বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০
Online Edition

ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে সরকারি দল -কেসিসি মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

খুলনা অফিস : বিএনপি মনোনীত কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সরকার চায় ভোটাররা যেনো ভোট কেন্দ্রে না যায়। রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলো যেনো সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে। গত কয়েকদিনে লক্ষ্য করেছি, শেখ পরিবারের সদস্যরা খুবই কর্মতৎপর ছিলেন খুলনায়। কি একটা মেসেজ তারা দিয়ে গেলেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে গভীর রাতের বৈঠকে। এতে আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এ শহরের মানুষ বিএনপিকে ভালবাসে, ধানের শীষকে ভালবাসে এবং ধানের শীষে ভোট দিতে তারা অভ্যস্ত। সেই শহরের মানুষদের রায়ের প্রতি যাদের আস্থা নাই, তারা কানাগলি খুঁজছেন। শেখ পরিবারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে-এই ছোট-খাটো নির্বাচনে না জড়িয়ে জাতীয়ভাবে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা অসৎ উদ্দেশ্যে তাদেরকে ব্যবহার করতে চায়। তাঁরা যেনো সেই অসৎ উদ্দেশ্যে, অসৎ স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত না হন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেহারা বলছে-কি একটা নির্দেশনা তাদের উপরে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কেএমপি কমিশনারের কাছে এসব বিষয়ে তুলে ধরবো। আমরা চাই কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়; ফলে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে সরকার ভুল করেও হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা শঙ্কিত। গণমাধ্যম পজিটিভ সংবাদ পরিবেশন না করলে ভোটারদের শঙ্কা আরও বাড়তে পারে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কে.ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, মাদার অব ডেমোক্রেসি’ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে চেয়ারপারসনের ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) প্রতীক পেয়ে প্রচার যাত্রার শুরু থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত গণমাধ্যম কর্মীদের জনগণের পাশে থেকে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন তিনি।
প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন যদি অবাধ সুষ্ঠু না হয়; এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়, এটিই হবে সরকারের গলার কাটা। দেশের একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ এবং সারাবিশ্ব। চীন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতও বলেছে একটি অংশ গ্রহণমূলক অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। তাই এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়; তাহলে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। কারণ সরকার যে ভোট ডাকাত, আওয়ামী লীগ যে আগামী নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করবে সেটি প্রমাণিত হবে। একই সাথে নির্বাচন কমিশনের কোমর যে শক্ত; যেটি এই নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হবে। এখানে যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে বিএনপি কর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না। বিএনপি কর্মীরা প্রস্তুতি নিয়েছে ভোট ডাকাতি প্রতিরোধের। ভোটারদের সাথে নিয়ে সেই ডাকাতদের প্রতিরোধ করা হবে ইনশাআল্লাহ্। আমরা কোনভাবেই ভোট ডাকাতি করার সুযোগ দেবো না; এমনভাবেই বিএনপি তৈরি হচ্ছে।
নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেছেন, নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুকের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। তার পরিবারকে হুমকি দেয়া দিয়েছে। একই বাহিনী ১০/১৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে শাসানো হয়েছে, হুমকি দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৩০নং ওয়ার্ডে সাবেক হুইপের ভাই দারা বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেবার হুমকি দিয়েছেন। ৩১নং ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা ওখানে একই হুমকি দিচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে গত পরশুদিন রাত থেকে। ইঙ্গিত বহন করে ওইদিকে যে এসবের নির্দেশনা ময়লাপোতা মোড় থেকে আসছে। গতকাল  (রোববার) যারা ফারুক এবং রাজ্জাকের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল, তারা বলেছেন আমরা ময়লাপোতা মোড় থেকে এসেছি। এটি ইঙ্গিতবহ, আমরা তাদেরকে দায়ী করতে চাই না। ১৫নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির বাড়িতে পুলিশ গিয়েছে।
পুলিশকে আমরা বলেছি, সন্ত্রাসীর তালিকা বানাতে। পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের তালিকা বানিয়ে অভিযান শুরু করেছে। এখানে ডন বাহিনী, কোন বাহিনী, বিভিন্ন বাহিনী আছে। যারা মানুষ হত্যা করেছে। জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, সেখানের ভোটের ফলাফল ছিনতাই হয়েছে। খুলনা শিশু ফাউন্ডেশনের নির্বাচনে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, ভাঙচুর হয়েছে। এই শহরে ভূমিদস্যুতা করেছে, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে পিটিআই মোড়সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মানুষ খুন করেছে। চাঁদাবাজী করেছে, টেন্ডারবাজী করেছে; পুলিশের খাতায় সন্ত্রাসী হিসেবে তাদের নাম নাই। এই শহরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে যারা মিথ্যা ও হয়রানিমূলকভাবে পুলিশের দেয়া সাজানো-পাতানো মামলার আসামী হয়েছে আজকে তাদের তালিকা করা হয়েছে। কেন? যেনো তারা মাঠ ছেড়ে চলে যায় এই সাহসী কর্মীরা। এই শহরের মাদকের প্রসার ঘটার খবর শহরবাসীকে উদ্বিগ্ন করেছে। বিনাভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির দুদকে তলব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেয়া প্রতিবেদন; এ নিয়ে সরকারি দল আবার নতুন প্রচারে নেমেছে। যে প্রচার হাস্যকর।
সংখ্যালঘুদের কথা উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, শীতলাবাড়ীর সামনে একজন পূজারী মহিলাকে প্রকাশ্যে গুলী করে হত্যা করেছে। সেই হত্যাকারীরা আসামীরা গ্রেফতার হয়নি। বিচার হয় নাই। খুলনার হিন্দু সমাজ উদ্বিগ্ন। তাদের অনেকের বাড়ী-ঘর টানা দুই সরকারের শাসনামলে দখল হয়ে গেছে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আমাদের দাবি থাকবে-এইধরণের তালিকা প্রস্তুত না করে সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করুণ। তফসিল ঘোষণার পরেই সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েনসহ নয়দফা স্মারকলিপি দিয়েছিলাম নির্বাচন কমিশনে। যার একটি দফাও নির্বাচন কমিশন বাস্তবায়ন করে নাই। এতে কি বোঝা যায়- বর্তমান সরকারের গড়া নির্বাচন কমিশন কতখানি আজ্ঞাবহ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের এই অপতৎপরতা। সেকারণেই সেনা বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন; তা না হলে জনগণ নিরাপদ থাকবে না। বিএনপি কর্মীরা নিরাপদ থাকবে না, ২০দলের কর্মীরা নিরাপদ থাকবে না। আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের বদলী তদ্বীরে এ শহরে পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিন চাকরি করছেন; তাদের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। অনেকেই এ শহরে বাড়ি-ঘর শুরু করেছেন। এই শহরে আত্মীয়-স্বজন আছেন এ শহরে কাজ করছেন। এই মহানগরী ও জেলায় আধিবাড়ী তারাও এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা বার বার বলেছি-এদেরকে সরিয়ে দিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলুন। আমাদের নয়দফা দাবি বাস্তবায়নের কোন পদক্ষেপ নেয় নাই; আমাদের আশ্বস্ত করে নাই। সেনা মোতায়েনসহ আমাদের নয়দফা দাবি পুনরায় ব্যক্ত করে অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নে সিইসি’র প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সিইসিকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ভোটারদেরকে নিরাপদ রাখুন, ভোটারদের নিরাপদে ভোট দেবার পরিবেশ সৃষ্টি করুন। সেনা মোতায়েন করুন; যে পুলিশ এখানে আছে তাদের প্রতি আমাদের আস্থা নাই, জনগণেরও আস্থা নাই পুলিশের প্রতি। হাত-পা গুটিয়ে আমাদের একটি সংঘাতময় পরিবেশের দিকে ঠেলে দিলে কিন্তু জনগণ ক্ষমা করবে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় জনগণের নিরাপত্তা জন্যই পুলিশ। কারো ইচ্ছা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ বাধ্য নয়।’
সরকারি দল একটি প্রচার করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ভোটারদের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করতে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবার দরকার নাই বলে প্রচার করছে। ভোট কেন্দ্রে নাকি গন্ডগোল হবে? ভোটারদের ভোট কেন্দ্রমুখী থেকে ফিরিয়ে দেবার আওয়ামী চক্রান্ত শুরু হয়েছে। এ চক্রান্ত সফল হবে না ইনশাআল্লাহ্। সোনালী জুটমিলের সভা শেষের পর সিবিএ সভাপতিকে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। যাতে কেউ আমাদের মিটিং করতে মিলনায়তন ও হোটেল ভাড়া না দেয় সে জন্য বাঁধা দেয়া হচ্ছে। ক্রিসেন্ট জুটমিলে আমাদের মিটিংয়ের জন্য ভাড়া দেবার পরও সভার একঘন্টা আগে তারা বরাদ্দ বাতিল করেছে।
আওয়ামী লীগের একজন উচ্চ নেতা বলেছেন, হালারা যেনো মিটিং করতে না পারে। এটা কিসের আলামত? কথা বলতে না দেবার অধিকার কি তাদের আছে? এটা কি তাদের গণতন্ত্রের মানষকণ্যার দল কি এ রকম গণতন্ত্র চালু করবে? বিএনপি তো সে জন্যই বলছে-আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রেখে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশের কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। ওবায়দুল কাদের যতোই মিটমিট করে হাসুক না কেনো, ও ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না। শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে বিএনপি কোন জাতীয় নির্বাচনে যাবে না, যাবে না।’
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি এডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, আব্দুল জলিল খান কালাম, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, এস এ রহমান, মো. ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এহতেশামুল হক শাওন ও শামসুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ।
খুলনাবাসীকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ধানেরশীষে ভোট দেবার প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ