বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সেনা মোতায়েন করতে হবে -গাজীপুর মেয়র প্রার্থী হাসান সরকার

গাজী খলিলুর রহমান, টঙ্গী থেকে : গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন আসন্ন নির্বাচনে এলাকায় ৭দিন পূর্ব থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনসহ দশ দফা দাবি পেশ করে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের সাথে এক ঘরোয়া মতবিনিময় সভায় তিনি এই দাবি জানান। তা অবশ্যই বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রশাসন, নির্বাচন কমিশনারসহ  সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। হাসান উদ্দিন সরকার বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক্স সংবাদ কর্মীদের সাথে তার টঙ্গীস্থ আউচপাড়া বাসভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, গাসিক নির্বাচনে  বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সনম্বয়ক ও প্রধান নির্বাচন এজেন্ট বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সাইদুল আলম বাবুল, সালাহউদ্দিন সরকার, হালিমুজ্জামান মনি, সোহরাব  উদ্দিন, মাহবুবুল আলম শুক্কুর, এড. শওকত হোসেন সরকার, আবুল হোসেন রানা, নাসির উদ্দিন, হালিমা সুলতানা প্রমুখ।
বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের দশ দফা প্রচারণা হচ্ছে- ১। নির্বাচন কমিশন এবং আইশৃঙ্খলা বাহিনী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক বিএনপি তথা ২০দলীয় ঐক্যজোটের ধানের শীষ প্রতীকের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অহেতুক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী না করা। ৩। নির্বাচনী প্রচারণা সভা, সমাবেশ ও উঠান বৈঠকে সরকারী দলসহ সকল দলের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করা । ৪। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে দৃশ্যমানভাবে নাম ও র‌্যাঙ্ক ব্যাচসহ ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সাদা পোষাকে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। ৫। নির্বাচনী কর্মকর্তা/ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাগণের প্যানেল প্রস্তুতের সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে দল নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্যানেল তৈরি করতে হবে। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্যানেলভুক্ত করা যাবে না। ৬। প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিজাইডিং অফিসারের ক্ষেত্রে নিজ থানা এবং পোলিং অফিসার এর ক্ষেত্রে নিজ ওয়ার্ডে নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া যাবে না। ৭। সকল গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণায় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ও প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশাধিকার প্রদান এবং নিবিঘেœ সংবাদ সংগ্রহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ৮। সাধারণ ভোটারদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি করা। অবৈধ ও কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করা এবং ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশী তাকে দেবো’ এই শ্লোগানকে বাস্তবায়ন করতে পারে সেজন্য সংবাদিক, সুশীল সমাজসহ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। ৯। অতি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ভোটের আগের দিন রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তিকরণ, ভোট ডাকাতি, ব্যালট পেপার ছিনতাই, সশস্ত্র ক্যাডারদের অস্ত্রের মহড়া, ভোট কেন্দ্র দখল করে প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। আসন্ন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেন সেই সব অনাকাঙ্খিত ঘটনার পূণরাবৃত্তি না হয় সেজন্য আমি ও আমার প্রতিদ্বন্দ্বি সকল মেয়র প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন, রিটানিং অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসারদেরকে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। ১০। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দিষ্ট তারিখের ০৭ দিন পূর্ব হতে নির্বাচনী এলাকায় টহলসহ প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।  তিনি প্রশাসন নির্বাচন কমিশনসহ  সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি এ আহ্বান জানান।
পরে তিনি সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ফজলুল হক মিলনও কয়েকটি প্রশ্নের জবাব দেন। সব শেষে মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার সাংবাদিকদের সাথে বসে দুপুরের আহার করেন। সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শুরুর আগে হাসান উদ্দিন সরকার নিজেকে ২০দলীয় ঐক্য জোট ও ধানের শীষ মনোনীত প্রার্থী পরিচয় দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে আধুনিক, বাসযোগ্য ও সন্ত্রাসমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। তিনি আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ করতে গাজীপুরবাসীসহ ভোটারদের এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা কামনা করেন।
জাসদ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার
নৌকাকে সমর্থন
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বাংলাদেশ সমাজ তান্ত্রিক দল (জাসদ) এর মনোনীত মেয়র প্রার্থী  গাজীপুর মহানগর এর  সভাপতি রাশেদুল হাসান রানা সোমবার বিকালে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে ১৪দল সমর্থিত আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমকে সমর্থন দেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জাসদ স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মো: আনোয়ারুল হক,গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক খান সোহেল, মহানগরা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ইলিয়াস আহমেদ,অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন মহি প্রমুখ।
জাহাঙ্গীর আলমের মতবিনিময়: আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম দিনব্যাপী তার বাসভবন সংলগ্ন প্যান্ডেলের ভিতরে গাজীপুর সিটি এলাকায় ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের আহ্বায়ক/যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের নিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনার বিভিন্ন কর্মকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় সিটি এলাকার ৪২৫টি ভোট কেন্দ্রের আহ্বায়ক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব নিয়ে প্রায় দেড় শতাদিক তৃর্ণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এসব ৪২৫টি কমিটির প্রতিটিতে ১০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি স্থানীয় ভোট কেন্দ্র কমিটির সদস্য হিসেবে নৌকা মার্কার প্রচার প্রচারণা ও ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন বলে মতবিনিময় সূত্রে জানা গেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ