বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত রাশিয়া ও চীনের সমর্থন

* আন্তর্জাতিক আইন মেনে তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব
* কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সব ডাটা ও ছবি সরকারের কাছে আছে
* সমোঝতার মাধ্যমে প্রেস রিলিজ দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি হবে
* বাস দুর্ঘটনায় হাত গেল কান্নাকাটি করছেন কিন্তু সে নিয়ম মানেনি তা তো বলছেন না

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারেক রহমান একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামী সেটি ভুলে গেলে চলবে না। দুই-দুইটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে সে বিদেশের মাটিতে অবস্থান করছে। ব্রিটিশ সরকারের সাথে আমাদের আলোচনা চলছে।
 শেখ হাসিনা বলেন, এর আগেও আমরা বিভিন্ন দেশ থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের ফিরিয়ে এনেছি। তাই তারেক রহমান যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত আসামী তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন মেনে তারেককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব।
গতকাল বুধবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেন। সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে ওই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন এবং তিনি সেই প্রশ্নের জবাব দেন।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ বিদেশের মাটিতে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে তাকে পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। তারপর একটি ট্রাবল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয় এবং সেটিতে লেখা থাকে পাসপোর্ট জমা দেওয়া লোককে কখনও নিজের দেশে ফিরতে হবে না। আর যদি সে নিজ দেশে ফিরে আসতে চায় তাহলে তার আর রাজনৈতিক আশ্রয় থাকবে না।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, বিএনপিতে কি একজন নেতা খুঁজে পেল না। তারা  এতো বড় রাজনৈতিক দল। তাহলে কেন একজন পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে (তারেক রহমান) দলের চেয়ারপারসন বানাতে হবে? এটাতো রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছু নয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে কোটা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ছাত্ররা দাবি করেছে, সেটি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন হা-হুতাশের কী আছে?’ তিনি বলেন, কোটা সংস্কার ছাত্রদের বিষয় না। এটা সরকারের নীতিনির্ধারণী বিষয়। ছাত্ররা কোটা ব্যবস্থা বাতিল চেয়েছে, বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সেটা নিয়ে এখন প্রশ্ন আনার দরকার কী?
 শেখ হাসিনা বলেন, জেলা কোটাও বাতিল হয়ে গেছে। এখন পিছিয়ে পড়া বলে কেউ অভিযোগ করতে পারবে না। আন্দোলনের সময় অনেকের ছবি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, এখন কেউ এসে পিছিয়ে পড়া হিসেবে চাকরি না পাওয়ার অভিযোগ করতেও পারবে না।
 কোটা সংস্কার আন্দোলনে যারা সক্রিয় ছিল, তাদের সব ডাটা ও ছবি সরকারের কাছে রয়েছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদের সব ডাটা তো আছে, ছবি আছে। তারা যদি পরে চাকরি না পেয়ে জেলা কোটার জন্য কান্নাকাটি করে তাতে আমার কিছু করার থাকবে না
 শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রছাত্রীরা কোটা চায় না বলেই সেটি বাতিল করে দিয়েছি। এখানে ক্ষোভের তো কোনো কারণ নেই। ছাত্রদের দাবি ছিল কোটা চায় না। তাই আমরা বাতিল করেছি।
 শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হলেও ৭৫ পরবর্তী কতজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি চাকরি পেয়েছে? তখন তো জিয়াউর রহমানের সরকারের ভয়ে কেউ মুক্তিযোদ্ধা কথাটি লিখত না। কারণ তখন তো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নয় স্বাধীনতাবিরোধীদের সরকার ক্ষমতায় ছিল।
 কোটা সংস্কার আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়ে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘এ কয় দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বন্ধ। পরীক্ষা বন্ধ হলো। রাস্তায় যানজট। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। মানুষ কষ্টে থাকবে কেন। কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নেই। আমি কেবিনেট সেক্রেটারিকে বলেই দিয়েছি, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিতে।’
প্রধানমন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, ‘দুঃখ পেলাম কোটা সংস্কার নিয়ে করা আন্দোলনে। আন্দোলন কী? লেখাপড়া বন্ধ করে রাস্তায় বসে থাকা? হাসপাতালে যেতে পারছে না মানুষ।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরাই করেছি। কিন্তু এখন গুজব ছড়ানো হচ্ছে এসব দিয়ে।’
ছাত্র নিহত হয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যা গুজব ছড়ানোর স্ট্যাটাস কে দিল? অঘটন ঘটলে দায়িত্ব কে নিত?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী এখন অনেক এগিয়ে গেছে। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে ১০ ভাগ কোটা সেটা জাতির পিতা ঠিক করে দিয়েছিলেন। শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারীকে যদি অর্থ ও শিক্ষায় উন্নত করতে না পারি তবে দেশ উন্নত হতে পারে না।
ছাত্রলীগের সম্মেলন নিয়ে এক প্রশ্নে  তিনি বলেন, ছাত্রলীগ যেভাবে হওয়ার সেভাবে হবে। এর জন্য প্রস্তাব ফর্ম ছাড়া হয়েছে। যদি সমঝোতা হয় তবে প্রেস রিলিজ দিয়ে হবে। না হলে ভোটের মাধ্যমে হবে। আমরা দেখতে চাই মেধাবীরা যেন নেতৃত্বে আসে।
ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে তার দল সর্ব প্রথম স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটের পদ্ধতি চালু করেছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রলীগের কনফারেন্স যেভাবে হওয়ার হবে। ইতোমধ্যে কে কে প্রার্থী হবেন, তার জন্য ফরম ছাড়া হয়েছে। আমাদের একটি নিয়ম আছে। এরপর সবাইকে নিয়ে বসা হয়। সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। যদি সমঝোতা না হয় তাহলে ভোট হয়। যদি সমঝোতা করে নেওয়া যায়, তাহলে প্রেস রিলিজ দিয়েই হবে। আর যদি না হয় তাহলে ভোট হবে। ছাত্রলীগে ইয়ং ছেলেপুলে, তাদের মধ্যে অন্যরকম উদ্দীপনা থাকে। আবার ভোটের কিছু ভালো আছে, আবার মন্দও আছে। এটাও দেখতে হবে।’
ছাত্রলীগে মেধাবী নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা চাই উপযুক্ত নেতৃত্ব এবং ছাত্র, যাদের একটি বয়সসীমার বাধা আছে। এই বয়সসীমার মধ্যে সত্যিকার যে ছাত্র ও মেধাবী, তারা যেন নেতৃত্বে আসে সেটাই আমরা চাই। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করবো। যদি দেখা যায় যে, ভোটের মধ্যে উল্টাপাল্টা আসে, সেটা নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা নিশ্চয়ই মাথায় রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য সফর একটি সফল কূটনৈতিক সফর। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য বিদেশিদের আমন্ত্রণ জানাই। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় ভূয়সি প্রশংসা করা হয়।  তিনি বলেন, আমি ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি। বাংলাদেশের নারীসহ বিশ্বে সকল নারী সমাজকে উৎসর্গ করেছি এটি।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আমাদের দেশে এসেছেন, তাদের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক, তারাও চান মিয়ানমার থেকে যে ১১ লাখ মানুষ এসেছে, তারা সেখানে ফিরে যাক। বাংলাদেশ যে এতগুলো মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে, তাদের খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে, তারা তার ভূয়সি প্রশংসা করেছে। আমরা আশা করছি, তারা মিয়ানমারকে চাপ দেবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন,  গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ইস্যুতে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারত, রাশিয়া ও চীনের সমর্থনও বাংলাদেশ পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে যেতে এই দেশগুলোও বাংলাদেশের পাশে থাকবে ।
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ১৬ কোটি মানুষের দেশ এবং ছোট্ট একটা ভূখন্ড। তারপরও এতগুলো মানুষকে যে আমরা আশ্রয় দিয়েছি, তাদের জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সবধরনের ব্যবস্থা করেছি, সেটার জন্য তারা ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কারণ, এত অল্প সময়ে এত লোকের ব্যবস্থা, পৃথিবীর অনেক দেশই পারে না। কিন্তু বাংলাদেশ তা পেরেছে। সেই ক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে যথেষ্ট সমর্থন জানিয়েছে, সাধুবাদ জানিয়েছে, সেই সঙ্গে সঙ্গে তারা মিয়ানমারের ওপর যথেষ্ট চাপ দেবে যেন তারা তাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু সামনে বর্ষাকাল। আমাদের দেশে বন্যা, ঝড়, বৃষ্টি, কালবৈশাখী হচ্ছে। এই যে মানুষগুলো বসবাস করছে ক্যাম্পে, এটা অত্যন্ত কষ্টকর। আমাদের প্রায়ই ভূমিধস  হয়, এটাও তো সমস্যা, আমাদের নরম মাটি। এজন্য তাদের জন্য ভাসানচরে বসতির ব্যবস্থা করছি। আগামী বর্ষার আগেই যারা পাহাড়ে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়  বাস করছে, তাদেরকে সেখানে সরিয়ে নিতে পারব।
দুর্ঘটনার জন্য শুধু গাড়িচালকদের দোষ না দিয়ে পথচারীদেরও সড়কের নিয়মগুলো মানার উপর জোর দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পথচারীরা যেন নিয়ম জানে ও মানে, সেজন্য জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহায়তা চেয়েছেন তিনি। দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িচালককে না পিটিয়ে আইনের হাতে সোপর্দ করতেও বলেছেন তিনি।
ঢাকার সড়কে ট্রাফিক আইন না মেনে পথচারীদের পারাপারের বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার এই কথাগুলো অনেকে পছন্দ করবেন না, কিন্তু যা বাস্তব, তাই বলছি। রাস্তায় চলার নিয়ম আছে, সেটা আমরা কতটা মানি? একটা গাড়ি দ্রুতগতিতে আসছে, আমরা হাত একটা তুলে রাস্তায় নেমে গেলাম যারা পথচারী, তাদেরও কিছু রুলস জানা দরকার, মানা দরকার।
 শেখ হাসিনা বলেন, আপনি বাসে চড়ে যাচ্ছেন, কেন আপনি হাত বের করে যাবেন ? আপনারা (সাংবাদিক) যার হাত গেল, তার জন্য কান্নাকাটি করছেন; কিন্তু সে যে নিয়ম মানছে না, সে কথা তো বলছেন না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির আসার ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, এটা হচ্ছে গণতন্ত্র। কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি করবে না- এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্ত তো আমি আর চাপিয়ে দিতে পারি না। বলতে পারি না, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে। নির্বাচন করবে, না করলে ধরে নিয়ে জেলে দিবো- এটা তো বলতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের ইলেকশনে তারা আসে নাই। তারা নির্বাচন ঠেকাতে চেষ্টা করেছে। কে ইলেকশনে আসবে, না আসবে, সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করে। আর ইলেকশনে জেতাটা আমি জনগণের ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকবে, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। আর আমরা আবার ক্ষমতায় আসবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে অবশ্যই নির্বাচন হলেই আমরা জয়ী হবো। নিশ্চয়ই এটা আশাও করি। আর এত উন্নয়ন করার পর জনগণ যদি ভোট না দেয়, আর যদি না আসতে পারি..... আর আমরা না আসলে যে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যায় সেটা তো আপনারা দেখেছেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আমরা যে উন্নয়ন করেছিলাম, সেটা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০০১ বিএনপি আসার পর থেকে। সেটা তো সবাই জানেন। কাজেই ওইভাবে বাংলাদেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে না চাইলে নিশ্চয়ই মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বলছে, তাদের নেত্রী মুক্ত না হলে তারা ইলেকশন করবে না। তাদের নেত্রীকে তো আমি জেলে পাঠাই নাই। আমি যদি জেলে পাঠাতাম, রাজনৈতিক কারণে পাঠাতে পারতাম । ২০১৪, ২০১৫, ২০১৬ সালে যখন পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করছিল, নিজেকেই নিজেকে একটা অফিস রুমে অন্তরীণ করলো, ৬৮ জন লোক নিয়ে একবাড়ির মধ্যে। সেখান থেকে হুকুম দিয়ে দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে যখন হত্যা করলো, তখনই আমি তাকে গ্রেপ্তার করতে পারতাম। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে তা করতে চাইনি।’
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর খালেদা জিয়ার বাসায় তাদের দেখতে গিয়েও ঢুকতে না দেয়ার ঘটনা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তার ছেলে মারা গেল। আমি দেখতে গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে ঢুকতে দিলো না। অন্য কোনো দেশ হলে কী করত? ওই দরজার বাইরে দিয়ে আরকেটা তালা দিয়ে দিতাম, যাতে ওখান থেকে কেউ আর বেরুতেই না পারে। হ্যাঁ, সেটা করতে পারতাম ইচ্ছে করলে। আমি যখন ঢুকতে পারবো না, তোমরা বেরুতেও পারবো না। সে তালাও আমি দিয়ে দিতে পারতাম। আমরা কিন্তু তাও করি নাই।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘১০টা বছর মামলা চলেছে। ১৫২ কি ১৫৪ বার সময় নিয়েছে। তিন বার কোর্ট বদল হয়েছে। ২২ বার রিট হয়েছে। তারপরও বিএনপির এত বড় বড় ল’ইয়ার, কত বড় বড় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ল’ইয়াররা; তারা কিছুতেই প্রমাণ করতে পারল না, খালেদা জিয়া ওই এতিম খানার নামে টাকা এনে দুর্নীতি করে নাই। তারা তো প্রমাণ করতে পারে নাই। এখন কোর্ট রায় দিয়েছে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করলে তো কিছু হবে না। যখন আইনগতভাবে কারাগারে গেছে, তখন আইনগভাবে ফাইট করে রেব করতে হবে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করে কী লাভ হবে?’
বরং আমি একটি অন্যায় কাজ করেছি। একজন নিরাপরাধ মানুষ, ফাতেমা বেগম। তার এখন মেইড সারভেন্ট লাগবে। আপনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোন আসামিকে কবে, কে, কোন দেশে মেইড সারভেন্ট সাপ্লাই দিয়েছে। তার সেই দাবিও মেনে নিয়ে আমার হোম মিনিস্টার দয়াবশত মেইড সারভেন্ট পর্যন্ত সাথে দিয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এত সোচ্চার, তবে একজন নিরাপরাধ মানুষ কেন খামোখা জেল খাটবে, তা নিয়ে তারা সোচ্চার হয়নি। তারপরও যদি একটা ভালো বেতন দিত, তাও না। কত বেতন দেয়, সেটা জিজ্ঞাসা করে দেখেন, আমি আর বলতে চাই না। একটা নিরাপরাধ মানুষকেও কিন্তু জেল খাটতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার কারণে। যদিও আমাদের এখানে কোনো মানবাধিকার সংস্থা এটা নিয়ে একটা টু শব্দও করে না। বিনা বিচারে, বিনা সাজায়, বিনা কারণে কেন একজন মহিলা জেল খাটবেন, এটা আমাকে বলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ