বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

বিআইডব্লিউটিসি’র খুলনা আঞ্চলিক অফিস ভবন সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

খুলনা অফিস : ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) খুলনা আঞ্চলিক অফিস ভবন সংস্কারে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পলেস্তারা, ছাদ ও দরজা-জানালা সংস্কার কাজ দায়সারাভাবে করা হচ্ছে। ফলে ওই ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তি রক্ষণ, মামলা এবং রকেট পরিচালনা ও অপারেশনে ১৯৭২ সালে নগরীর স্যার ইকবাল রোডস্থ সাবেক ডায়াবেটিক হাসপাতালের উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশনের দ্বিতল বিশিষ্ট খুলনা আঞ্চলিক অফিস ভবন। ভবনের নিচেই ৬টি কক্ষ ও একটি বারান্দা, উপরের তলায় ৫টি কক্ষ ও বারান্দা এবং উপরের তলায় উঠার জন্য ভবনের দক্ষিণ পাশে গা লাগোয়া সিঁড়ি রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এ ভবনটি বেহাল দশায় পরিণত হয়। ফলে প্রতিনিয়ত ছাদ ভেঙে পড়তে থাকে। খসে পড়ে দেয়ালের পলেস্তারা। জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে জানালা ও দরজা। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন সংস্কারে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্পোরেশন ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। যা বাস্তবায়নে টেন্ডার আহ্বান করলে কাজটি পায় ঢাকাস্থ মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তালেব মোড়ল। এরপর ওয়ার্ক অর্ডার শেষে গত ফেব্রুয়ারি মাসে সংস্কার শুরু হয়। যা বর্তমান চলমান। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ভবন সংস্কারে ১৬ লাখ টাকা কোনভাবে লাগার কথা না। কিন্তু এতো বেশি টাকা বারাদ্দ দেয়ার পরও সংস্কারে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। বিশেষ করে পলেস্তারা ও ছাদ সংস্কার দায়সারাভাবে করে রঙ করা হচ্ছে। অনেক জায়গা সংস্কারের বাইরে থেকে যাচ্ছে। দরজা-জানালার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। জোড়া-তালি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। ফলে এস্টিমেট অনুযায়ী ওই ভবন সংস্কার না হওয়ায় স্থায়ীত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, সংস্কার কাজ তদারকির জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুর মান্নান, সদস্য সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক (হিসাব) আব্দুল কালাম। কিন্তু তদারকিতে এ কমিটির রয়েছে চরম উদাসীনতা। ফলে সরকারের মোটা অঙ্কের টাকা ভেস্তে যাচ্ছে। বিআইডব্লিউটিসির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আব্দুর মান্নান বলেন, তদারকি কমিটিতে তাকে রাখা হয়েছে। কিন্তু এস্টিমেটের কপি বা এস্টিমেট অনুযায়ী কী কী কাজ করবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সে ব্যাপারে তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। আর তিনি এ ব্যাপারে অভিজ্ঞ ব্যক্তিও না। ফলে তদারকি করা তার জন্য অনেকটা কঠিন কাজ। মেসার্স তানভীর এন্টারপ্রাইজের মালিক আবু তালেব মোড়ল ঢাকায় অবস্থান করায় তার মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। ঢাকাস্থ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর মুঠোফোনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে ব্যস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ