ও রাশিয়ার সঙ্গে তিন বছর আগে ওই চুক্তি করেছিল তেহরান। ট্রাম্প শুরু থেকেই বারাক ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা চুক্তির কঠোর বিরোধিতা করে আসছেন। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে থাকবে কি না, ১২ মে-র মধ্যে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গুতেরেস বলছেন, ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির ওই চুক্তি ছিল ‘গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিজয়’। চুক্তিটি বহাল রাখা উচিত হবে বলেও মন্তব্য জাতিসংঘ মহাসচিবের।

 “যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো কোনো বিকল্প না পাচ্ছি ততক্ষণ পর্যন্ত এটি বাতিল করা উচিত হবে না আমাদের। (তা না হলে) বিপজ্জনক সময়ের মুখোমুখি হব আমরা,” বলেছেন তিনি। তেহরানের ‘গোপন পারমাণবিক কর্মসূচির নথি উন্মোচনে’ ইসরায়েলের দাবির কয়েকদিনের মধ্যেই গুতেরেস ইরান পরমাণু চুক্তির পক্ষে নিজের এ অবস্থান ব্যক্ত করলেন। চুক্তির আড়ালে ইরান এখনো পারমাণবিক কর্মসূচির ‘জ্ঞান অর্জন’ করে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ তেল আবিবের। ইসরায়েলের অভিযোগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নতুন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ওবামা আমলে হওয়া চুক্তি যে ‘মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত’হয়েছিল, তেল আবিবের উন্মোচিত নথিই তার প্রমাণ। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তিন ইউরোপীয় মিত্র ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানি বর্তমান চুক্তিতেই অটল থাকার পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত ওই ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশানের’ (জেসিপিওএ) আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে তেহরান। মজুদ থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের পরিমাণ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে প্রয়োজনীয় মাত্রার নিচে নামিয়ে আনার শর্তেও রাজি হয়েছিল দেশটি। চুক্তির পরপরই ইরান তাদের নাতাঞ্জ ও ফোরদো কেন্দ্রে স্থাপিত সেন্ট্রিফিউজের সংখ্যা কমিয়ে আনে এবং স্বল্প-সমৃদ্ধ টন টন ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় পাঠিয়ে দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ