সোমবার ২৫ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

বিজেপি থেকে বেটি বাঁচাও  ----------রাহুল গান্ধী

২৪ এপ্রিল, আনন্দবাজার : ভারতে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি)-র ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ বদলে পাল্টা স্লোগান দিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। গত সোমবার তিনি এই স্লোগান বদলে ‘বিজেপি থেকে বেটি বাঁচাও’ নামে নতুন স্লোগান দেন। কাঠুয়া, উন্নাও, সুরাতসহ ধর্ষণের একের পর এক ঘটনায় যখন তোলপাড় গোটা ভারত, তখন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ-র প্রধান শরিক দল বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এভাবেই তীর বিঁধালেন রাহুল। বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের হাত থেকে দেশের নারীদের সম্মান বাঁচানোর স্লোগান দিয়েই থেমে থাকেননি রাহুল।

তিনি আরো বলেছেন, দলীয় রাজনীতির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতো দেশের সবকটি প্রতিষ্ঠানকেও নষ্ট করছে বিজেপি। আরএসএসের মতাদর্শ ছড়াতে গিয়ে খর্ব করছে সাংবিধানিক অধিকার। কংগ্রেস সভাপতির অভিযোগ, দলিত, সংখ্যালঘু ও নারীদের উন্নয়নে আদৌ আগ্রহ নেই প্রধানমন্ত্রী মোদির। কৃষকরা যাতে ফসলের ন্যায্য দাম পান বা নাগরিকদের জন্য কীভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, সেসব নিয়ে চিন্তা-ভাবনার সময় নেই প্রধানমন্ত্রীর। উনার সব ভাবনাচিন্তা ওই প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়েই।

দলের ‘সেভ দ্য কনস্টিটিউশন’ (সংবিধান বাঁচাও) কর্মসূচির উদ্বোধন করে গত সোমবার কংগ্রেস সভাপতি বিজেপি-কে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি স্লোগান দেয় ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’। কিন্তু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্ষণের একের পর এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন ‘বিজেপির হাত থেকে বেটি বাঁচাও’ বা ‘বিজেপি বিধায়কদের হাত থেকে বেটি বাঁচাও’-এর মতো স্লোগান খুব প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে!’

রাহুলের ওই মন্তব্যের লক্ষ্য ছিলেন কাশ্মির মন্ত্রিসভা থেকে সদ্য ইস্তফা দেয়া দুই বিজেপি মন্ত্রী, যারা কাঠুয়ায় শিশু ধর্ষণের অপরাধীদের দীর্ঘ দিন ধরে আড়াল করে চলছিলেন। দলিতদের সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী মোদির মন্তব্য নিয়েও এ দিন কটাক্ষ করতে পিছপা হননি কংগ্রেস সভাপতিরাহুলের কথায়, ‘মোদিজি বলেছেন, যারা মলমূত্র ও আবর্জনা পরিষ্কার করেন, তারা চাইলেই সেই কাজ বন্ধ করে দিতে পারতেন। কিন্তু তারা সেটা করেননি। কারণ, ওই কাজটাই ওদের আত্মাকে খুশি রাখে, সন্তুষ্ট রাখে। এমনটা যিনি ভাবেন, তিনি দলিতদের উন্নয়নে কতটা আগ্রহী হতে পারেন? এটা আসলে আরএসএসের মতাদর্শ।’

রাহুলের অভিযোগ, মোদি জমানায় এমন লোকজনেই সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি ভরে গিয়েছে। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে এসব নিয়ে তাকে ১৫ মিনিট বলতে দেয়া হোক, এমন দাবিও জানান কংগ্রেস সভাপতি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ