বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

সীমানা পরিবর্তন নিয়ে রুদ্ধদ্বার শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় সংসদের ৬০টি আসনের সীমানা পুনঃনির্ধাণ সংক্রান্ত শুনানি গতকাল সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ২১ এপ্রিল প্রথম দিনের মতো এদিনও সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি শুনানিতে। রুদ্ধদ্বার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে ইসিতে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশন কার্যালয়ে ৯ জেলার অন্তত ১৩টি আসনের সীমানা সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ নেন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা।
গত ১৪ মার্চ নির্বাচন কমিশন নতুন সীমানার যে খসড়া ঘোষণা করেছিল, তাতে পাল্টে গিয়েছিল ৪০টি সংসদীয় আসনের সীমানা। এর আগে সাতক্ষীরা-৪ আসনে যুক্ত ছিল শ্যামনগর উপজেলা এবং কালিগঞ্জের ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসনটি। কিন্তু সংশোধনী খসড়া অনুযায়ী শ্যামনগর উপজেলা এবং কালিগঞ্জের পুরো উপজেলা যুক্ত করে সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসন বিন্যাস করা হয়। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা-৩ আসনটি কালিগঞ্জের ৪টি ইউনিয়ন বাদ দিয়ে দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা নিয়ে এ আসনটি করা হয়।
এ নিয়ে বিভক্ত সাতক্ষীরা-৪ ও ৩ আসনের জন-প্রতিনিধিরা অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে। তবে, এ দুটি আসনের পূর্বের অবস্থায় বহাল রাখার দাবিতে ৩৮টি অভিযোগ পড়লেও কালিগঞ্জ উপজেলা অখ- রাখার দাবিতে বিপক্ষে ৩টি আবেদন জমা হয়। একপক্ষ বলছেন, কমিশনের সংশোধনীর সিদ্ধান্ত ঠিক: কারণ- সীমানা নির্ধারণ অধ্যাদেশ অনুযায়ী উপজেলাকে বিভক্ত করে একাধিক আসনে দেয়া যায় না। আর দিলেও নানা প্রশাসনিক ঝামেলা তৈরি হয়।
পূর্বের সীমানা বহাল রাখার দাবি জানান সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জের একাংশ) আসনের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দশম জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. আ ফ ম রুহুল হক। তিনি বলেন, উপজেলাকে অখ- রাখতে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। কাকশিয়ালী নদী দিয়ে বিভক্ত কালিগঞ্জের উত্তরের চারটি ইউনিয়ন দেবহাটা ও আশাশুনির সঙ্গে সংযুক্ত। কালিগঞ্জ উপজেলার নদীর দক্ষিণের ৮টি ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভৌগলিক অখ-তা এবং আয়তন সব দিক থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই উপজেলার অখন্ডতার দোয়াই দিয়ে আসন পুনর্বিন্যাস করা ইসির জন্য সমীচীন হয়নি। তাই ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্বাবস্থায় আসনটি পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়েছে ইসির কাছে।
আর সাতক্ষীরা-০৪ আসনের সাবেক জাতীয় পার্টির এমপি এইচ এম গোলাম রেজা নবম ও দশম জাতীয় সংসদের আলোকে পুনর্বহালের জন্য কমিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন তার আসনটি। তিনি বলেন, ২১শ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে রাজধানী ঢাকায় ২০টি সংসদীয় আসন বহাল আছে। আর উপজেলার অখ-তার দোহাই দিয়ে কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-০৪ আসনটি করা হয়েছে। কিন্তু এই আসনটির আয়তন ২৩৪২ বর্গকিলোমিটার যা ঢাকার ২০ আসন থেকেও বেশি। এভাবে কমিশন এই আসনটি বহাল রাখলে জন-দুর্ভোগ বাড়বে।
এরকম নানান যুক্তি আর অভিযোগ নিয়ে গতকাল সোমবার শুনানিতে অংশ নেন যশোর-৪, মাগুরা-১ ও ২, নড়াইল-১ ও ২, খুলনা-৪, সাতক্ষীরা-৩ ও ৪, সিলেট-২ ও ৩, মৌলভীবাজার-২ ও ৪ এবং জামালপুর-৪ আসনের জন-প্রতিনিধিরা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশনাররা আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শুনবেন এই যুক্তি তর্ক। এরপর ৩০ এপ্রিল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য চূড়ান্ত সংসদীয় আসন এর সীমানা বিষয়ে ঘোষণা দেবে নির্বাচন কমিশন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ