শুক্রবার ১৪ আগস্ট ২০২০
Online Edition

মানুষের মুক্তির জন্য গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে গেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কথায় কথায় সাজানো নাশকতার মামলা দায়ের করছে। জনগণকে জাগিয়ে তুলতে হবে। শুধু দেশনেত্রীর মুক্তির জন নয় গোটা দেশের মানুষের মুক্তির জন্য গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে।

গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এক প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব বলেন।

সংগঠনের সভাপতি ও আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, গণ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, সহ-প্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকারের বিভিন্ন রোল মডেলে কথা এক ধরনের মিথ্যাচার। নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য হওয়া প্রয়োজন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শুধু দেশেই নন, গোটা বিশ্বের মধ্যে গণতন্ত্রের জন্য জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। এই একটি মানুষ আছেন যাকে কেন্দ্র করে, যার দিকে তাকিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বেঁচে আছে। তাকে (খালেদা জিয়া) ছাড়া আর কারও ওপর আস্থা রাখতে পারছে না মানুষ। এ নেত্রীর মুক্তির জন্য অবিলম্বে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। বিএনপির মতো একটি গণতান্ত্রিক দলের বিরুদ্ধে সারাদেশে ৭৮ হাজার মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৫ লাখের বেশি নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, মানুষের কাছে যাওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। মানুষের কাছে যেতে হবে। মানুষকে নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বলতে দ্বিধা নেই, নিম্ন আদালতের হাকিম সাহেব অপেক্ষা করতে থাকেন উপর থেকে কি নির্দেশ আসবে। এরপর সিদ্ধান্ত দেয়া হয়। উচ্চ আদালতে কিছুটা ভরসা ছিল যে, তারা দেখেন রায়টা ঠিক হচ্ছে কি না। কিন্তু এখন সেটাও দেখা হয় না।

তিনি বলেন, আসুন, আমরা একটি ইস্যুতে একমত হই। সেটা হলো, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চাই। এই ইস্যুতে একটি জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হওয়া প্রয়োজন। যদি সিস্টেমের আন্দোলন না করা হয়, গণতন্ত্রের আন্দোলন না করা হয়, অধিকারের জন্য আন্দোলন না করা হয় তাহলে বিচ্ছিন্ন আন্দোলন করে কোনো লাভ হবে না। 

মির্জ ফখরুল বলেন, যে নীল-নকশায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করা হয়েছিল, সেই অবস্থার এখনো পরিবর্তন হয়নি। আরো ভয়াবহ অবস্থা রয়েছে। আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চাই। আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। সেই নির্বাচন অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হতে হবে। এর বাইয়ে হলে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে পারেন না। তিনি রাগ করে বলেছেন। উনি এটা করতে পারেন না। তার সেই এখতিয়ার নেই। এই ঘোষণাটা সংবিধানের বাইরে। আর ছাত্ররা চেয়েছিল কোটা পদ্ধতির সংস্কার। কিন্তু তিনি সেটা না করে কোটা পদ্ধতি উঠিয়ে দিয়েছেন! জানেন যে, এটা কোর্টে উঠলে আটকে দেয়া হবে। যার ফলে এখন পর্যন্ত গেজেট হয়নি। এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

শওকত মাহমুদ বলেন, সরকার সাজানো নীল নকশা নিয়ে এগুচ্ছে। ২০১৪ সালে নির্বাচন না করার  যে নীল নকশা, আজ সেই অবস্থা ভয়াবহভাবে আছে। এখন দরকার সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। তিনি বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম জিয়াকে মুক্ত করা হবে। বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের নীল নকশা এ দেশের জনগণ কখনোই বাস্তবায়ন হতে দেবে না।

বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, এই ফ্যাসিস্ট সরকার বাংলাদেশকে যে অবস্থায় নিয়ে গেছে সেখান থেকে বের হয়ে আসার জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। জনগণের আন্দোলই পারে বেগম জিয়াকে মুক্ত করতে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের ইষ্পাত কঠিন প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। যে আন্দোলনের ভয়ে ভীত হয়ে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ জেগে উঠেছে। জনগণই একদিন বিচারপতিদেরও বিচার করবে। তিনি আরও বলেন, পুলিশের অনুমতি নিয়ে কোনোদিন সরকার পতনের আন্দোলন হয় না। সরকার পতনের জন্য দরকার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নির্যাতন করে জনগণের মনে ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরও জনগণ সরকারের ভয়ে ভীত নয়। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন দানা বেধে উঠেছে। সরকার জেনে গেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। এমাতাবস্থায় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান বলেন, সম্পূর্ণ ভুয়া মামলায় সাজা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে বর্তমান অবৈধ সরকার জেলের নামে একটি পরিত্যক্ত ভবনে রেখেছে। এটা সংবিধানের ৪৯০ ধারার ব্যাত্যয় ঘটেছে। বেগম জিয়ার সাজা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জামিন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ সরকার অন্যায়ভাবে তাকে আটকে রেখেছে। এছাড়া জামিনের শুনানী ৩ মাস পর করে খালেদা জিয়ার সাথে অবিচার করা হয়েছে।  তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ