শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্ব শেখ হাসিনা  সহ্য করতে পারছেন না -----বিএনপি

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে এতো দমন-পীড়ন করছি, নেতাকর্মীদের এতো নির্যাতন করছি, তারপরও বিএনপি এতো ঐক্যবদ্ধ। লন্ডন থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এগুলো শেখ হাসিনা আর সহ্য করতে পারছেন না। তাই তিনি ক্ষতবিক্ষত হয়ে এখন আর্তনাদ করছেন। তিনি আরো বলেন, জনগণের টাকায় অস্ত্র কিনে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে বলে দেয়া হয়েছে ভরে রাখতে। মিছিল দেখলেই গুলী করবে। একটা নির্দয় সরকারের দুঃশাসন চলছে বলেই এটা বলা সম্ভব।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্রহীনতা বনাম জবাবদিহিতা’ শীর্ষক তরুণ প্রজন্মের সাথে মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। ফিউচার অফ বাংলাদেশ নামক সংগঠনের উদ্যোগে এই সভা হয়।

রিজভী বলেন, দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। এখানে রাতের অন্ধকারে যে কোনো যুবক অদৃশ্য হয়ে যায়। গুম করা হয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের তিনজনকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে লন্ডনে সাংবাদিকরা প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে এড়িয়ে গিয়েছেন। উত্তর দেননি। বলেছেন তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনা হবে। এখানেই তো তার জ্বালা, এখানেই তো তার ভয় ও বিদ্বেষ। আসলে দেশে ভয়ঙ্কর দুঃশাসন চলছে। গণতন্ত্র থাকলে আইনের শাসন থাকবে। খালেদা জিয়ার কোনো দোষ নেই, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসার কারণে আজ তাকে জেলে আটকিয়ে রেখেছেন।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, সরকার প্রধান বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্ট গঠন করেছেন। সেই পার্লামেন্টের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি এতো অহঙ্কার করেন। একে ধমকান তাকে ধমকান। বিরোধী পক্ষকে দেখে নেবেন বলেন। কিভাবে তারেক রহমানকে লন্ডন থেকে আনবেন এসব বলে বেড়ান।

রিজভী বলেন, লন্ডনকে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীণ ও গণতন্ত্রের আঁতুড়ঘর। সেখান থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু আপনার দেশে যে মানবাধিকার নেই, নাগরিক অধিকার নেই, গণতন্ত্র নেই।

তিনি বলেন, মিসরের সিসির কথা শুনেছেন। হাসিনার মতো একতরফা নির্বাচন করে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। সেখানেও উন্নয়ন হয়। মেগা প্রজেক্ট হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা পায় না। স্ত্রীর থেকে, ছেলে-মেয়ের কাছ থেকে দূরে কোনো নালায় লাশ পড়ে থাকবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের টাকায় অস্ত্র কিনে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনকে বলে দেয়া হয়েছে ভরে রাখতে। মিছিল দেখলেই গুলী করবে। একটা নির্দয় সরকারের দুঃশাসন চলছে বলেই এটা বলা সম্ভব। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে টালবাহানা করছে। তিনি চাইছেন ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা হোক। কিন্তু সরকার সেটা দেবে না।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, শেখ হাসিনার সময় আছে আর মাত্র ৮ মাস। এরপর তাকে নির্বাচন দিতে হবে। গদি ছাড়তে হবে। জনগণ বুঝে গেছে খালেদা জিয়াকে ছাড়া এই দেশকে বাঁচানোর আর কোনো উপায় নেই।

সংগঠনের সভাপতি এস এম উজ্জ্বলের সভাপতিত্বে ও সাজ্জাতুল হানিফের পরিচালনায় মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, সংগঠনটির নেতা মো: ওসমান গনী, মো: হামিদ, খলিলুর রহমান, শামীম চৌধুরী, ওমর ফারুক, রাকিব উদ্দীন, রফিকুল ইসলাম রিপন, আলমগীর হোসেন লাবু, রফিকুল ইসলাম টুটুল, মো. মাহদী হাসান সাদবিন প্রমুখ।

রাজধানীতে রিজভীর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল :

কারান্তরীণ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। 

গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলে যুবদল, স্বেছাসেবকদল ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিতি ছিলেন। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শুরু হয়ে কাকরাইলের নাইট এঙ্গেল মোড় থেকে ঘুরে ফের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ