বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৪০ বছর ধরে হাট বাজারে কবিতার বই বিক্রি করে চলেছে রশিদের সংসার

 

মো. খায়রুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) : তেরোশ পঁয়ষট্রি সালে এ ঘটনা বরিশালে, হয়েছিল পাতার হাট থানায়। সে দেশে এক কৃষক ছিল, গরিব ছিল অতিশয়.....

এরকম হাজারো গদ্য কবিতা পাঠ করে বাজারে বাজারে কবিতার বই বিক্রি করে চলছে আব্দুল রশিদের জীবন। বিগত ৪০ বছর ধরে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদিঘী, ধলাপাড়া, গারোবাজার, সখীপুর উপজেলার বড়চওনা এবং কচুয়া বাজারসহ আশেপাশের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ঘুরে গানের শুরে কবিতা গেয়ে বই বিক্রি করতেন তিনি। কবিতার বই, ছোটদের নানা গল্প আর গজলের বই ছাড়াও বিক্রি করার জন্য রশিদের হাতে থাকতো হিমকুসুম নারিকেল তৈল আর কাঠের চিরনি। ছন্দের তালে তালে গ্রামীন হাট বাজারের মানুষদের আকৃষ্ট করে বই বিক্রি করাই ছিল রশিদের নেশা। কিন্তু ডিজিটাল যুগে অচল প্রায় গ্রাম বাংলার সেই গদ্য কবিতার চাহিদা। 

৭৫ বছর বয়সী এই বইবিক্রেতা আ. রশিদের বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের মধুপুরচালা গ্রামে। ৪ ছেলে মেয়ে ও ৮ নাতি নাতনী নিয়ে রশিদের সংসার। প্রতি শনি এবং মঙ্গলবার সাগরদিঘী বাজারে বই বিক্রি করতে আসেন তিনি। গত শনিবার এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় আ. রশিদের। কবিতা প্রেমী রশিদের সাথে কথা বলার সময় ৪০ বছরের স্মৃতির সাগরে হারিয়ে যান তিনি। তিনি জানান, ৪০ বছর আগে থেকে গদ্য কবিতা, বাউল গান, ছোটদের গল্পের বই এবং ছন্দের বই বিক্রি করে তার সংসার চলে। শাজাহান ও নূরজাহানের প্রেম কাহিনী, মেয়ের সাথে মেয়ের বিয়ে, সতীনের হাতে পাপীয়ার মৃত্যু, লতার প্রেম কাহিনী, মামলার সাক্ষী ময়না পাখিসহ অসংখ্য গদ্য কবিতার পাতা বিক্রি করতেন তিনি।  তিনি আরো জানান, অতীতে বৃষ্টির সময় কাচারী ঘরে বা জোসনা রাতে গ্রামের উঠানে বসে পুঁথি, গদ্য কাবিতা ও কিচ্ছা কাহিনী শোনার আসর বসত কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় এসব কেবল স্মৃতি। 

কালের আবর্তে বিলুপ্ত হয়ে গেছে পুঁথি পাঠ আর গদ্য কবিতার আসর কিন্তু বিলুপ্ত হয়নি কবিতা প্রেমী রশিদের সেই নেশা। তাই এখনো তিনি বাজারে বাজারে শিশুদের বই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রতিদিন বই বিক্রি করে তিনি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা রোজগার করেন।

সাগরদিঘী এলাকার প্রবীণ ব্যবসায়ী সন্তুশ সাহা জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে রশিদ বিভিন্ন কবিতার ছন্দে ছন্দে কাগজ বিক্রি করে মানুষকে আনন্দ দিতেন নিজেও আনন্দ পেতেন। কবিতা প্রিয় আ. রশিদ বলেন, কবিতা, গান আর ছন্দ ছিল আমার প্রাণ। কিন্তু মোবাইলের যুগে কেউ এখন আর কবিতার কাগজ কিনে না। তাই বাধ্য হয়েই এখন শিশুদের বই বিক্রি করে এই পেশাকে ধরে রেখেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ