বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিতর্ক সত্ত্বেও উচ্চমূল্যে ইভিএম মেশিন কিনছে ইসি, প্রতি পিস ২ লাখ টাকা

মিয়া হোসেন : বির্তক সত্ত্বেও উচ্চমূল্যে নতুন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতি পিস ইভিএম মেশিনের দাম পড়বে প্রায় দুই লাখ টাকা। বিগত ২০১০ সালে ব্যবহৃত ইভিএম মেশিনের মূল্যের চেয়ে প্রায় চারগুণ দাম পড়ছে নতুন ইভিএম মেশিনের। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বির্তক রয়েছে। এর আগে হুদা কমিশন ইভিএম মেশিন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু সমালোচনার কারণে তা থেকে পিছিয়ে এসেছে। এখন আবার বর্তমান নির্বাচন কমিশন এ মেশিন ব্যবহার করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।
সূত্রমতে, ২০১০ সালে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন  ইভিএম মেশি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু এ পদ্ধতি ত্রুটিমুক্ত না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে। বিএনপিসহ বিশ দলীয় জোটের সকল দলই ইভিএম মেশিন ব্যবহারের বিপক্ষে। গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইভিএম মেশিন ব্যবহার না করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু ইসি বিএনপির এ দাবি আমলে না নিয়ে ইভিএম ব্যহার করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য নতুন করে আড়াই হাজার মেশিন কেনা হচ্ছে উচ্চমূল্যে। প্রতিটি মেশিনের দাম পড়ছে ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকার মতো।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হায়দার আলী জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির (বিএমটিএফ) মাধ্যমেই বিদেশ থেকে আমদানি করা যন্ত্রাংশ নিয়ে উন্নত প্রযুক্তির ইভিএম তৈরি হচ্ছে।
দামের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনা করলেও প্রতিটি ইভিএমের দাম ৩ হাজার ডলার পড়ত। আমরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, তার চেয়ে কম দামে প্রায় ২৪০০ মার্কিন ডলার ব্যয় হচ্ছে। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি ইভিএমের দাম ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকার মতো পড়ছে বলে জানান এই অধ্যাপক।
ইসির হাতে এক হাজার ২০০টির বেশি পুরনো ইভিএম রয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহায়তায় প্রথমে ১৩০টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৪০০টি এবং সর্বশেষ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সহযোগিতায় আরও ৭০০ ইভিএম পায় ইসি। ওই সময় প্রতিটি ইভিএমে ৪৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছিল বলে জানান ইসি কর্মকর্তারা।
গত বছর থেকে বিএমটিএফকে নিয়ে নতুন ইভিএমের যাত্রা শুরু হয়। রংপুর সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পর গাজীপুর ও খুলনা সিটিতে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যবহারের কথা হচ্ছে। এখনও কেন্দ্র চূড়ান্ত করেনি ইসি।
ইভিএম সংগ্রহে দরপত্র ও মূল্যায়ন কমিটি ১৬ এপ্রিল ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মো. রফিকুল হক সর্বশেষ ‘আপগ্রেডেড ইভিএম’ সংগ্রহে দর প্রস্তাব পাঠাতে বিএমটিএফ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দেন।
তাতে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে বিএমটিএফ থেকে ইসি ৭০০ ইভিএম নিয়েছে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে ইসির চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মানোন্নয়ন করে ইভিএমগুলো সরবরাহ করা হয়। গত ২১ ডিসেম্বরে রংপুর সিটি নির্বাচনে এ ইভিএম পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের মাধ্যমে অত্যন্ত সফল হয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি কমিশনের চাহিদা মতো আরও উন্নতমানের ইভিএম সরবরাহ করে বিএমটিএফ, যা পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন নির্বাচনে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন, ভোটার এডুকেশন ও প্রশিক্ষণ কাজে ব্যবহারের জন্য সর্বশেষ আপগ্রেডেট ৫৩৫ সেট ইভিএম প্রাথমিকভাবে সরবরাহের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেন এনআইডি উইংয়ের সিস্টেম ম্যানেজার।
ইসি সচিবের সভাপতিত্বে এ দরপত্র/প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হলেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, এনআইডি উইং মহাপরিচালক, ইসির একজন যুগ্মসচিব, ঢাবির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি। এনআইডি উইংয়ের সিস্টেম ম্যানেজার হলেন কমিটির সদস্য সচিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ