বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নাগরিকত্ব নিয়ে বিদেশে বসবাস করছেন -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার : দলের ভারপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পাসপোর্ট জমার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই কথা জানান। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্জলা মিথ্যা কথা বলেছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যদি বাংলাদেশী পাসপোর্ট লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জমা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি প্রদর্শন করুন। হাইকমিশন তো সরকারের অধীনেই, তাদের বলুন সেটি দেখাতে। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, তারেক রহমানের পাসপোর্ট হাইকমিশনে জমার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যে উড়ো ও অবান্তর কথা বলেছেন তার জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমি রাজশাহীরই ছেলে। সেক্ষেত্রে আমি প্রত্যাশা করেছিলাম আমাদের এই অঞ্চলের মানুষ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন একটা কিছু দক্ষতা- যোগ্যতা দেখাবেন। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের যে বিদ্যায়তনের ছাত্র সেই প্রতিষ্ঠান থেকে মিথ্যা কথা বলা শেখানো হয়, রীতিমত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেখান থেকে তিনি কিভাবে শিখবেন? প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন হওয়ার জন্যই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা আত্মা বিক্রির সমতুল্য। যেটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করছেন।
 আমি বলতে চাই, পাসপোর্ট সারেন্ডার করে তারাই যাদের ছেলে মেয়েরা বিদেশীদের বিয়ে করে বিদেশেই নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, বিদেশে বিভিন্ন পদে অধিষ্ঠিত থাকেন। প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকী গর্বের সঙ্গে নিজেকে ব্রিটিশ বলতেই ভালোবাসেন, বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে নয়। আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের সন্তানদেরকে বিদেশীদের সাথে বিয়ে দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করেন।
রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের মাটি, পানি ও জলবায়ু’র সন্তান। সরকারের চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় পরিণতি কী হবে সেটি নিয়ে কোন চিন্তা না করে কিছুদিন আগে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে এসেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দেশনেত্রীর দেশে ফিরে আসার পর তাকে দেয়া হয় সরকারি ফরমানে প্রতিহিংসার সাজা। এখন কারাবন্দী থেকে অমানবিক জুলুম সহ্য করে যাচ্ছেন। অথচ দেশনেত্রী বিদেশে গিয়েও তিনি সেখানে থেকে যাওয়ার চিন্তা করেননি। দেশনেত্রীর এই ভূমিকাই হচ্ছে জাতীয়তাবাদী দেশপ্রেমিকের ভূমিকা। অথচ সেসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক আওয়ামী নেতারাই বলেছিলেন যে, বেগম জিয়া লন্ডন থেকে আর ফিরবেন না। কিন্তু তারা বেগম খালেদা জিয়াকে চিনতে পারেননি। দুর্জয় সাহসে অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক মূর্ত প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথানত করেননি। দেশ থেকে প্যারোলে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেত্রী শেখ হাসিনারই দৃষ্টান্ত।
প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য বিদেশীদের বিয়ে করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিদেশে বসবাস করছেন বলে অভিযোগও করেন তিনি। রিজভী বলেন, জিয়া পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশের মাটি, পানি ও জলবায়ুর সন্তান। জিয়া পরিবারের কেউ বিদেশীদের বিয়ে করেননি। পৃথিবীর কোন দেশে তারা কোন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেননি। তারেক রহমান যিনি অসুস্থবস্থায় লন্ডনে অবস্থান করছেন। তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে ক্ষোভ, ক্ষেদ ও মনের জ্বাল মেটানোর জন্য একেবারে উদগ্রিব হয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের লোকেরা। লন্ডনে গিয়েও অনবরত তার বিরুদ্ধে কথা  বলেছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার সব ব্যবস্থা করবেন ইত্যাদি নানা কথা বলে তিনি চলেছেন।
তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু’র বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, ওই প্রতিবেদনে সরকারের ভাষ্য না নেয়াটা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভুত কাজ হয়েছে। আমি বলতে চাই, সরকারের ভাষ্য নিলে তো সেটি হবে তাদের একতরফা নির্বাচন, একতরফা অপশাসনের মতো একতরফা বাকশালী ভাষ্য। বিশ্বদৃষ্টির সামনে সরকারের রক্তের হোলিখেলা ধরা পড়াতেই তথ্যমন্ত্রী চাকরি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নিয়ে বিকারগ্রস্তের মতো প্রতিক্রিয়া জানালেন।
তথ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যেই প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে দুঃশাসন চলছে, মানবাধিকারশূন্য বাংলাদেশ। বিরুদ্ধ মত দমনে সর্বগ্রাসী নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করা হচ্ছে। আপনার ভাষায় প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজেকে নিজেই বিতর্কিত করেছেন, তাহলো সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলেই প্রধান বিচারপতি বিতর্কিত হয়ে যাবেন ? আর এই কারণেই এস কে সিনহাকে আপনারা সন্ত্রাসী কায়দায় দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি নিজ দেশে নেই কেন? তাকে কিভাবে, কোন কর্মকর্তা অস্ত্র ঠেকিয়ে দেশ থেকে বের করেছিলেন, এটি কিন্তু কারো অজানা নয়। আসন্ন সময়ে সবই প্রকাশিত হবে। বিশ^দৃষ্টির সামনে সরকারের রক্তের হোলিখেলা ধরা পড়াতেই তথ্যমন্ত্রী চাকরি বাঁচাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন নিয়ে বিকারগ্রস্তের মতো প্রতিক্রিয়া জানালেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আতাউর রহমান ঢালী, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম আজাদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ